চাকরিতে সাফল্যের জন্য কিছু করনিয়

Print

বর্তমান যুগে চাকরি এক সোনার হরিন । ভালো চাকরি যেমন দুর্লভ হয়ে উঠেছে ঠিক তেমনি তা টিকিয়ে রাখাও হয়ে উঠেছে অনেক কঠিন । আমি আমার আটাশ বছরের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে যে সামন্ন্য জ্ঞান অর্জন করেছি তা থেকে নুতন প্রজন্মের জন্য সামান্য কিছু টিপস দিচ্ছি । যদিও এ বিষয় নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে এবং  যারা মানব সম্পদ নিয়ে কাজ করেন তারা বিষয়টি ভালো জানবেন, তারপরও আমি এই লেখাটি লেখার দুশঃসাহস করছি হয়তো এটি কারো কাজে লাগলে লাগতেও পারে ।

 

ব্যাক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং পোশাক

অফিসে যাওয়ার সময় সব সময় ব্যাক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং পোশাক আশাকের দিকে খেয়াল রাখতে হবে । কারন মানুষ যদি দর্শনধারী না হয় কেউ তার গুন বিচার করে না । বাসা থেকে বের হওয়ার আগে একটু সময় ব্যায় করলেই নিজেকে গুছিয়ে নেয়া সম্ভব । সকালে সেভ এবং গোসল করে বের হলে দেখতে ফ্রেশ লাগে । আর পরিচ্ছন্ন এবং মানানসই পোষাক পরা উচিত । ক্যাজুয়াল ড্রেস পরে অফিসে যাওয়া অনুচিত এমনকি ছুটির দিনে অফিস করলেও ফরমাল ড্রেস থাকা ভালো । এতে আপনার সাথে মানুষ কাজ কর্মে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে ।

 

সময়ানুবতীতা

অফিসে সময় মত আসা এবং চলে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে । আপনি যতো ভালো কাজই করুন সময় মত অফিসে আসতে না পারলে তা বিফলে যাবে । কারন নিয়মিত দেরি করে অফিসে আসলে আপনি ইমেজ সংকটে পড়বেন । আর দেরি করে অফিস থেকে বের হওয়া মানে আপনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে অক্ষম । অর্থাৎ আপনি অদক্ষ হিসেবে পরিগনিত হতে পারেন ।

 

শৃঙ্খলাবোধ

অফিসে থাকাকালিন আপনাকে আফিসের নিয়ম কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে । অফিসের ভেতর কথাবার্তা, তথ্য আদান প্রদান,  চলাচল ডাইনিং রুম এমনকি টয়লেট ব্যবহারে নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে । আপনি যদি নিয়ম না মেনে অফিসের বাগান থেকে ফুল তুলে নেন কিংবা অগ্নি নির্বাপণের মহড়ার সময় সিটে বসে থাকেন তাহলে আপনি ঊর্ধ্বতনদের বিরাগভাজন হতে পারেন ।

 

দায়িত্বশীলতা

অফিসে টিকে থাকার জন্য আপনাকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে । আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে হবে । আপনি যদি আপনার কাজগুলো সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন  করতে বার বার ব্যর্থ হন তাহলে  আপনার চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে । মনে রাখতে হবে বর্তমান যুগে কাজে ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই । দিনের শেষে মোটামুটি সব প্রতিষ্ঠান তার হিসেব মিলিয়ে নেয় । তাছাড়া আপনার কাজকর্মের হিসেব নিতে অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক মূল্যায়নের খড়গ তো থাকছেই ।

 

 

 

 

দক্ষতা এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

আপনাকে কাজে যোগদানের সাথে সাথে আপনার কর্মপরিধি জেনে নিতে হবে এবং সেই সকল কাজ নৈপুণ্যের সাথে করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে । কাজ যাই হোক কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য তার গভীরে প্রবেশ করতে হবে । সময় দিতে হবে মনোযোগ দিতে হবে । মনে রাখতে হবে অক্লান্ত পরিস্রম ছাড়া কাজে দক্ষতা এবং লক্ষ্যমাত্রা  অর্জন করা অসম্ভব । আপনি যদি দক্ষতা অর্জন করতে সমস্যা বোধ করেন তাহলে আপনার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা মানব সম্পদ বিভাগের সহযোগিতা নিতে পারেন । তবে আমি মনে করি কাজ করার ইচ্ছা থাকলে দক্ষতা অর্জনে সমস্যা হয় না । আর কাজে দক্ষতা থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত । তবে নিতান্তই আপনি যদি আপনার কাজটি উপভোগ না করেন অথবা দক্ষতার সাথে করতে না পারেন তাহলে আপনারই উচিত হবে কাজটি ছেড়ে দেয়া নইলে অন্য কেউ আপনার কাজটি করবে এবং আপনি পরিত্যাক্ত হবেন ।

 

আচার আচরন

কর্মক্ষেত্রে আচার আচরনে আপনাকে সংযত থাকতে হবে যাতে । ভদ্রতাজ্ঞান এবং শিষ্টাচার সমুন্নত রাখতে হবে । অফিসে এসে এবং অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ঊর্ধ্বতন এর সাথে দেখা করা ভালো । এতে আপনাদের মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ় হবে । আপনার আচরণ উদ্ধত হলে আপনি কর্মক্ষেত্রে একা হয়ে পড়তে পারেন যার ফলে জরুরী প্রয়োজনে আপনি সহকর্মীদের সহযোগিতা বঞ্চিত হবেন এবং গভীর সংকটে নিপতিত হতে পারেন ।

 

অফিস সংস্কৃতি

প্রতিটি অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে । আপনি যে অফিসে কাজ করবেন জরুরী ভিত্তিতে সে অফিসের সংস্কৃতি জেনে নিবেন এবং তা মেনে চলবেন । কোন প্রতিষ্ঠানে ঊর্ধ্বতনদের স্যার বলার নিয়ম প্রচলিত থাকলে আপনিও তাই করবেন । কোন প্রতিষ্ঠানে ভাই বা আপু বলার প্রচলনও থাকতে পারে । যেখানে যা প্রযোজ্য তাই অনুসরন করলে আপনি মুল স্রোতে থাকবেন এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন । অফিসের আচার অনুষ্ঠানে যথানিয়মে যোগ দিতে ভুলবেন না । কারন সামাজিকতা বিবর্জিত মানুষ কোথাও ভালো থাকতে পারে না ।

 

সততা এবং নিষ্ঠা

সততা ও নিষ্ঠা যে কোন চাকরির পূর্বশর্ত । এটা কোথাও লেখা থাকে না কিন্তু তা বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব । আপনার সততা কোন কারনে প্রশ্নবিদ্ধ হলে আপনি কোন ভাবেই সেই চাকরিতে টিকে থাকতে পারবেন না ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 333 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ