কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

Print

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বেশীর ভাগ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বীজতলা, সব্জীবাগান ও রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেশী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন দিনমুজুর, রিক্সা ও ভ্যান চালিয়ে খেটে খাওয়া মানুষগুলো। বৃষ্টির দিনে কোন কাজ না থাকায় বউ বাচ্চা নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিনান্তিপাত করছেন তারা।
বৃষ্টিতে ভিজে জুবুথুবু হয়ে ঠেলা জাল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন নটানপাড় গ্রামের দিন মুজুর ছাইফুল ইসলাম তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কোন কাজ না থাকায় বউ পোলাপান নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন গুজার করছি। তিনি আরো বলেন, কাজ না থাকায় ঠেলা জাল নিয়ে বিলে গেলাম কয়ডা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে চাউল ডাউল কিনে খামু বিলেও মাছ নাই। এহন কি খামু আল্লাই জানেন। উপজেলার ভোলা মোড়ে পলিথিন মোড়া দিয়ে অটো ভ্যানে বসে আছেন শৌলমারী গ্রামের অটো ভ্যান চালক আকিদুল তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন,বৃষ্টির কারনে বিদুৎ থাকেনা অটো চার্জ দিতে পারি না তাছাড়া বৃষ্টির জন্য লোকজন ঘড়ের বাহির হতে চায় না যাত্রী নাই আমাদের রোজগারও নাই খুব কষ্টে দিন পার করতেছি। বৃষ্টির মধ্যেই বসে আছি যদি দু’এটা যাত্রী পাই তো বউ পোলাপানেরর জন্য চাউল ডাউল নিতে পাব সেই আশায়।
মন্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুস ছালাম বলেন, আমি ৩০শতক জমিতে শাক সব্জির চাষ করে ছিলাম। কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে পানি জমে সব নষ্ট হয়েছে গেছে। একই গ্রামের আবুল কালাম বলেন, আমার দুই বিঘা জমির রোপা আমন পানিতে ডুবে গেছে। বাইসপাড়া গ্রামের জব্বার সেখ বলেন, বন্যার সময় খড় সব শেষ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে পানি হওয়ায় ঘাস খড় কিছুই নাই ছাগল গরু নিয়ে খুব বিপাকে আছি। কি যে খাওয়াই ছাগল গরুকে। চিন্তা করতেছি গরু গুলো বেঁচে দিমু।
যে ভাবে প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এবং ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দু’একদিনের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার আশংঙ্কা করছে এলাকার সুধিমহল। আবহাওয়া অফিস বলছে এ অবস্থা আরো দু’একদিন থাকতে পারে।#

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 135 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ