গুগল ট্রান্সলেটে বাংলা অনুবাদ উন্নয়নে কাজ করছি: জাবেদ সুলতান

Print

আমাদের বিভিন্ন সময়ে ইংরেজি থেকে বাংলা বা বাংলা থেকে ইংরেজি অথবা অন্য কোনো ভাষা অনুবাদ করার প্রয়োজনে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করি। কিন্তু সেখানে এখনও অনেক ভুল অনুবাদ দেখা যায়। এসব ভুলত্রুটি সংশোধন করে আরও উন্নতমানের বাংলা অনুবাদের কাজ করছেন এ বি এম জাবেদ সুলতান। তিনি গুগল ডেভেলপারর্স গ্রুপ (জিডিজি) বাংলার কমিউনিটি ম্যানেজার। একইসাথে তিনি দৈনিক প্রথম আলোর ব্র্যান্ড অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক। ওয়ার্ল্ড পাজল ফেডারেশনের কান্ট্রি করেসপন্ডেন্টও।
জাবেদ সুলতান অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ম্যাথ অলিম্পিয়াড ভলান্টিয়ার্স (মুভার্স), বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন), বিজ্ঞান জনপ্রিয় সমিতি ইত্যাদির নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠক হিসেবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পুরোটা জুড়ে তিনি প্রদায়ক হিসেবে প্রথম আলোতে লেখালেখি করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, বিজ্ঞান, ক্যারিয়ার, বিজনেস ইত্যাদি নানা বিষয়ে লিখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটাই ছিল আমার প্রধান শিক্ষালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ফরমাল শিক্ষার চেয়ে এই শিক্ষাটা আমার অনেক বেশি কাজে লেগেছে, লাগছে।’

পেশা জীবনে তিনি ইউএনডিপিতে কাজ করেছেন এটুআই প্রকল্পের কমিউনিকেশন অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে। পেশাজীবন শুরু হয়েছিল নেসলে থেকে। ইন্টার্নশিপ শেষ করে সেখানে কন্ট্রাকচুয়াল কাজ করেন তিনি। বর্তমান সময়ে তাঁর ব্যস্ততার বিষয়ে বলেন, ‘ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করছি। গুগল ট্রান্সলেটে বাংলা ট্রান্সলেশন উন্নত করতে কাজ করছি। এ ছাড়া গুগলের অন্যান্য প্লাটফর্মেও বাংলাকে সমৃদ্ধ করতে যারা কাজ করছেন তাদের সমন্বয় করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও দক্ষতা মার্কেটিং কনিউনিকেশনস্ এ। ডিজিটাল মার্কেটিং আমার আগ্রহের জায়গা। অনেকদিন ধরেই আমি একটি বিশেষ মার্কেটিং প্র্যাকটিস করছি। এটার নাম ‘গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং’। এটা নিয়েই আমার কাজ। বাংলাদেশের মতো জায়গায় গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিংয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।’
কাছের বন্ধু কারা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলা কঠিন। অনেক বন্ধু দেশে বিদেশে রয়েছে। তবে স্কুলের বন্ধুদের বিশেষভাবে মনে পড়ে। চঞ্চল, রানা, সুমন, জাকির, বিলু, রাসেল, অমি, আরমান, আরাফাত। ওরা সবাই দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। কেউ রাজনীতি করে, কেউ সরকারি কর্তা। ডাক্তার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, করপোরেট চাকরি-সবখানেই আছে ওরা। তবে বেশি মিস করি ‘বন্ধু’-কে। ওর নামই বন্ধু, বন্ধু প্রসাদ দত্ত মজুমদার। ও নিজেই একটা সংক্ষিপ্ত নাম দিয়েছিল, বিপিডিএম। সে অদ্ভুত একটা ছেলে। আমার জীবনের সিংহভাগ দুষ্টুমির সঙ্গী। ও এখন মুম্বাই থাকে, ফিল্ম এডিটিংয়ে কাজ করে। এরা সবাই আমার সমবয়সী।’

জাবেদ সুলতান তার বন্ধু সম্পর্কে আরও বলেন, ‘আমার কিছু অসমবয়সী বন্ধুও আছে। কয়েকজন খুব জুনিয়র বন্ধু আছে। আমি চেষ্টা করি তাদের জেনারেশনের চিন্তাগুলোয় ঘুরে বেড়াতে। আমার জানতে ইচ্ছে করে, ওরা কী ভাবছে, কেমন করে ভাবছে। আবার সিনিয়র বন্ধুও আছে। আমার আরেক বেস্ট ফ্রেন্ড তথ্য প্রযুক্তি সাংবাদিক পল্লব মোহাইমেন। আমি স্বভাবে একটু পাকনা বলে সিনিয়রদের সাথেও বন্ধুত্ব হয়ে যায়।’
জীবনে কী হওয়ার কথা ছিল আর কী হয়েছেন? উত্তরে জাবেদ সুলতান বলেন, ‘আমি খুব ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম বাসের ড্রাইভার হবো। বাসের ড্রাইভারকে আমার খুব পাওয়াফুল, স্কিলড ও রেসপন্সিবল মনে হতো। আরেকটু বড় হয়ে যখন স্কুলে যেতাম তখন ভাবতাম স্কুল শিক্ষক হবো। এরপর ভেবেছি ইঞ্জিনিয়ার হবো। আর যা হয়েছি তা কখানো ভাবিনি, মার্কেটার।’ নিজের সিক্রেট সম্পর্কে বলেন, ‘আমি ভ্রমণ খুব পছন্দ করি। নেশার মতো। সুযোগ পেলেই চলে যাই। দেশে বিদেশে নতুন কোথাও হলেই হলো। অনলাইনে খুব বেশি কেনাকাটা করি। সারাদিন আলি এক্সপ্রেসের অ্যাপে একবার হলেও ঢুকি। হুদাই অনেক কিছু কিনে ফেলি। কার জন্য কিনছি, কেন কিনছি না জেনেই কিনি।’
জাবেদ সুলতান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কমিউনিকেশনে আরও দক্ষ করে তুলতে চাই নিজেকে। শিখছি এবং শেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর আমার একটা স্বপ্ন আছে। একটা স্টার্টআপের। অনেক আইডিয়া। কিছু নিয়ে খুব এক্সাইটেড থাকি, পরে আর হিসাব মেলে না। অপেক্ষায় আছি প্রথম শুরুর।’
এ বি এম জাবেদ সুলতান ১৯৮৫ সালের ১৭ এপ্রিল নেত্রকোনার মদনপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মদনপুর নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এখানে হযরত শাহ সুলতানের মাজার অবস্থিত। কথিত আছে ১০৫৩ সালে তিনিই প্রথম ইসলাম প্রচারের জন্য এই ভূখন্ডে আসেন। সেই বংশের উত্তরসূরী এবং এ থেকেই তাঁর নামের শেষ অংশ ‘সুলতান’। জাবেদ সুলতানের বাবা সৈয়দ উদ্দীন ফারাস (মরহুম) এবং মা জেবুননেছা। ব্যক্তি জীবনে জাবেদ বিবাহিত। সহধর্মিণী সাবরিনা শরমিন। ব্যাংকার। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, ন্যাশনাল ব্যাংক, সীমান্ত স্কয়ার। তাঁদের এক মেয়ে যারিতা জয়দ্ধনি; বয়স ৯ মাস। জাবেদ সুলতান পড়াশোনা করেছেন আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা। নটরডেম কলেজ, ঢাকা। আইবিএ-জেইউ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বিবিএ। এরপর ডুয়াল এমবিএ করেছেন। প্রথম এমবিএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে। দ্বিতীয় এমবিএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে। এমবিএতে মেজর ছিল টেকনোলজি অ্যান্ড অপারেশন্স।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 176 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ