খুনের পর স্বামীর স্ট্যাটাস: ‘বলেছিলাম বাঁচতে দে… জীবন নষ্ট করিস না… এখন বুজো?’

Print

খুনের পর স্বামীর স্ট্যাটাস: ‘বলেছিলাম বাঁচতে দে… জীবন নষ্ট করিস না… এখন বুজো?’

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসার দরজায় সামনে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতের শিকার হন আরিফুন্নেছা আরিফা (২৭) নামে যমুনা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জেসমিন নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘাড়ে বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত জানান, এ ঘটনায় আরিফার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেছেন নিহত আরিফার ভাই আবদুল্লাহ আল আমিন।

তিনি আরও জানান, থানা-পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব ঘটনাটি তদন্ত করছে। ফখরুলকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ১৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) আরিফাকে হত্যা করে তার সাবেক স্বামী ফখরুল ইসলাম রবিন নিজের ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দেন এভাবে “বলেছিলাম বাঁচতে দে… জীবন নষ্ট করিস না… এখন বুজো? অনিক, তানজিনা, শিল্পী, রিয়াদ, পলাশ, মাসুদ দেখা হবে মনে রাখিস।”

এখানে আরিফার দুই ভাই পলাশ ও মাসুদসহ তার খালাতো বোন শিল্পীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তানজিনা, অনিক, রিয়াদের নাম লিখেছে সে। এরাও কেউ বান্ধবী, কেউ আত্মীয় বা বন্ধু। উগ্র মেজাজের রবিন এর মাধ্যমে তাদেরকেও হুমকি দিয়েছে।

আরিফার ভাই আবদুল্লাহ আল আমিন জানান, নিহত আরিফা জামান ওরফে আরিফুন্নেছা আরিফা যমুনা ব্যাংকের পল্টন শাখায় চাকরি করতেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেন্ট্রাল রোড আইডিয়াল কলেজের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রবিন।

নিহত আরিফা জামান ওরফে আরিফুন্নেছা আরিফা  যমুনা ব্যাংকের পল্টন শাখায় চাকরি করতেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেন্ট্রাল রোড আইডিয়াল কলেজের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে রবিন। এ ঘটনা ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করে এলাকায়।

রবিনের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবরে জানা গেছে, জামালপুরের সদর উপজেলার বাসিন্দা এই ঘাতক মাদকাসক্ত এবং উগ্র মেজাজী। তার বাবা বেঁচে নাই। তবে মা আছেন। তার বড় ভাই লেলিন একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।

জামালপুরে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক জ্ঞাতি বোন জানান, আরিফা-রবিনের বিয়েটা ছিল প্রেমঘটিত। তবে বনিবনা না হওয়ায় মাস চারেক আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

নিহত আরিফা জামালপুর সদর উপজেলার আলিমুজ্জামান হেলালের মেয়ে।

নিহতের বান্ধবীর স্বামী ব্যারিস্টার ফিরোজ মোর্শেদ জানান, আরিফা আর রবিন দুজনেই জামালপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। আরিফা পড়তো জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আর রবিন  জামালপুর জিলা স্কুলে। একইসঙ্গে তারা কোচিংও করতো। সে সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু বিয়ের পর রবিনের আচার-আচরণ আরিফাকে হতাশ করে এবং সে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক বান্ধবী বলেন, আরিফা ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিল। আটবছরের প্রেমের সম্পর্কের পর চার বছর আগে রবিন-আরিফা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়।  কিন্তু স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর বনিবনা না হওয়ায় মাস তিনেকের মধ্যে সে বাপের বাড়ি ফিরে যায়। এরপর সে ঢাকায় এসে ফের পড়ালেখা শুরু করে। সে ইডেন থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে।

বছরখানেক আগে আরিফা যমুনা ব্যাংকে চাকরিতে যোগ দেয়। ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে আইডিয়াল কলেজের পাশের এক বাসায় সাবলেট থাকা শুরু করে। এর মাঝে আরিফা আর রবিন একবার নিজেদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে। তবে তা সফল হয়নি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 420 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ