মায়াবী মহামায়া লেক।
প্রকৃতি আর মানুষ মিলে সৃষ্টি করে অনন্য সৌন্দর্য্য, যা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয়, যার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বার বার। চট্টগ্রামের মহামায়া লেক তেমনই একটি লেক। বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত। চট্টগ্রামের মূল সৌন্দর্য্য যেন মহামায়াকে ছাড়া অপূর্ণ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে মহামায়া লেকটি সৃষ্টির পেছনে কারণ ছিল পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে চাষবাসের জন্য সেঁচের পানি সরবরাহ করা আর ভবিষ্যতে জল বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। প্রকল্পের কাজ চলার পাশাপাশি লেকটি এখন মানুষকে আকর্ষণ করছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে।
চারিদিকে সবুজ, উপরে সুনীল আকাশ আর নিচে এই অপূর্ব লেক, সত্যিই মহামায়া যেন মায়াবী কোন পৃথিবী। নৌকায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন এখানে। লেকের বাঁকে বাঁকে আছে পাহাড় আর বন, আছে রাবার ড্যাম। লেক পার হয়ে একটু ভিতরে গেলেই দেখা মেলে ঝর্ণার। ঝর্ণার শীতল জলে গা ভিজিয়ে মনটাকে শান্তিময় করে তুলতে পারেন অনায়াসে। লেকের পানিতেও সাঁতরে বেড়াতে পারেন ইচ্ছামত। অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে মাছ ধরতেও যেতে পারেন।

ভ্রমণকারীরা এভাবেই খুঁজে নেন ঝর্ণার পানির শীতলতার ছোঁয়া। ছবি- ড. জিনিয়া রহমান।
টিকেট মূল্য:
মহামায়া ইকোপার্কে প্রবেশটিকেটের মূল্য ১০ টাকা। আর নৌকায় চড়তে হলে ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। অবশ্যই দরদাম করে নেবেন।
যেভাবে যাবেন:
বাসে-
সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভৃতি বাস করে আপনি চট্টগ্রাম যেতে পারেন। গ্রিনলাইন (০২-৭১০০৩০১), সোহাগ (০২-৯৩৪৪৪৭), সৌদিয়া (০১১৯৭০১৫৬১০), টি আর (০২-৮০৩১১৮৯), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১) ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাস চট্টগ্রাম যায়। ভাড়া ৮৫০-১১০০ টাকা। আর এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের সাধারণ বাসে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা।
রেলপথ-
ট্রেনে ঢাকা-চট্টগ্রামের রুটে মহানগর প্রভাতী ঢাকা ছাড়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, মহানগর গোধূলি ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৩টায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, তূর্ণা ঢাকা ছাড়ে রাত ১১টায়। ভাড়া ১৬০ থেকে ১১০০ টাকা। নতুন যোগ হয়েছে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। যা বিরতিহীন ভাবে চট্টগ্রামে যায়।
চট্টগ্রাম নামার পর আপনি যদি সরাসরি মহামায়া লেকে যেতে চান তাহলে প্রথমে যেতে হবে মাদারবাড়ি এলাকায়। এখান থেকে সরাসরি বাসে পৌছে যেতে পারবেন। অথবা যেতে পারেন অলংকার সিটি গেইটে। সেখান থেকে লোকাল বাসেও মহামায়া যাওয়া যায়। সময় লাগবে ১ ঘন্টা। ভাড়া ৪০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া সি এন জি, অটোরিকশা বা মাইক্রোবাসে যাওয়া সম্ভব। বড় গ্রুপ হলে এভাবে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকা। বাসে গেলে নামতে হবে মিরসরাইয়ের ঠাকুর দিঘি বাজারে। এরপর কিছুটা পায়ে হাঁটা পথ পেরোলেই মহামায়া।
কোথায় থাকবেন:
চট্টগ্রাম শহরে অনেক হোটেল আছে। থাকার কোন অসুবিধা নেই। নিচে কয়েকটি হোটেলের নাম ঠিকানা দেওয়া হল-
১. হোটেল প‌্যারামাউন্ট, স্টেশন রোড: নুতন ট্রেন স্টেশনের ঠিক বিপরীতে । ভাড়া- নন এসি সিঙ্গেল ৮০০ টাকা, ডাবল ১৩০০ টাকা, এসি ১৪০০ টাকা ও ১৮০০ টাকা। বুকিং এর জন্য- ০৩১-২৮৫৬৭৭১, ০১৭১-৩২৪৮৭৫৪।
২. হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড: ভাড়া- নন এসি সিঙ্গেল ১০০০ টাকা, এসি ১৭২৫ টাকা। বুকিং এর জন্য- ০১৭১১-৮৮৯৫৫৫।
৩. হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার: ভাড়া- ৭০০ টাকা থেকে শুরু। এসি ১৩০০ টাকা। বুকিং এর জন্য- ০৩১-০৬১৪০০৪।
৪. হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও,আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম: ভাড়া- ২৫০০/৩০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য – ০১৭৫৫-৫৬৪৩৮২।
৫. হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম: ভাড়া-২৩০০/৩৪০০ টাকা। বুকিং এর জন্য- ০১৮২-০১৪১৯৯৫, ০১৭৩১-৮৮৬৯৯৭।