চলচ্চিত্র পরিবার-চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সমঝোতা

Print

hall-ff

যৌথ প্রযোজনার নিয়ম না মেনে হওয়া ছবির মুক্তিকে কেন্দ্র করে গেল রোজা থেকে শুরু হয় ”যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণা ঠেকাও” আন্দোলন। সেই আন্দোলনের একটি পক্ষে ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক,শিল্পী সমিতিসহ ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে হওয়া চলচ্চিত্র পরিবার আর অন্য একটি পক্ষে ছিলো হল মালিক ও বুকিং এজেন্টরা। তাদের সমর্থনে ছিলো জাজ মাল্টিমিডিয়াসহ ওই প্রতিষ্ঠান ঘরানার বেশ ক’জন নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলী। দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে যৌথ প্রতারণার ছবি মুক্তি বন্ধ করা, হল পলিটিক্সের হাত থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে রক্ষা করা সহ নানা ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দেয় চলচ্চিত্র পরিবার। সেই আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে চলচ্চিত্র জোটের নেতাকর্মীরা। সেদিন হল মালিক সমিতির সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার নওশাদকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। যার জের ধরে হল মালিকরা ঘোষণা দেন রিয়াজ, মিশা সওদাগর ও প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরুর কোনো ছবি দেশের হলে প্রদর্শিত হবে না। পরে সেই বয়কটের তালিকায় পরিচালক নেতা মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন ও শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের নাম শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত আশার খবর হলো সব অতীতকে পেছনে রেখে আবারও এক ছায়াতলে এসে দাঁড়িয়েছে চলচ্চিত্র পরিবার ও হল মালিক-প্রদর্শক সমিতি। গতকাল (১২ আগস্ট) রাতে এই দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে । হল মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারী কাজী শোয়েব রশীদের ধানমন্ডির বাসায় এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা ফারুক, বাংলাদেশ হল মালিক-প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী ফিরোজ রশীদ এম.পি, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ,সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, হল মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার নওশাদ,প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু সহ আরও অনেকে। এই বৈঠকের বিষয়ে হল মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারী কাজী শোয়েব রশীদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”আজকের এই বৈঠকের উদ্যোগ ব্যক্তিগতভাবে আমিই নিয়েছিলাম। কারণ আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য। তাই পরিবারের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি হলে সেটা মেটানোর দায়িত্ব পরিবারের যে কোন সদস্য নিতে পারে। তাছাড়া বরেণ্য অভিনেতা ফারুক আংকেল ও আমার বাবা বাংলাদেশ হল সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী ফিরোজ রশীদ এম.পি এর মধ্যে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দুজনের সম্পর্ক এবং চলচ্চিত্রের সবার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম। খুশীর কথা এই বৈঠকে আমাদের মধ্যে সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আমরা এখন থেকে সবাই মিলে দেশীয় চলচ্চিত্রের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো।” এই বৈঠকে উপস্থিত শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ জানান,”দিন শেষে আমরা একই চলচ্চিত্র পরিবারের মানুষ। ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আবারও আমরা সবাই মিলেমিশে ইন্ডাস্ট্রিকে সামনে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করবো। আজ হল মালিক-প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেছি। আর হল মালিকরা যে ছয়জনকে বয়কট করছিলেন সে বিষয়ে নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। সবকিছুর জন্য আমরা সবাই বিব্রত। এইসব ঘোষণা ধীরে ধীরে এমনিতেই সরে যাবে। আনুষ্ঠানিকতার দরকার নেই।” উল্লেখ্য,”যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণার ছবি” বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রতিবাদে গেলো জুন মাস থেকে আনুষ্ঠানিক আন্দোলন শুরু করে চলচ্চিত্র পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে হওয়া চলচ্চিত্র পরিবার।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 101 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ