গুমরে ‘কাঁদছে’ রাকসু ভবন

Print

আহমেদ ফরিদ, রাবি প্রতিনিধি: বেশিরভাগ রুমের দেয়াল ও ছাদে চটা ধরেছে। দেয়ালগুলোতে জমেশে শেওলা। সংস্কারের অভাবে দরজা-জানালাগুলোর অধিকাংশই অকেঁজো। ভবনের একমাত্র শৌচাগারটি ব্যবহারের অনুপযোগী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনের এই বেহাল অবস্থা। বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালেও সংস্কার করা হচ্ছে না ভবনটি- এমন অভিযোগ করেছে রাকসু ভবনে অবস্থানরত বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে রাকসু নির্বাচন না থাকায় রাকসু ভবনে ঠাঁই মিলেছে এসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে এবং কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ার সামনে অবস্থিত দ্বিতল রাকসু ভবনে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভবনটিকে তাদের চর্চাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ছাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখা যায়, বেশিরভাগ রুমের দেয়াল ও ছাদে চটা ধরেছে। অনেক সময়ই এগুলো খুলে পড়ছে। জানালা-দরজাগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে পড়েছে। বাথরুম অপরিষ্কার দেখা যায়। দেওয়ালগুলোতে শেঁওলা জমে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বর্ষে ভর্তির সময় রাকসু (ছাত্র সংসদ) বাবদ ১৫ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতি বছর রাকসু তহবিলে জমা হচ্ছে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা। ২৪ বছর ধরে নির্বাচন না থাকায় রাকসু বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটি টাকার বেশি আদায় করেছে। যা দিয়ে রাকসু ভবনের কোনো সংস্কারও করছে না।

কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট রাবি শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদ অন্তর অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ভবনটা অচল হয়ে পড়েছে মূলত প্রশাসনের নজরদারির অভাবে। গার্ড, পরিচ্ছন্নকর্মী কাউকেই চোখে পড়ে না। ভবনের ছাদ থেকে শুরু করে দেওয়ালগুলো খেয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক লাইন ও সার্কিডগুলো প্রায় অচল হয়ে গেছে। ভবনে রং না করার কারণে প্রায় সময় প্লাস্টার ধসে পড়ছে। অযতেœর কারণে মাকড়সার জাল থেকে শুরু করে জানালা-দরজা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।’

গত পাঁচদিন আগে ভবনের ছাদের একটা ছোট প্লাস্টার তাঁদের উপস্থিতিতেই খুলে পড়েছে বলে জানান তিনি। যেকোনো সময় দূর্ঘটনার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘ছাদের যে বেহাল দশা তা নিয়ে আমরা সবসময় শঙ্কায় থাকি। তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।’

নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক মনে করেন, প্রশাসন সাংস্কৃতিক চর্চাকে ভাল চোখে না দেখার কারণেই রাকসু ভবনের এমন বেহাল দশা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিবছর রাকসু ভবন বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে থাকে। এছাড়া রাকসু ভবনের উন্নয়ন বাবদ বেশ কয়েকটি ফান্ড রয়েছে যেখানে বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু পরম অনুতাপের বিষয় এই যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাকসু ভবনের কোনো কাজে আসেনি।’

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় অনেক চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ দিয়ে এই রাকসু ভবনের সামান্য কাজ করাতে পেরেছিলেন। ‘সেই প্রশাসন সেসময় প্রায় ষাট হাজার টাকা দিয়ে এই ভবনে শুধু মাত্র রং করেছিলেন। এরপর থেকে কোনো প্রশাসনই এই ভবনের দিকে কেউ মুখ ফিরে দেখেন নি।’

রাকসু ভবনের বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাকসু ভবন ট্রেজার মহাদয়রাই দেখাশুনা করেন। সুতরাং এ বিষয়ে তারাই ভাল বলতে পারবেন। তবে শুনেছি ট্রেজার মহাদয় বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ থাকায় রাকসু ভবনের এমন অবস্থা হতে পারে।’ তবে ভবনে অবস্থানরত কেউ আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানান তিনি । যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় তবে আমরা বিষয়টি দেখব বলেও আশ্বস্থ করেন তিনি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘আসলে রাকসু বিষয়টি দেখাশুনা করার দায়িত্ব রাকসুর কোষাধ্যক্ষ মহাদয়ের। তিনি এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মীর ইমাম ইবনে ওয়াহেদ বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকদিন থেকে অসুস্থ থাকায় রাকসু বিষয়ে এখন কোনো তথ্য দিতে পারব না।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 354 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ