গল টেস্টে কী আছে বাংলাদেশের ভাগ্যে?

Print

তিন দিনের খেলা শেষ। এর মধ্যে পুরো একটি সেশন ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ঠিক এ সময়ে এসে গল টেস্টে এখনো স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১৮২ রানে পিছিয়ে। তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে বৃষ্টি না এলে বাংলাদেশ আরো বাজে পরিস্থিতিতে থাকতে পারতো। বাকি দুদিনে গল টেস্টে বাংলাদেশের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটতে পারে?

what is the fortune of bangladesh in galle test

শ্রীলঙ্কা এখনো এতো বেশি রানে এগিয়ে আছে যে, মাত্র দুটি সেশনেই তারা অন্তত ৪০০ রানের লক্ষ্য বেধে দিতে পারে বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু চতুর্থ দিনে উইকেট হয়তো প্রথম তিনদিনের মতো ব্যাটিং সহায়ক থাকবে না। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিং করতে পারে আরো কিছুটা বেশি সময়। কারণ এবার রান তুলতে একটু বেশিই বেগ পাওয়ার কথা ব্যাটসম্যানদের।

সে হিসেবে শ্রীলঙ্কা যদি চতুর্থ দিনে আড়াই সেশনও ব্যাটিং করে, তাহলেও বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা পাঁচশর কাছাকাছি। চতুর্থ দিন বিকেলের কয়েক ওভার এবং পঞ্চম দিনের পুরোটা সময় পাবে বাংলাদেশ। এই সময়ে লক্ষ্য তাড়া করা অথবা উইকেটে টিকে থাকা; এই দুটো চ্যালেঞ্জ থাকবে মুশফিকদের সামনে। কোনটাকে অনুসরণ করবেন মুশফিকরা?

শ্রীলঙ্কার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে টেস্ট জেতার রেকর্ড পাকিস্তানের। পালেকেল্লেতে ২০১৫ সালে ইউনুস খানের ১৭১ রানে ভর করে ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গিয়েছিলো তারা। গলে ৯২ রানের বেশি তাড়া করে জেতার কোনো রেকর্ড নেই কোনো দলের। অর্থাৎ মুশফিকরা যদি তাড়া করার পেছনে দৌড়ান, তবে পরিণতি খুব একটা ভালো হওয়ার কথা নয়।

তাহলে বাদ থাকে কেবল টিকে থাকার পথটা। বাস্তবতার আলোকে এবং যৌক্তিকভাবে এই পথটাই বেছে নেয়া উচিত মুশফিকদের। সেটা করলেই যে সফলতা মিলবে, তার নিশ্চয়তাও অবশ্য দেয়া যাচ্ছে না। সাতজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে নেমেও গলের ব্যাটিং উইকেটে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ বাংলাদেশ। এক মুশফিক ছাড়া কাউকে দায়িত্ব খেলতে দেখা যায়নি।

তামিম- সৌম্য হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বটে, কিন্তু সেট হয়ে যাওয়ার পর লম্বা ইনিংস খেলার যে জনদাবি থাকে, সেটা মেটাতে ব্যর্থ তারা। পরের দিকে মুমিনুল, সাকিব, মাহমুদুল্লাহ ও লিটন দাসও কিছু করতে পারেননি। শেষ দুদিনে গিয়ে উইকেট আর আগের মতো ব্যাটিং সহায়ক থাকবে না, যে কথা আগেই বলা হলো, তো সেখানে এই ব্যাটসম্যানরা টিকে থাকার পরীক্ষায় কতোটা কী করতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই।

সব মিলিয়ে গল টেস্টে বাংলাদেশের ভাগ্যে কী আছে— এমন প্রশ্নে যে সম্ভাব্য উত্তগুলো আসছে, তাতে বাংলাদেশের খুশি হওয়ার মতো উপকরণ কমই। দলের গুরুত্বপূর্ণ চার চারজন ব্যাটসম্যান যখন দায়িত্বজ্ঞানের কোনো পরিচয় দিতে পারেন না, তখন অবশ্য এমন হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত এই টেস্ট বাঁচাতে পারে, তবে তাতে সবচেয়ে বেশি অবদান বোধহয় প্রকৃতিরই রাখতে হবে। পূর্বাভাস বলছে, কালও বৃষ্টি নেমে আসতে পারে গলের আকাশে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 119 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ