গরমের আগেই লোডশেডিং

Print

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে আসছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্র্রিবিউশন কোম্পানি বলছে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকার কারণে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে
গরম আসার আগেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গত কয়েকদিনে রাজধানীর ফার্মগেট, পূর্ব-রাজাবাজার, তেজকুনিপাড়া, তেজতুরীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে এবং আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে আসছে। তবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্র্রিবিউশন কোম্পানি বলছে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকার কারণে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি রাত ৯.৩০টা থেকে ১০.১০টা পর্যন্ত এবং ২৮ তারিখ অর্থাৎ পরের দিন সকাল ৮টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত উল্লেখিত এলাকায় লোডশেডিং হয়। এতে চাকরিজীবীদের অফিসে যাওয়ার সমস্যা, ছাত্রদের স্কুলে যাওয়ার সমস্যাসহ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আবার অনেকের ইন্টানেটভিত্তিক ব্যবসা থাকার কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের একজন রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এখানো গরম আসেনি। তারপরও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। এ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আসন্ন গরমকালে বিদ্যুৎ যাবে না বরং আসবে মাঝে মাঝে!
ভুক্তভোগীদের আরেকজন পূর্ব-রাজাবাজারের বাসিন্দা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার অফিস মতিঝিলে। সকাল ৮টার মধ্যে বিদ্যুৎ যাওয়ায় প্রাথমিক কাজগুলো করতে পারেন না। কখন বিদ্যুৎ আসবে তাও বলা যায় না। দু-একদিন এমন হলে তেমন সমস্যা হত না। কিন্তু প্রতিদিনই যদি এমন হয় তাহলে কি আর সহ্য করা যায়?
তাড়াহুড়া করে বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন ফার্মগেট এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম। তার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে বলেন, সন্তানকে যখন গোসল করাবেন তখনি বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ আসবে সে আশায় অপেক্ষা করছেন এক ঘণ্টা। কিন্তু বিদ্যুৎ আসেনি। বাসায় পানিও নেই। বিদ্যুৎও নেই কি করবেন, তাই অপেক্ষা করে ছেলেকে গোসল না করিয়েই স্কুলে এলেন। ক্লাস করতে না পারলে আবার স্কুলে জরিমানা দিতে হবে।
রাজধানীর ফার্মগেটে বিসিএস কোচিং কনফিডেন্সের অফিস সহকারী নিশাত বলেন, এখন ক্লাস চলছে। ফটোকপি করে প্রশ্ন ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআর (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) বিভাগের ছাত্রী সানজিদা হক বলেন, তার ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস ৯টা ৪৫-এ। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তিনি এখনো রুম থেকেই বের হতে পারেননি। কখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন আর ক্লাসই বা ধরবেন বুঝতে পারছেন না।
লোডশেডিংয়ের কারণ সম্পর্কে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের এখানে লোডশেডিং হয় না। তেমন কোনো খবরও তার কাছে নেই। তবে যেসব অঞ্চলের কথা বলেছেন সেগুলোতে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এ অঞ্চলে কারওয়ানবাজার সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা কম। সাপ্লাই দিতে হয় বেশি তাই মাঝে মাঝে এসব সমস্যা হতে পারে।
লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার না করে তাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এ কর্মকতা আরও বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয় যাতে করে লাইনের কোনো সমস্যা না হয়। সব সময় চলতে থাকলে একটা পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা কমে যায়। যেমন ধরেন, ‘আপনি একটি মোটরসাইকেল চালান আর সেটাকে যদি আপনি বিশ্রাম না দেন তাহলে প্রেসার বেশি পড়ার কারণে সার্ভিস দেয়ার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। যত দিন ব্যবহার করার কথা আপনি ইচ্ছে করলেও ততদিন ব্যবহার করতে পারবেন না। বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও তাই সব সময় চালু থাকলে একটা সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। সে জন্য মাঝে মাঝে এমনটা হয় । আর অতিরিক্ত ট্রান্সফরমার না থাকায় আমাদের প্রায় প্রায়ই বন্ধ রাখতে হয়।’
বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘আপনারা জানেন রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। রাজউক, সিটি করপোরেশনের এসব কাজের জন্য বিদ্যুৎ লাইন অফিস থেকেই বন্ধ রাখতে হয়। না হলে তার ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় বা দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। সে বিষয়টির দিকেও নজর রেখে আমাদের কাজ করা হয়।’
গরম চলে এসেছে এখন তো আরও ঘনঘন লোডশেডিং অর্থাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা আছে সে সমস্যা সমাধানে করণীয় কি জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সাপ্লাই করে থাকি । এটার ব্যাপারে আমাদের কর্তৃপক্ষ খুব সচেতন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তিনি যখন বিদেশে গিয়েছিলেন সেখানে আমরা কাজ করেছি। কারওয়ানবাজার, আসাদগেট, তেজকুনিপাড়া আরেক সাবস্টেশন করা হবে। যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ সমস্যা দূর করার জন্য আমরা আসাদগেটে সাবস্টেশন করছি। আরও দুটো করার চিন্তা করছি। আশা করছি আমাদের এখানে লোডশেডিং হবে না। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত বিদুৎ আছে ।’
লোডশেডিংয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশে বিদ্যুতের ব্যবহারকারী এবং চাহিদা দুটোই বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলানায় বিদ্যুৎ তো আর সেভাবে বাড়ছে না। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুতের এ সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।’
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ছে সেভাবে সঞ্চালন লাইন বাড়ছে না। গত ৮ বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে ৬২ শতাংশ। কিন্তু সঞ্চালন লাইন বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। সেজন্য লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 135 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ