ক্ষমতা প্রয়োগ না করে দায় এড়াচ্ছে ইসি

Print

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সহিংসতা ও অনিয়মের মাত্রা কিছুটা কমে এলেও চতুর্থ ধাপে আবার তা লাগামহীন হয়ে পড়েছে বলেই নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু এর দায় নিতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পর্যাপ্ত ক্ষমতার উপযুক্ত প্রয়োগ না করে সহিংসতা ও অনিয়মের দায় তারা চাপাতে চাইছে প্রার্থী ও সমর্থকদের ঘাড়ে। কী কী বাধা বা সমস্যা না থাকলে নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন ভালো করতে পারত—জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে যদি ধৈর্য-সহ্য থাকত, বিষয়টি যদি তারা স্পোর্টিংলি নিতে পারত তাহলে এ নির্বাচন আরো ভালো হতো।’

আগের দিন চতুর্থ ধাপের ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও নির্বাচনে সহিংসতার জন্য প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের নিজেদের মধ্যে হানাহানি না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতার দায় কি নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে? এ বিষয়ে কমিশনকে যে আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা কি যথাযথভাবে সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়েছে?

বিএনপির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বলা হয়েছে, এ নির্বাচন কমিশন ‘নির্বাচন’ শব্দটাকেই নষ্ট করে ফেলেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমরা এখন একটি বিকৃত নির্বাচন দেখছি।’

যদিও ইসির দাবি, বেশির ভাগ ইউপিতেই সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের পক্ষ থেকে ইসিকে বলা হয়েছিল নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনে কেউ মন্ত্রীর প্রার্থী, কেউ সংসদ সদস্যের প্রার্থী থাকেন। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব না থাকলে এবং রাজনৈতিক দল, তাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা সহনশীল আচরণ করলে নির্বাচনের মাঠে সহিংসতা কমে যাবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করার পরামর্শে সাড়া দেয়নি নির্বাচন কমিশন।

ইসি সচিবালয়ের অনেক কর্মকর্তার ধারণা, দলভিত্তিক এ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক না করায় সহিংসতা ও অনিয়মের দায় এককভাবে ইসিকে বহন করতে হচ্ছে। এ নির্বাচনে সহিংসতা মূলত জাতীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক কারণে ঘটলেও ইসি দলগুলোর কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সহযোগিতাও চায়নি।

ইসি সচিবালয় ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো এ বিষয়ে  ইসিকে বারবার প্রস্তাব দিলেও তা উপেক্ষিত থেকেছে। ইসির এ অবস্থানের কারণেই উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো দেশের নির্বাচনব্যবস্থার উন্নয়ন থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায় থেকে ইসির যথাযথ কোনো রিপোর্টিং চ্যানেল নেই। এবারের নির্বাচনে মিডিয়াও আগের মতো তৎপর নেই। পর্যবেক্ষকদেরও দেখা যাচ্ছে না নির্বাচনী মাঠে। গত বছর এপ্রিলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংবাদিকরা নির্যাতন ও লাঞ্ছনার শিকার হন। এর আগে ডিএমপি কমিশনার এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সিটি নির্বাচনে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসির প্রহসনমূলক তদন্তে নির্যাতিত সাংবাদিকরা কোনো প্রতিকারই পাননি। পর্যবেক্ষকদের জন্যও বিভিন্ন বিধিনিষেধ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের নিরুৎসাহ করছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো এ দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে অনাগ্রহী হয়ে পড়ায় পর্যবেক্ষকরাও তহবিল সংকটে রয়েছে। আর নির্বাচনে অনিয়মের জন্য কমিশন যেসব ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তার ফলোআপও নেই।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি ২০১২ সালে জাতীয় সংসদের আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয় ছাড়া দলগুলোর সঙ্গে আর কখনো সংলাপে বসেনি। গত ডিসেম্বরে দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে পৌরসভা নির্বাচন হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ইসির কাছ থেকে সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। এর আগে ইউপি নির্বাচনের বিধিমালা তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারেনি। অন্য সব নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রাখলেও ইউপি নির্বাচনে সে ক্ষমতা নেই। কমিশন স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রেখে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে ক্ষমতার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।

সিইসি গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন শুরুর আগের দিনই বলেছিলেন, রাতেই যাতে ভোট লুট শুরু না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে পুলিশকে তার দায় নিতে হবে। কিন্তু ওই ধাপেই সাতক্ষীরায় কমপক্ষে ১৪টি কেন্দ্রে রাতে ভোট লুটের ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের পোশাক পরেই নৈশকালীন ভোট লুটের ব্যবস্থা করে। কিন্তু ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের এবং সংশ্লিষ্ট ওসিদের বিরুদ্ধে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে নিজেদের নির্দেশনা অগ্রাহ্য হলেও কমিশন নির্বিকার থেকেছে।

প্রথম ধাপের নির্বাচনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়ে সিইসি বলেছিলেন, ‘এবার একসঙ্গে অনেক ইউপিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদেরকে অন্য ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এদের সংখ্যা অনেক। এদের ওপর ইসির সে ধরনের কর্তৃত্ব নেই। এ ছাড়া এখন নির্বাচন অর্থকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এই কালচার পাল্টানো দরকার।’

প্রথম ধাপের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সিইসি বলেছিলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের সংস্কৃতিতে মারামারি দীর্ঘদিনের চর্চা। রাতে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে নির্বাচনী ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম রক্ষা করতে গিয়ে দুই জায়গায় পুলিশ সদস্যরা গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু কিছু স্থানে অনিয়ম হয়েছে, কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ অন্যান্য অনিয়মের খবর মিললেও রাতে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত শনিবার চতুর্থ ধাপে আবার রাতে সিল মারার ঘটনা ঘটে। একটি কেন্দ্রে এ ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশনে টেলিফোনে জানান, উপজেলার জোয়াগ ইউপিতে নোয়াগাঁ দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে রাত ৩টার সময় ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তির কারণে কেন্দ্রটির ভোট বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার ইসিকে জানান, এ উপজেলার মুন্সিরহাট ইউপির যুগিরহাট হোসেনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে রাত ১২টার দিকে প্রিসাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় দুষ্কৃতকারীরা চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ২৯টি ও সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য পদে ৪৮৬টি ব্যালট পেপারে সিল মারে এবং পরে প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

দায়সারা পদক্ষেপ : সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে গত ২১ এপ্রিল গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদসহ জেলার কাপাসিয়া ও শ্রীপুর থানার দুই ওসিকে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় ইসি। কিন্তু ইউপি নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হারুনকে ভোটের পরে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে ওই জেলার এসপি হিসেবে পুনবর্হাল করে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালার ৮৯ বিধি অনুযায়ী কমিশন ডিসি-এসপিসহ তাঁদের অধস্তন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বদলির ক্ষমতা রাখে। নির্বাচন এলাকার ভোটের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিন পর্যন্ত যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদায়ন ও বদলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসপি হারুনের ক্ষেত্রে সে বিধান মানা হয়নি। এই অবহিত না করার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়েছে কমিশন।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালার ৯০ বিধি অনুসারে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে অনিয়মের কারণে যেকোনো নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে। সংসদ সদস্যরা যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইতেন সে এলাকায় এই বিধি প্রয়োগ করে নির্বাচন বন্ধ করে দিত ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের একজনের বাধার কারণে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার একটি ইউপির সব কেন্দ্র দখল হয়ে যাওয়ার পরও এ বিধি প্রয়োগ হয়নি। এ ছাড়া বাগেরহাটসহ অন্যান্য জেলায় একজন মাত্র প্রার্থী থাকার ক্ষেত্রেও এ বিধি প্রয়োগের উৎসাহ দেখায়নি ইসি।

খবর পৌঁছে না কমিশনে : এদিকে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, যেসব কেন্দ্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের পরিস্থিতি থাকে সেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হলে তার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে আসে। কিন্তু সে ধরনের কোনো পরিবেশ নেই। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সুবিধাভোগী সদস্যও প্রভাশালী কোনো প্রার্থীর পক্ষে অনিয়মের আশ্রয় নেন, তখন সে খবর আর নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায় না। ভোটের আগে এবং পরেও নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের স্তূপ এবং তথ্য জমছে নির্বাচন কমিশনে। নির্বাচন বিধিমালায় ৯০ বিধি অনুযায়ী নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইসির। কিন্তু সে ক্ষমতা প্রয়োগে ইসির আগ্রহ নেই।

আলোচিত কিছু পদক্ষেপ : এবারের ইউপি নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের মামলা করতে বরগুনা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় ইসি। আইনানুযায়ী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এর আগে কমিশন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কারণে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ফেনী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছিল। একই দিনে ওই চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ ওই চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে এবং গত ৬ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একই ব্যবস্থা নেওয়া হয় শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভার মেয়র আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ এ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে হুইপ আতিউর রহমান আতিককে নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসি। শেরপুর থানার ওসিকেও প্রত্যাহার করা হয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। ওই এমপির প্রভাব বিস্তারের কারণে বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ইসি।

সরকারি দলের প্রার্থী ছাড়া আর কোনো দল বা স্বতন্ত্র কাউকে প্রার্থী হতে না দেওয়ার অভিযোগে ইসি ফেনীর ফুলগাজীর ছয়টি ও পরশুরামের তিনটি ইউপির নির্বাচন স্থগিত করে।

তৃতীয় ধাপে পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা ও হুমকির কারণে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার ৪৯টি ইউপির ভোট স্থগিত করে ইসি। এসব ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৮টি এবং বিএনপি ২৭টিতে কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে কিছু এলাকায় প্রার্থীরা বাধা পেয়েছেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করে, যাতে এক জায়গায় বাধা পেলেও অন্য জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পথ খোলা থাকে। কিন্তু তাতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘটনা থামছে না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 36 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ