ক্ষমা পাচ্ছে বাংলালিংক!

Print

টেলিযোগাযোগ আইনে অনুমোদন ছাড়া বেস ট্রান্সিভার স্টেশন (বিটিএস) স্থাপনে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান থাকলেও পার পেয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দেশের সীমান্ত এলাকায় ৪৫০টি বিটিএস অবৈধভাবে স্থাপনের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বাংলালিংককে ক্ষমা করে দেওয়া হচ্ছে।
বিটিআরসির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর আগে সীমান্ত এলাকায় অনুমোদনহীন বিটিএস স্থাপন করার পরেও এয়ারটেলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল, তাই বাংলালিংকও ক্ষমার দাবিদার। লেবেল প্লেইন ফিল্ড তৈরি করার জন্য ২০১৩ সালের আগে বাংলালিংকের স্থাপন করা সকল অনুমোদনহীন বিটিএস-এর অনুমোদন দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের পর যেসব বিটিএস স্থাপন করা হয়েছে, সেসবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে। মূলত নিরাপত্তা ইস্যুটি দেখার পরে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
২০১৩ সালের পর সীমান্তে কী পরিমাণ বিটিএস অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের পর দুই রকম ক্যাটাগরি আছে। একটিতে ৪০টি, অন্যটিতে ৪৯ বা ৫৯টির মতো হবে। বাকিগুলো ২০১৩ সালের আগে করা হয়েছে।’
জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ আইনে অনুমোদন ছাড়া বিটিএস বসানোর অপরাধে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই আইনকে উপেক্ষা করে সীমান্ত এলাকায় ৪৫০টি বিটিএস স্থাপন করেছে বাংলালিংক। সীমান্তে বিটিএস স্থাপনে বিটিআরসি ছাড়াও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু তার কোনো কিছুই ধার ধারেনি অপারেটরটি। সম্প্রতি গ্রামীণফোন সীমান্ত এলাকায় বাংলালিংক বিটিএস-এর শেয়ার নিতে বিটিআরসির কাছে অনুমোদন চাইলে বিষয়টি ধরা পড়ে। যদিও এরপর অনুমোদনের জন্য বাংলালিংক বিটিআরসির কাছে আবেদন দিয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালে সদ্য একীভূত হওয়া মোবাইল ফোন অপারেটর এয়ারটেলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। অপারেটরটি দেশের ৮টি জেলায় ভারত-বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুমোদনহীন ১৯১টি অবৈধ বিটিএস স্থাপন করেছিল। অনুমোদন ছাড়া বিটিএস স্থাপনের অপরাধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শেষ পর্যন্ত এয়ারটেলকে ক্ষমা করে দেয় বিটিআরসি। ২০১৩ সালের ১২ জুন কমিশনের ১৫৪তম বৈঠকে এটিকে ‘ক্ষমা সুন্দর’ দৃষ্টিতে নিয়ে ঘটনাত্তোর বা পোস্ট ফ্যাক্ট অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে শাস্তির জায়গায় ভবিষ্যতের জন্য তাদের সতর্ক করা হয়।
২০১৩ সালের মে মাসে ১৫১তম কমিশন বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশন বিভাগের কমিশনার এ টি এম মনিরুল আলম। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘বিটিএস স্থাপন সংক্রান্ত কমিশনের সুস্পস্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কী পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং কমিশনের অনুমোদন ব্যতিরেকে সীমান্তবর্তী বিটিএস স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডকে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত হলো।’
তবে এয়ারটেল তাদের ব্যাখ্যায় জানিয়েছিল, বিটিআরসি’র কঠিন রোল আউট অবলিগেশনের জন্য দ্রুততার সঙ্গে রোল আউট করতে গিয়ে তারা ‘ভুলক্রমে’ বিটিআরসি’র কাছ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করেনি। তাছাড়া অনেক সময় রোল আউটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করে এয়ারটেল। ব্যাখ্যায় এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহবান জানিয়ে অনুমোদন চাইলে বিটিআরসি ক্ষমা করে দেয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 125 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ