গুলশান থেকে খিলগাঁও হামলা, নেপথ্যে কারা

Print

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ থেকে সবশেষ খিলগাঁওয়ে র‌্যাব চেক পোস্টে হামলা। এসব হামলা কারা ঘটিয়েছে তা নিয়ে পাওয়া গেছে দু’রকম তথ্য! এমনকি এসব হামলার নেপথে কারা এখনো তা বেরিয়ে আসেনি!
জঙ্গি গোষ্ঠি ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিভিন্ন সময় হামলাগুলোর দায় স্বীকার করলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তা অস্বীকার করে আসছেন। পুলিশের দাবি, হামলাগুলো যারা ঘটিয়েছে তারা ‘নব্য জেমবি’র সদস্য।

এসব হামলার দায় স্বীকার ছাড়াও ভিডিও বার্তাও দিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংগঠনটি।
গেলো ১৩ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ ও পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল যৌথভাবে সম্মেলন আয়োজন করে।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিকাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) পরিচালক রোহান গুণারত্নে বলেন, দেশীয় জঙ্গিরা গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা করেছে-এ কথা সত্য না। ইসলামিক স্টেটই (আইএস) হামলা চালিয়েছিল। গুলশান হামলাকারীরা বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবিরই একটি ধারা বলে শুরু থেকে বাংলাদেশ সরকার দাবি করে আসছে, যা ঠিক হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক এ বিশেষজ্ঞ।
পরের দিনই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক দাবি করেন, গুলশানের হামলায় আইএস সম্পৃক্ততা নিয়ে রোহান গুণারত্নের বক্তব্য তার একান্তই ব্যক্তিগত মত।
তিনি বলেন, আমরা বলি, তারা দেশীয় টেররিস্ট। তবে তারা আইএস ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হতে পারে, আইএস-এর দর্শন তারা বিশ্বাস করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই।
এ ঘটনার ৩ দিন পর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে ৪ জন নিহত হন। পরের দিনই জুমার নামাজের সময় ঢাকার আশকোনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাবের নির্মানাধীন সদর দপ্তরের দেয়াল টপকে ‘সুসাইড ভেস্ট’ পরে হামলা চালানো হয়। এসময় হামলাকারী নিহত ও দু’র‌্যাব সদস্য আহত হন।
আইএস এ হামলার দায় শিকার করেছে। আইএসের মুখপাত্র আমাক নিউজ এজেন্সি’র বরাত দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সও একই তথ্য দিয়েছে।
এ ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাজধানীর খিলগাঁওয়ে র‌্যাবের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি কায়দায় আত্মঘাতী হামলা হয়। এসময় র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে নিহত হন হামলাকারী। এ ঘটনাতেও দু’র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আবারো দাবি করেন, দেশে কোনো আইএস নেই। তবে আইএসের মতাদর্শী অনুসারীরা আছে। তারাই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ধর্মের অপপ্রচার চালিয়ে নাশকতা চালানো হচ্ছে। আর এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। জাতীয় পর্যায়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের কাজ চলছে। জঙ্গিবাদ বিশ্বের বড় সমস্যা। সে সমস্যা মোকাবেলায় প্রস্তুত আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দেশের গুলশান ও বৃহত্তর শোলাকিয়ার ঈদগাহ মাঠে হামলার পর রাজধানী ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালানো হয়। স্পেশাল হুইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস (সোয়াট), অ্যান্টি টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি), র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম-২৬ এ ৯ জন, নারায়ণগঞ্জে অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭ এ ৩ জন, মিরপুরে মেজর মুরাদ, আজিমপুরে জঙ্গি-পুলিশ গোলাগুলিতে ১ জঙ্গি, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সাভারের অভিযানে মোট ১২ জন, আশকোনায় অভিযানে ২ জন, সবশেষ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৪ জন নিহত হন।
গেলো ২ মার্চ নব্য জেএমবি’র ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ মাওলানা আবুল কাশেমকে আটক করা হয়। এছাড়া ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন সময় আটক হওয়াদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জোঙ্গি গোষ্ঠির নেটওর্য়াকের তথ্য মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না মূল হোতাদের।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 144 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ