চাকরির নিশ্চয়তা চায় ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ এসোসিয়েশন

Print

চাকরি ক্ষেত্রে ন্যায্য বেতন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি ও অবসর ভাতা চালু, পদোন্নতি, ছুটি সহ কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও সমস্যা দূর করতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা প্রত্যাশা করছে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ অফিসারদের সংগঠন ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া)। সংগঠনটির দাবি, তাদের ঘোষিত ৫ দফা অনুযায়ী সরকার ফার্মেসী সেক্টরের কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ অফিসার (এমআরও) তথা মাঠকর্মীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও সেটির বাস্তবায়ন। সংগঠনটির ঘোষিত ৫ দফা দাবিগুলো হচ্ছে: নতুন সরকারি বেতন স্কেলে ৭ম গ্রেডের সমপরিমাণ বেতন প্রদান, বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড, টিএডিএ ও আনুতোষিক প্রদান, চাকুরির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার বিধান করে নীতিমালা প্রণয়ন, সংগঠন হিসেবে ফারিয়াকে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান এবং সাপ্তাহিক ছুটিসহ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

Untitled
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানালেন ফারিয়ার ৫ দফা দাবি আদায়ের আহ্বায়ক এসএমএম রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি মহিউদ্দিন মিলাদ। বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে কর্মরত মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের দূরাবস্থার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা মেডিকেল রিপ্রেসেনটেটিভ বা প্রতিনিধিরাই বলতে গেলে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর মূল চালিকা শক্তি। আমাদের মাধ্যমেই কোম্পানিগুলোর পণ্য বাজারে বিক্রি হয় ও রাজস্ব ও মুনাফা আসে। কিন্তু দুঃখের কথা আমাদের চাকুরির নিরাপত্তা নেই। যখন তখন কারণে-অকারণে প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের চাকুরিচ্যুত করে। এক্ষেত্রে তারা চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলে না। এমনকি বিক্রয় টার্গেট পূরণ করতে না পারলে আমাদের বেতন বা প্রাপ্য অর্থ থেকেও টাকা কেটে রাখা হয়। তারা আরও জানান, মেডিকেল রিপ্রেসেনটেটিভদের সাপ্তাহিক ছুটি নেই। প্রতিদিনই কাজ করতে হয় তাদের। ক্যাজুয়াল লিভও আমরা পাইনা। কোম্পানির কাজে মোটর সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন কারণে প্রতি তিনদিনে একজন এমআরও (মেডিকেল রিপ্রেসেনটিটিভ অফিসার) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আমাদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড বা গ্যাচুইটির ব্যবস্থাও নেই। চাকুরিতে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অভাব প্রতিনিয়ত আমাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। চাকুরীর ক্ষেত্রে অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, চাকুরিতে আমাদের কাজে ব্যবহারের জন্য যে মোটরসাইকেল দেয়া হয়, সেটির জন্য প্রতিমাসে বেতন থেকে টাকাও কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু, কোন কারণে চাকুরি ছেড়ে দিলে বা চাকুরি থেকে বাদ দেয়া হলে মোটরসাইকেল কোম্পানি রেখে দেয়। এর সমপরিমাণ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তারা সেটা করে না। উল্লেখ্য, ফারিয়ার পক্ষ থেকে গত বছরের ৫ অক্টোবর ও ১০ নভেম্বর ৫ দফা দাবিপূরণের লক্ষ্যে দুবার মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তাদের আন্দোলন কোন সরকার বা কোম্পানির বিরুদ্ধে নয়। সংগঠনটির আন্দোলন এম আরও সহ মাঠকর্মকর্তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভরা যে বেতন পান, তাতে তাদের বেঁচে থাকা কষ্টকর। তাই চাকরিতে বৈষম্য দূরীকরণ ও এমআরওদের ন্যায্য প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেতনসহ অন্যান্য ভাতা সরকারি বিধি ও শ্রম আইন মোতাবেক প্রদানের জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছে ফারিয়া। কোম্পানির মালিকদের প্রতি সংগঠনটির নেতাদের অনুরোধ, তারা যেন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের যৌক্তিক ও ন্যায্য প্রাতিষ্ঠানিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে কাজ করার পরিবেশ উন্নত করেন। তাই ফার্মাসিউটিক্যালসের এমআরও’দের চাকরিতে বিরাজমান বৈষম্যসমূহ ও সুযোগ-সুবিধার সমস্যা নিরসনে একটি নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা। দাবি আদায়ের এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে আগামী ১৩ মে (শুক্রবার) কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে এই সংগঠনটি। তারা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 104 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ