চট্টগ্রামে রাস্তার দুরাবস্থার জন্য দায়ী কে

Print

airport road

চট্টগ্রামে রাস্তার দুরাবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া বক্তব্যের পর সোমবার দিনভর ছিল সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাপ। এজন্য একে অপরকে দোষারোপও করেছেন।
সোমবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রকল্পের পরিচালক শাজাহান মোল্লা। মেয়র ডেকে পাঠান ব্রিজ নির্মাণ কাজে জড়িত ঠিকাদারদের। পরে তাদের সঙ্গে নগর ভবনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে বিমানবন্দর সড়কের কাজে গতি নেই। দুই বছর আগে এই প্রকল্প স্বাক্ষর হলেও নির্মাণকাজ শুরু করতেই পার হয়ে যায় ১১ মাস। এক বছর মেয়াদি প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে আগামী আগস্ট পর্যন্ত।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিলম্প প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প। দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের পরিচালক ও উপ পরিচালকও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা দেখভালের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের।’
তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিটি গর্ভনেন্স প্রকল্পের আওতাধীন বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পটির পরিচালক শাহাজাহান মোল্লা জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো কাজ বাস্তবায়ন করে না। দাতা সংস্থা জাইকা থেকে অর্থ নিয়ে সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকায় তিনটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ করেছে সিটি করপোরেশন এবং তা বাস্তবায়নও করার কথা তাদের।’
চসিক সূত্রে জানা গেছে, জাইকার অর্থায়নে সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের আওতায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে ৭৪ মিটার দৈর্ঘ্যের পৃথক ব্রিজ তিনটি নির্মাণ করছে চসিক। তবে এ প্রজেক্টটির নিয়ন্ত্রক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ এবং এ বিভাগের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
ব্রিজটি তিনটি হচ্ছে- রুবি সিমেন্ট সংলগ্ন ১৪ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি ব্রিজ, ৯নং গুপ্ত খালের উপর ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এবং ১৫ নং খালের উপর (বিমানবন্দর সংলগ্ন) ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ব্রিজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার বোট ক্লাবে চট্টগ্রাম ওয়াসার অনুষ্ঠানে এই সড়ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর সোমবার তোড়জোড় শুরু হয় প্রকল্প এলাকায়। প্রকল্পের আওতাধীন তিনটি ব্রিজেই শ্রমিকের উপসি’তি বেড়ে গেছে। বেড়েছে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের হাকডাকও। জাইকার ঠিকাদারদের সাথে বৈঠক করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ।

এ প্রসঙ্গে  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে বিলম্বের পিছনে কিছু যৌক্তিক কারণও আছে। সিটি কর্পোরেশন এই প্রথম জাইকার সঙ্গে কাজ করছে। জাইকার কাজগুলো করার জন্য যে অভিজ্ঞতা দরকার তা ছিল না। এখানে আরেকটি বিষয়, আমি দায়িত্ব নেয়ার দুই মাস পর ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। তখন কিন্তু আমাদের প্রধান প্রকৌশলী ছিল না। কয়েক মাস আগেই প্রধান প্রকৌশলী পেলাম।
মেয়র বলেন, ‘গাফিলতি আছে বলবো না। পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। কনসালটেন্ট ছিল না। ঠিকাদারদের মধ্যে সমস্যা ছিল।’ এখানে ইলেক্ট্রিক লাইন ছিল, ওয়াসার পাইপ লাইন ছিল। এগুলো তো অন্য বিভাগের। তাদের সাথে সমন্বয় করে এগুলো সরিয়ে নিতে সময় লেগেছে। পুরোনো ব্রিজ ভাঙার আগে বিকল্প ব্রিজ তৈরি করার পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল না। এসব করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
১৫ নং খালে ব্রিজটির কাজ এক ঠিকাদার সাব কন্ট্রাক্টে অন্যজনকে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ করার আন্তরিকতা ছিল না। তাছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়া যখন অনলাইনে হয়েছে সেখানে আগে থেকে জানার সুযোগ নেই কারা কাজটি পাচ্ছেন বা যারা আবেদন করেছেন তাদের সক্ষমতা আছে কী না। এই ক্ষেত্রে আইনি সুযোগ থাকলে অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এখন থেকে আমি প্রতিদিনই মনিটরিং করবো। ঠিকাদারদের বলে দিয়েছি জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের কোন যুক্তি শুনবো না।
সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্টের পরিচালক শাহজাহান মোল্লা বলেন, তিনটি ব্রিজের সাইট হস্তান্তর করেছি কার্যাদেশের ১১ মাস পর। তখন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে বাকি আছে এক মাস। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করতে গেলে অনেক ঝামেলা। তাই পুরনো ঠিকাদারকে সময় বাড়িয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
নকশায় ত্রুটি প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমে তো জানতাম না আন্ডারগ্রাউন্ডে ওয়াসা- গ্যাসের লাইন আছে। তাছাড়া প্যাকেজ-১ এর কাজে কোন কনসাল্টেন্টও ছিল না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 146 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি