গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে এনজিও উধাও

Print

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নে গ্রামীণ বিএমসিএস লিমিটেড নামের এক ভূয়া এনজিও লোভনীয় অফার দেখিয়ে চার শতাধিক স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগি গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের জামকৃত টাকা ফেরত এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী আঃ আজিজ, ছগির,বেল্লাল খাঁ,খলিল, রুবেল,অমল চন্দ্র, সজিব, কানন বালা,খাদিজা বেগম, পারুল, রওশনা ও জায়েদা বেগমসহ অর্ধশতাধিক গ্রহক জানায়, ৫বছর পূর্বে উপজেলার কৈখালী বাজারে গ্রামীণ বিএমসিএস লিমিটেড নামে একটি এনজিও অফিস ভাড়া নেয় এবং স্থানীয় আনোয়ার খানের ছেলে ও কৈখালী বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ খান ওরফে পল্টু, ছোট ভাই বায়জিদ খান, একই এলাকার সেলিম মোল্লা ও বরিশালের রাজ্জাক হোসেন রাজু সহ কয়েকজনের নেতৃত্বে অধিক মুকফা দেয়ার কথা বলে আশপাশের ৪/৫টি গ্রামে মাসিক সঞ্চয় স্কীম, কোটিপতি ডিপোজিট স্কিমসহ তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য সদস্য সংগ্রহ শুরু করে।

আকর্ষণীয় ও লোভনীয় প্রলবনে সারা দিয়ে আমাদের মত নিম্ন ও মধ্যম আয়োর প্রায় ৪২০জন গ্রহক এ এনজিওতে ২০থেকে ৮০হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখি। এতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ শেষে পাসবই ও জমা রশিদসহ আবেদনপত্র অফিসে জমা দেয়া হয়। কিন্তু টাকা না দিয়ে তারা দিনের পর দিন আমাদের ঘুরাতে থাকেন। হঠাৎ দেখি অফিস নেই। নেতৃত্বে থাকা স্থানীয় লোকজনের শরণাপন্ন হলে তারা উল্টো আমাদেরকে হুমমি-দমকি দিচ্ছেন এবং জানায় আমরা চাকরি করতাম, আমাদেরও অনেক টাকা নিয়ে ওই অফিসের লোকজন পালিয়ে গেছে, কোথা থেকে টাকা দিব।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এনজিওটি পাস বাই ও সাইন বোর্ডে গণপ্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত উল্লেখসহ একটি নিজস্ব লোগে প্রতীকের প্রমাণ পাওয়া গেলেও এটি কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিবন্ধিত এবং নিবন্ধন নম্বরের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
গ্রামীণ বিএমসিএস লিমিটেডের সাবেক সুপারভাইজার বায়েজিদ খান জানান, আমি ও বড় ভাই পল্টু এ এনজিও‘র বেতনভূক্ত কর্মচারী ছিলাম। প্রতিষ্ঠানের মুল মালিক হচ্ছেন বরিশালের আঃ রাজ্জাক হোসেন রাজু। গ্রহকের জমাকৃত ডিপিএস ও সঞ্চয়ের যে টাকা জমা হতো সব টাকা ওই মাসেই রাজু স্যার বরিশালের হেড অফিসের নিয়ে যেতেন। আমাদের পরিবারের লোকজন পৌনে চার লাখ টাকার ডিপিএস ছিল তাও পাইনি। এছাড়া মাঠে প্রায় ৪/ ৫লাখ টাকা লোন রয়েছে। আর গ্রাহককের দাবি সঠিক নয়, তারা সর্বোচ্চ লাখ দুই টাকা পেতে পারেন বলেও জানায় সুপারভাইজার বায়েজিদ।
গ্রামীণ বিএমসিএস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বরিশালের আঃ রাজ্জাক হোসেন রাজুর সাথে তারে মোবাইল ফোনে বারবার কথা বলা চেষ্টা করলে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম জানান, কৈখালী এলাকায় একটি এনজিও গ্রহাকের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার বিষয়ে লোজনের কাছ থেকে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি উভয়পক্ষকে ডেকে মিমাংশা করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 155 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ