খেলাধূলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আরেক নাম তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমীন

Print

জে.জে চৌধূরীঃ এই দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার-টেক । এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হলেন ক্রীড়া প্রেমী তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমীন । বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও ব্যবসা জগতে আলোচিত নাম তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ২০১৫ সাল থেকে তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন আর সাইফ পাওয়ার-টেকের নাম দেশের প্রায় সবাই চিনে গেছে। ৫১ বছর বয়সী তরফদার রুহুল আমিনের ব্যবসায় জগতে পদার্পণ ২৫ বছর ধরে হলেও , তিনি সার্বজনীন পরিচিতি পেয়েছেন ২০১৫ সাল থেকে । আর সেটাও ক্রীড়াঙ্গনের সাথে জড়িয়ে । তার মালিকানাধীন সাইফ পাওয়ার-টেকের পৃষ্ঠপোষকতায় চট্টগ্রামে আয়োজিত হয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব গোল্ডকাপ ফুটবল । সেই আসরের ব্যাপক সাফল্যের পরেই মুলত তরফদার রুহুল আমিন হয়ে ওঠেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয় ব্যক্তিসত্তা । আমাদের দেশের তরুন প্রজন্মের অহংকার ক্রীড়াপ্রেমী তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
শেখ কামাল গোল্ড কাপের সাফল্যের পর থেমে থাকেন নি তরফদার রুহুল আমিন । জড়িয়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন শাখায় । ফুটবল থেকে দাবা , অনেক খেলায় এখন সাইফ পাওয়ার-টেক বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের সহযোগিতার হাত । যদিও তরফদার রুহুল আমিন নিজে বেশি আগ্রহী ফুটবল নিয়ে । হয়ত ফুটবলের স্বর্ণযুগ দেখেছেন বলেই এখনও এই হতাশাজনক সময়েও তিনি স্বপ্ন দেখছেন আবারও এই দেশে ফুটবলের নব-জাগরণের । ২০১৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম আবাহনীর চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । বর্তমানে পেশাদার লীগের নবাগত দল সাইফ পাওয়ার-টেক তার নিজের ক্লাব । এই ক্লাবকে নিয়েই এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন নতুন কিছু করার ।
সাইফ পাওয়ারটেকঃ
আগেই বলা হয়েছে , বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার-টেকের কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক । যদিও ২০১৫ সালের আগে সাইফ পাওয়ার-টেকের মালিকের নাম খুব বেশি মানুষ জানত না । জানা যায় , প্রতিষ্ঠানটি সরকারের বিশেষ ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে । চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনালের অপারেশনাল কাজ করে থাকে । এটা খুব গতানুগতিক ব্যবসা না । দেশের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৬৫ শতাংশ হ্যান্ডল করে সাইফ পাওয়ারটেক। কনটেইনার হ্যান্ডলিং ছাড়াও তাদের অনেক পণ্য আছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠান এখন পণ্য-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও অটোমোবাইল ব্যাটারি নিয়ে এসেছে বাজারে ।
ক্রীড়াঙ্গনে তরফদার রুহুল আমিনঃ
ক্রীড়াঙ্গনে তরফদার রুহুল আমিনের আগমন মুলত চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার মধ্য দিয়ে । ২০১৫ সালের মাঝামাঝি তিনি চট্টলার ক্লাবটির নতুন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান । এরপর থেকেই তিনি ফুটবলে চেষ্টা করেন তার আধুনিক চিন্তাধারার প্রয়োগ ঘটাতে ।
হ্যাঁ , মান্ধাত্মার আমলের চিন্তা-ধারায় পরিচালিত দেশের ফুটবলে প্রথম আধুনিক চিন্তার প্রয়োগ কিন্তু দেখিয়েছেন এই তরফদার রুহুল আমিন । ফুটবলের জনপ্রিয়তা যখন শুন্যের কোঠায় , তখন তিনি সাহস দেখিয়েছেন বিশাল বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল আয়োজনের । সেটাও ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে । যা ক্রিকেটের এই যুগে কেউ ভাবতেও পারেন নি ।

শুরু থেকেই সৃজনশীল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া তরফদার রুহুল আমিনের জন্য শেখ কামাল গোল্ড কাপ ফুটবল ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ । মাত্র মাস দুয়েকের পরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো শেখ কামাল গোল্ড কাপের সফল আয়োজন সম্ভব করে দেখান তিনি । সাত কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের আসরে তার সাইফ পাওয়ারটেক দিয়েছে ৬৫ শতাংশ।
এই বিশাল অর্থ-লগ্নি ছিল আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ । ফুটবলের এই দুর্দশার যুগে তিনি বলতে গেলে জুয়া খেলেছিলেন । সারাবিশ্বেই খেলাধুলা একটি লাভজনক ব্যবসা । এই দেশে ক্রিকেটে সেটা প্রমাণ হয়েছে । তরফদার রুহুল আমিনের উদ্যোগে এক শেখ কামাল গোল্ড দিয়ে প্রমাণ হয়েছে ফুটবল নিয়েও এই দেশে ব্যবসা করা যায় ।
তরফদার রুহুল আমিন নিজেই জানিয়েছিলেন , ‘ সাইফ পাওয়ারটেক পাবলিক লিস্টিং কোম্পানি। আমাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন বাবদ অনেক টাকাই খরচ হয় প্রতিবছর। বিজ্ঞাপনের নতুন রূপ হলো শেখ কামাল গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ। নতুন প্ল্যাটফর্ম। ইট’স অ্যা বিজনেস । ‘
শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন করেই ক্ষান্ত হন নি তিনি , প্রথম আসরে নিজের দল চট্টগ্রামকে শেখ কামাল গোল্ড কাপের শিরোপা জিতিয়ে তিনি চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে ।
২০১৫ সালের পর ২০১৬ সালেও সফলভাবে আয়োজিত হয় শেখ কামাল গোল্ড কাপ ।
ফ্রেঞ্চাইজি আসর নিয়ে স্বপ্ন-
শেখ কামাল গোল্ড কাপের সফল আয়োজনের পরেই বাংলাদেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফেরানোর জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে মাঠে নামেন তরফদার রুহুল আমিন । স্বল্প অভিজ্ঞতায় তিনি বুঝে যান , ফুটবল নিয়ে যেমন বানিজ্য সম্ভব , তেমনি এই দেশে ফুটবলকে আবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব । তবে সেটা বর্তমানে যে ধারায় ফুটবল চলছে , তেমনভাবে হবে না । এখনকার শুন্য মাঠে ফের দর্শক ফেরাতে হলে দরকার চটকদার আয়োজন । সেই চিন্তা থেকেই ফ্রেঞ্চাইজি ফুটবল নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু তাঁর ।
ক্রিকেটের বিপিএলের মতো ফুটবলেও বাংলাদেশ সুপার লীগের (বিসিএল) উদ্যোগ নেয়া হয় । চিন্তা করা হয় , দেশীয় ফুটবলারদের সাথে বিশ্বের নামকরা ফুটবলার যারা সদ্যই অবসরে গেছেন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে , তেমন তারকাদের এনে বিএসলে খেলানোর । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন আয়োজন হচ্ছে ‘আইএসএল’ নামে । যেখানে খেলছে বা খেলেছে রবার্টো কার্লোস , রবার্টো পিরেজ , ত্রেজেগে , মালুদা , কাফু , ডেভিড জেমস , মিকায়েল সিলভাস্ত্রে , এলানো , এডার , লুসিও আর আনেলকার মতো তারকারা । যাদের খেলা দেখতে মাঠে উপচে পড়ছে দর্শক ।
শুধু তাই না , এইসব সর্বোমানের বিদেশী তারকাদের সাথে খেলে ভারতীয় ফুটবলাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিশীলিত । নিজেদের ঝালিয়ে নেয়া ভারত এখনই বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দল থেকে এগিয়ে গেছে অনেক দূর । তারা এখন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছে ।
ভারতের মতো বাংলাদেশেও সম্ভব ফ্রেয়াঞ্চাইজি ফুটবল আয়োজন । যেখানে খেলবে ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষে চলে আসা বিশ্বের সেরা সব তারকারা । এমনটা করেই জাপান আর আমেরিকার ফুটবল আজ বিশ্বশক্তি । বাংলাদেশের ফ্রেঞ্চাইজি ফুটবলের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে ভাবা হয় আর্জেন্টাইন ফুটবল-ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনাকে ।
বিএসএল আয়োজনের উদ্যোগ-
বিএসএল নিয়ে ভাবনা শুধু ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে নি , সেটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয় জোরেশোরে । পরিকল্পনা করা হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের । সেই হিসেবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উন্মোচন করা হয় আসরের লোগো । বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা এই লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান । বিএসএলের যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক। শুধু লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানের জন্যই ১ কোটি টাকার ওপর বাজেট ধরে তা করা হয় । ভারত থেকে শিল্পি আর সুরকার এনে করা হয় বিএসএলের থিম সং ।
প্রথমে পরিকল্পনা করা হয়েছিল , বিএসএলে দল থাকবে আটটি । দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের নামে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি। খেলা হবে হোম ও অ্যাওয়েভিত্তিক। প্রাথমিকভাবে ঢাকা চট্টগ্রামসহ রংপুর , রাজশাহী আর ময়মনসিং স্টেডিয়ামে ভাবা হয় খেলার কথা । যদিও সেই সকল স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর ফ্লাড-লাইটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা বেরিয়ে আসতে শুরু করে ।
যদিও গত বছর আর মাঠে গড়ায় নি বিএসএলের ফ্রেঞ্চাইজি ফুটবল আসর । অবকাঠামোগত সমস্যার সাথে বাফুফের নির্বাচন , এএফসি বাছাইয়ে বাংলাদেশের ভরাডুবিসহ নানান জটিলতায় সেই আসর বাস্তবের মুখ দেখে নি এখনও ।
অদৌ হবে কি বিএসএলঃ
তরফদার রুহুল আমিনের স্থির বিশ্বাস বাংলাদেশে ফ্রেঞ্চাইজি ফুটবলের আয়োজন খুব শীঘ্রই হবে । সর্বশেষ গত মে মাসে তিনি জানান ২০১৮ সালে বিএসএল আয়োজনের কথা । ফ্রাঞ্চাইজি ফুটবল হলে পুরো দেশের ফুটবল একটা ঝাঁকুনি আসবে। তিনি ফুটবলের উন্নয়নে এগুতে চান নির্দিষ্ট একটি মিশন নিয়ে । ভিশন দিয়ে রেখে দিলে কোনো দিনও ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করা যাবে না। আর এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের অবস্থান রাখতে হলে জেলা ফুটবল চাঙ্গা করাটা অন্যতম জরুরি কাজ। জেলা ফুটবল নিয়ে কাজ করতে হবে।
শুধু মুখের কথা নয় , ফুটবল নিয়ে কাজও করে যাচ্ছেন তরফদার রুহুল আমিন । মাঝে তরফদার রুহুল আমিনের সাইফ পাওয়ারটেক জেলা ফুটবল লিগের স্পন্সর হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। অজানা আশঙ্কায় বাফুফে তাতে সম্মতি দেয়নি। অথচ এই ক্ষেত্রে বাফুফের নিজেদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই !
নিজেদের উদ্যগেি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সংগঠন ফোরামের ব্যানারে জেলা লিগের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় সাইফ পাওয়ারটেক। গত মে মাসে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয় । জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিরা কথা বলেন সেখানে । কিভাবে জেলাগুলোকে চাঙ্গা করা যায় , সেই নিয়ে হয় আলোচনা ।
যদিও এই বৈঠক বাফুফে ভালো চোখে দেখে নি । তারা নিজেরা জেলা জেলা ফুটবল লিগ নিয়ে বরাবরই উদাসীন বাফুফে। গত দুই বছর জেলায় কোনো লিগ হয়নি।তার উপর ডিএফএ কর্মকর্তাদের নিষেধও করা হয়েছে আজকের সভায় যোগ না দিতে। আসলে তারা নিজেরা যা করছেন , একজন স্পন্সর সেটা করবে বা করে দেখাবে , এটা বাফুফের ব্যর্থতাকে সামনে তুলে আনবে । এই চিন্তা থেকেই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় সেই সভায় ।
বর্তমানে বাফুফের সাথে সম্পর্ক খুব ভালো যাচ্ছে না সাইফ পাওয়ার টেক কর্ণধারের । অথচ গত নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের সমন্বয়ক ছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। তার প্রতিষ্ঠান পেশাদার লিগ এবং মহানগরী ফুটবল লিগের স্পন্সর। অথচ এর পরও বাফুফের সাথে তার শীতল সম্পর্ক চলছে এখন। গুঞ্জন আছে, আগামীতে বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন রুহুল আমিন। তাই তিনি এখন বাফুফের বর্তমান কমিটির অপছন্দের তালিকায়।
সব মিলিয়ে আগামী বছরেও বিএসএল আসর সময়মত হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে ।
যদিও তরফদার রুহুল আমিন এখনও বিশ্বাস করেন , নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় এগুতে পারলে বাংলাদেশের পক্ষে ২০৩০ বা ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপেও খেলা সম্ভব । কারণ বাংলাদেশে ফুটবল প্রতিভার কোন অভাব আছে বলে তিনি মনে করেন না ।
ফ্রেঞ্চাইজি ফুটবল চালুর ক্ষেত্রে তার প্রধান লক্ষই ছিল দলগুলোর একটি করে ফুটবল একাডেমী থাকা । তেমন হলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর নতুন মানসম্মত ফুটবলার বেরিয়ে আসা নিয়েও চিন্তা করতে হতো না ।
কিন্তু সব আশার আলো দেখা বিএসএল আয়োজন নিয়েই যে এখন সব অনিশ্চয়তা !
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবঃ
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার লক্ষ্য নিয়ে ফুটবলে দল গঠন করেছিল সাইফ পাওয়ার লিমিটেড। ফুটবলে নবাগত এ দলটি অংশ নিয়েছিল পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে।সেখান থেকেই চলতি বছর তারা উঠে এসেছে পেশাদার ফুটবল লীগে ।
শুধু উঠে আসাই , প্রথম বছরেই বাংলাদেশের ফুতবলেরর অন্যতম শক্তিশালি দল গঠন করে চমক দেখিয়েছে নবাগত সাইফ । এবারের মৌসুমে দলবদলে প্রায় আট কোটি টাকার বাজেটের দল গড়েছে সাইফ । চলতি মৌসুমে তাড়াই সবচেয়ে বড় বাজেটের দল । তারা দলে ভিড়িয়েছে তপু বর্মণ, জুয়েল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট, আরিফুল ইসলাম ও জামাল ভূঁইয়ার মতো তারকা খেলোয়াড় । প্রথম চারজন গতবারের দল ছিল লিগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী, সেই দল ছেড়ে সাইফে নাম লেখাতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে তাঁদের। বিনিময়ে তাঁদের অর্থপ্রাপ্তিও অনেক। বাংলাদেশের ফুটবলে এবারই প্রথম খেলোয়াড়দের সঙ্গে চার বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে কোনো ক্লাব।
আসলে সাইফ পাওয়ার-টেক বা তার কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিনের বৈশিষ্ট্যই হল , যা কিছু করা হবে সব নিয়মতান্ত্রিকভাবে । সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েই । এমনকি তাদের মালিকানার ক্লাবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয় নি । নিজের দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে তিনি দেখতে চান এশিয়ার সেরা ক্লাবের কাতারে । সেই লক্ষ্যে তিনি গড়েছেন সম্ভাব্য সেরা দল । এনেছেন ইংলিশ কোচ কিম গ্রান্টকে । এক সময় ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব দাপট দেখিয়েছে এশিয়ান ক্লাব কাপের মুল পর্বে সমানে লড়াই করে সেরাদের সাথে । সাইফ স্পোর্টিং চায় মোহামেডানকে ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর যেতে ।
নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে দলবদলের সময়েই ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমরা চার বছরের পরিকল্পনা নিয়ে পেশাদার লিগে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিরোপা। কিন্তু সেটি যদি নাও হয় লক্ষ্য থাকবে এবার যতটা ভালো করেছি পরবর্তী বছরে যেন তার থেকে বেশি ভালো করতে পারি। সেই লক্ষ্যে আমরা ৭-৮ জন ফুটবলারের সঙ্গে চার বছর মেয়াদে চুক্তি করেছি।’
নাসিরুদ্দিন মনে করেন, বর্তমান সময়ে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়। ফুটবল নিয়ে বাণিজ্য করা সম্ভব। যেমন, ইতোমধ্যে তাদের ক্লাবের মতিন মিয়াকে নিতে চেয়েছে ভারতের ইস্ট বেঙ্গল। ভবিষ্যতে নিজেদের সেরা ২০ ফুটবলারকে রেখে অন্যান্য ক্লাবের কাছেও বিক্রি করার উদ্যোগ নেবার পরিকল্পনাও আছে ক্লাবটির। ফুটবলারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদের চুক্তি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাসিরুদ্দিন বলেছেন, ‘একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকে ২৪ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত। আমরা যাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছি তাদের অধিকাংশরই বয়স ২০ বছরের নিচে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে তারা আরও ভালো মানের ফুটবলার হয়ে উঠবে বলে আশা করি।’
ক্লাবের ৪ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা হলেন_ সাজ্জাদ, কবির, স্বাধীন, সাদ্দাম, রাফি, লিখন এবং রহিম। এরা সবাই সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবেরই তৈরি। তবে মতিন মিয়ার সঙ্গে ক্লাবের চুক্তি এক বছরের। আগামী বছর তাকে দেখা যেতে পারে ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি গায়ে। পেশাদার লিগে নামার আগেই পারফরম্যান্সের জন্য আলোচনায় এসেছেন এই স্ট্রাইকার। দলের অন্য ফুটবলাররা হলেন- রাসেল, রিমন, জিকো, ইব্রাহিম, সাজিদ, পাপ্পু, রহমত এবং সাইফুল।
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে এসেছেন বিকেএসপির ২৪ ফুটবলার। যাদের প্রশিক্ষণের জন্য থাকবে ইউরোপিয়ান কোচিং স্টাফ। শুধু তাই নয় গ্রেড অনুযায়ী এই ফুটবলারদের প্রত্যেকেই বেতন হিসেবে প্রতি মাসে পাবেন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা।
এছাড়া কলম্বিয়া থেকে তারা এনেছে মিডফিল্ডার ডেইনার এবং ফরোয়ার্ড হেমবারকে। অন্য বিদেশি ফরোয়ার্ড আলভি। ইনি এসেছেন ক্যামেরুন থেকে।
সর্বশেষ ৭ আগস্ট সাইফ স্পোর্টিং দলে ভিড়িয়েছে হাইতির স্ট্রাইকার ওয়েডসনকে । বর্তমানে কোলকাতার ইস্ট বেঙ্গলে খেলছেন হাইতির জাতীয় দলে খেলা এই ফরোয়ার্ড ।
জানা গেছে , ওয়েডসনের সাথে ছয় মাসের চুক্তি করেছে সাইফ স্পোর্টিং । ৬ মাসে মোট ৫৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে হাইতির এই খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্রিমিয়ার লিগে নবাগত দলটি। অর্থাৎ সাইফ এফসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বের ১১ ম্যাচ এবং স্বাধীনতা কাপ খেলবেন এ হাইতিয়ান।
বিগ বাজেটের দল গড়লেও মৌসুমের প্রথম আসর ফেডারেশন কাপে অবশ্য সফল হয় নি সাইফ । আসরের গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা । এদিকে বিপিএলেও তারা শুরু করেছে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনীর কাছে হেরে । দ্বিতীয় ম্যাচেই অবশ্য জয় পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সাইফ । এখন তারা কতদূর যেতে পারে সেটাই দেখার বিষয় ।
ফুটবলের পৃষ্ঠপোষক তরফদার রুহুল আমিনের সাইফ –
তরফদার রুহুল আমিন নামের মানুষটির সব ধ্যান-জ্ঞান যেন এই দেশের ফুটবলের উন্নতি । ফুটবলে তিনি একাধারে হচ্ছেন কোন ক্লাব কমিটির চেয়ারম্যান , ক্লাবের পক্ষে থেকে আয়োজন করছেন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট । নিজে এশিয়ার সেরা হওয়ার জন্য গঠন করছেন নতুন ক্লাব । আবার পেশাদার লীগের স্পন্সর হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান ।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের স্পন্সর স্বত্ব কিনে নিয়েছে রুহুল আমিনের সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস লিমিটেড (এসজিএস)। গত বছর ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরের স্পন্সরশিপ স্বত্ব আগামী ৫ বছরের জন্য ২০ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে সাইফ গ্লোবাল । প্রথমবারের মতো বিপিএলের স্বত্ব বিক্রি করেছে বাফুফে । বিপিএলের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ স্পন্সরশিপ মানি।
যদিও দ্বিতীয় মৌসুমেই বাফুফের কর্মকাণ্ডে নাখোশ সাইফ গ্লোবাল । গত মাসে বিপিএল শুরু ঠিক আগে নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতা সরিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল সাইফ । তাদের অভিযোগ , বাফুফে নাকি চুক্তির বাইরে কাজ করছে। এমন দাবী সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের।
এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো: রুহুল আমিন জানিয়েছিলেন , ‘আমাদের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি ছিল, বিপিএলের খেলা হবে দেশের সাতটি ভেন্যুতে। কিন্তু এবার ভেন্যু কমিয়ে তারা দু’টি (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) করেছে। আমরা অন্তত তিনটি ভেন্যু চেয়েছিলাম। সেটাও হয়নি। আমাদের দাবীর গ্রাহ্য করেনি বাফুফে। এসব নিয়েই আমাদের আপত্তি রয়েছে।’
এদিকে বাফুফের বক্তব্য ছিল , চুক্তির শর্ত ছিল, পাঁচ বছরের জন্য বাফুফেকে ২০ কোটি টাকা দেবে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান। প্রথম বছর ৪ কোটি টাকা দিলেও এবার টাকার অঙ্ক কমছে। বাফুফে ২ কোটি চাইলেও তাতে নাকি রাজি হচ্ছে না সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস। বলা যায়, একবছর যেতে না যেতেই দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় ।
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছিলেন , ‘ লীগের ভেন্যু পাঁচ থেকে দুইয়ে নেমে যাওয়ায় সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টসের স্বত্ব বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে । এই নিয়ে তারা অভিযোগ করেছিল । ‘
শেষ পর্যন্ত অবশ্য বাফুফের পিছিয়ে দেয়া তারিখ ২৮ জুলাই থেকে সাইফের স্পন্সরশিপেই শুরু হয়েছে বিপিএল ফুটবলের আসর ।
বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ অভিভাবক তরফদার:
ফুটবল নিয়ে তরফদার রুহুল আমিনের উচ্চাশা , শক্তিশালি পরিকল্পনা আর সাংগঠনিক ক্ষমতা বিচারে অনেকেই বাংলাদেশের ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে দেখছেন তাকে । সত্যি কথা বলতে কি , বাফুফের বর্তমান কমিটি নিয়ে ফুটবল সংশ্লিষ্ট তো বটেই , সাধারন মানুষের মধ্যেও আছে ক্ষোভ । কাঁজি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে এই কমিটির সময়ে বাংলাদেশের ফুটবল অবস্থান করছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় । এই কমিটি দাঁড় করাতে পারে নি একটা শক্তিশালি জাতীয় দল । ঘোষিত বড় বড় পরিকল্পনার বেশির ভাগই থেকে যায় ঘোষণা-পত্রে । এখন বাংলাদেশের কোন আসরে খেলা মানেই ভূরি ভূরি গোল খেয়ে ফিরে আসা । গতবছর এএফসি বাছাই প্লে-অফে ভুটানের কাছে হারের পর বাংলাদেশ জাতীয় দল এখন নির্বাসিত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে । বয়সভিত্তিক ফুটবলেও একই অবস্থা । সম্প্রতি ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২৩ বাছাই পর্বে তিন ম্যাচে বাজেভাবে হেরে এসেছে বাংলাদেশ । প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে নেপালের সাথে ।
এমনকি ঘরোয়া ফুটবল আয়োজনেও চলছে তুঘলকি খেলা । বারবার খেলা পিছাচ্ছে । মাঝে মাঝেই বাফুফের সাথে লেগে যাচ্ছে ক্লাবের । লীগ শুরু আগে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সাথেও সম্পর্কের অবনতির আভাস ! সব মিলিয়ে বর্তমান কমিটি আসলেই পারছে না , তা সেটা তারা নিজেরা নিজেদের যত সফল দাবী করুক ।
শোনা যাচ্ছে , বাফুফের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তরফদার রুহুল আমিন।
গত মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন , ‘কাজ করার ইচ্ছে থাকলে নির্বাচিত না হয়েও করা যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাইরে অবস্থান করে কাজ করার সুযোগ থাকে না। পৃষ্ঠপোষকতা করার পরও পরিকল্পনার অভাব থাকে। তদারকির অভাব থাকে। সেখানে বাইরে থেকে কিছুই বলা যায় না।’
আনুষ্ঠানিকভাবে না প্রকাশ করলেও বুঝা যায় রুহুল আমিন বাফুফের সভাপতি নির্বাচন পদে নির্বাচন করবেন। তিনি জেলার ফুটবল নিয়ে কাজ করতে চান। সংবাদ সম্মেলনের বাইরেও খেলামেলাভাবে কথা সেদিন বলেছিলেন রুহুল আমিন।
জানিয়েছিলেন , আগামীতে বাফুফেতে কাজের পেশাদারীত্ব থাকবে। যারা নির্বাচিত হবেন সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফুটবল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই ভুলে যান। ব্যস্ততার কারণে আসার সময়টি পান না। ফুটবলের এই সব ধ্যান-ধারণাকে বিশ্বাস করেন না রুহুল আমিন। তার প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক বর্তমানে ঘরোয়া ফুটবলের সব ক্ষেত্রে এককভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
গত ৩০ এপ্রিল বাফুফের বর্তমান কমিটির এক বছর শেষ হয়েছে। রয়েছে আরো তিন বছর। আগামী তিন বছর ফুটবলের জন্য আরো বেশি নিজেকে ঢেলে দিতে চান। নির্বাচনের বিষয়টা নির্ভর করবে তখনকার পরিবেশ এবং পরিস্থিতির উপর। রুহুল আমিনের কথা এশিয়ার ফুটবল বাংলাদেশকে দেখতে চাই।’
সবশেষ-
শুধু ফুটবল নয় , খেলাধুলার অন্যান্য ক্ষেত্রেও তরফদার রুহুল আমিনের সাইফ পাওয়ার এগিয়ে আসছেন পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে । জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে এখন স্পন্সর সাইফ । সাইফ স্পোর্টিং নিজেরাও অংশ নিচ্ছে জাতীয় দাবায় । মাত্র দিন কয়েক আগে প্রথম পদার্পণেই ওয়ালটন প্রিমিয়ার ডিভিশন দাবা লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। এই দলের হয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব , গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান , গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব আর ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন খেলছেন এশিয়ান ক্লাব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে । সর্বশেষ ম্যাচে তারা হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্লাবকে ।
ভবিষ্যতে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব হয়ত আসবে অন্যান্য খেলাধুলাতেও । যা এই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য খুব দরকার । কারণ এই দলের পেছনে যে আছে একজন অনেক বড় স্বপ্ন দেখা মানুষ । আর কে না জানে , স্বপ্নবাজ মানুষ ছাড়া কোন অঙ্গনের উন্নতি সম্ভব না । এই মুহূর্তে তরফদার রুহুল আমিনের চেয়ে স্বপ্নবাজ মানুষ যে আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না ! সমস্যা অন্যত্র। ক্রীড়াঙ্গনের প্রচলিত ঘুনে ধরা সংস্কৃতিকে রুখে দিয়ে লোকটা বিজয়ী হতে পারবেন কি ?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 158 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ