চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাঁথিয়ার কিশোরীকে ভারতে পাচার

Print

bandicam 2017-02-01 09-19-30-885পাবনার এক কিশোরীকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরী আসমানী খাতুন জেলার সাঁথিয়ার ছোট পাথাইলহাট গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে। এক বোরকা পড়া নারী বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কৌশলে পাচার করে দিয়েছে। পাচারকারীরা কিশোরীকে ফিরিয়ে দিতে মুক্তিপণ দাবি করছে। মুক্তিপণ দিতে রাজী হলেও নানা অজুহাতে কিশোরীকে ফেরত দিচ্ছেনা ওই চক্রটি। গেল ৪ মাস ধরে পাচার হওয়া মেয়ের নিরাপত্তা ও মান সম্মানের কথা ভেবে থানায় জিডি করেনি স্বজনরা। তবে মেয়েকে ফিরে পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।কিশোরী আসমানীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ছোট পাথাইলহাট গ্রামের হতদরিদ্র জোলেখা খাতুন। এক মেয়ে ও এক ছেলের জননী। জীবিকার তাগিদে ৬ মাস আগে চাকুরী নেন আশুলিয়া বাইপাইলের জামগড়া এলাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাকটরিতে। ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় বকুল মিয়ার বাসায়। জোলেখা ভোরে চলে যেতেন ডিউটিতে। বাসায় থাকত কিশোরী মেয়ে আর শিশু ছেলে। একদিন আসমানীর মা কর্মস্থল থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখেন বাসায় নেই তার কিশোরী মেয়ে। বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জানতে পারে বোরকা পড়া এক মহিলা মেয়েকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছেন। তারপর বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান পাননি। এর মাস খানেক পর একদিন মোবাইলে আসমানী তার বাবা-মা ও মামাকে জানায়, লিপি নামের এক মহিলা দুবাইয়ে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি মেয়েটিকে দুবাই নিয়ে গেছে। ৪ মাস ধরে মেয়েটিকে চোখে দেখতে পারছিনা।

আসমানীর মামা রুহুল আমিন জানান, আমার এক চাচাতো ভাই আকমল দুবাই থাকে। আসমানী দুবাই আছে শুনে আমি পাচারকারী ওই লোকটির ফোন নাম্বার আমার চাচাতো ভাইকে দিয়ে খোঁজ নিতে বলি। সে খোঁজ নিয়ে জানায়, নাম্বারটি দুবাইয়ের নয়, সেটি ভারতের মুম্বাইয়ের নাম্বার। পরে ওই নাম্বারে পাচারকারী চক্রের সাথে কথা বললে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে আমরা রাজী হলেও তারা বিভিন্ন রকম কথা বলে মেয়ের ক্ষতি হবে এমন হুমকী দেয়। আর মেয়েটির মান সম্মানের ভয়ে থানায় কোনো জিডি বা মামলা করিনি আমরা।

আসমানীর বাবা আলমগীর হোসেন জানান, একদিন ফোন করে আসমানী আমাকে জানায় জেলা ফরিদপুরের লিপি নামের এক মহিলা তাকে দুবাই নিয়ে গেছে। সেখানে তার সাথে আরো ৫টি মেয়ে আছে। আমাকে প্রথমে ঢাকায় ইউনিক পার্কের পাশে এক মাদ্রাসা সংলগ্ন ছয়তলা ভবনে রাখে। পরে সেখান থেকে দুবাই নিয়ে গেছে। আমরা পরে জানতে পারি তাকে ভারতে নেয়া হয়েছে। ভারত থেকে সোহাগ নামে এক লোক ফোন করে জানায়, ১৫ হাজার টাকা পাঠান বিকাশে। আপনার মেয়েকে কোনো এক বর্ডার এলাকায় পাঠাবো, আপনারা সেখান থেকে নিয়ে যাবেন। বিকাশ নাম্বার চাইলে নানা তালবাহানা করে।

আসমানীর মা জোলেখা খাতুন ও বাবা আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মেয়েটিকে পাচার করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। কিন্তু ভারতের কোথায়, কিভাবে মেয়েটিকে রেখেছে তা জানতে পারছিনা। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, মেয়েটিকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক এবং পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হোক, যাতে আর কোনো মেয়েকে এভাবে মিথ্যা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে পাচার করতে না পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি পাবনা শাখার ক্লিনিক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিন্নাত আরা চৌধুরী বলেন, প্রথমে মেয়েটির পরিবারকে থানায় মামলা দায়ের করতে হবে। যদি পরিবার চায়, তাহলে মামলার পর আমরা আইনগত সহায়তা দেবো। এমনকি মেয়েটিকে বিদেশ থেকে উদ্ধার করে আনার ব্যাপারেও সহযোগিতা দিতে পারবো।

সমাজসেবা অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক মো: আব্দুল মমিন বলেন, আসমানীর পাচারের বিষয়টি আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। আমরা তাদের সবধরনের সহায়তা দেবো। আমাদের পরামর্শ, তারা যেন দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শরনাপন্ন হন। তাকে উদ্ধার করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো এবং পাচার হওয়া আসমানীকে উদ্ধার করে সেফহোমে নেয়া হবে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান,বিষয়টি আমাদের জানা নাই। তবে মেয়েটির পরিবার যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 138 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ