চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখবে প্রশিক্ষণ

Print

বসুন্ধরা গ্রুপের অন্যতম একটি খাত সিমেন্ট। এ সেক্টরে কেমন কাজের সুযোগ রয়েছে?

বাংলাদেশের সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে বসুন্ধরা সিমেন্ট এবং কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ দুটি ব্র্যান্ডের সিমেন্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন—পদ্মা ব্রিজ, রামপাল পাওয়ার প্লান্ট, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট, রূপপুর নিউক্লিয়ার প্লান্ট, ভুলতা ফ্লাইওভার প্রজেক্ট, খুলনা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। দিন দিন এ সিমেন্টের চাহিদা যেমন ব্যাপকভাবে বাড়ছে, তেমনি কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

 

নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় দেখে থাকেন?

একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের পাশাপাশি দেখা হয় প্রার্থীর কথা বলার ধরন, উপস্থাপনপদ্ধতি, বোঝার ও বোঝানোর দক্ষতা, অঙ্গভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাস। ইংরেজি ও কম্পিউটারে দক্ষ প্রার্থীরা ক্ষেত্রবিশেষে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।

 

কী কী বিষয় অযোগ্যতা ধরা হয়?

সময়জ্ঞান না-থাকা প্রার্থীর জন্য বড় অযোগ্যতা। প্রার্থী যে বিভাগেই কাজ করুক না কেন, কম্পানির ব্যবসার ধরন অবশ্যই বুঝতে হবে। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং কম্পানির কোনো তথ্য যাতে বাইরে প্রকাশ না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

 

একজন প্রার্থী কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে?

ছাত্র থাকা অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা প্রাইভেট কম্পানিতে সুযোগ থাকলে পার্টটাইম জব করা যেতে পারে, যাতে প্রার্থী বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। পড়ালেখার পাশাপাশি ট্রেনিং অথবা শর্ট কোর্স করা যেতে পারে।

 

ফ্রেশারদের সুযোগ কেমন?

আমাদের এখানে ফ্রেশারদের চাকরির যথেষ্ট সুযোগ আছে। নিয়োগের পর ফ্রেশারদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগসহ কম্পানির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এতে তারা আত্মবিশ্বাসী হয় এবং দক্ষতার প্রমাণ রাখে।

 

ইন্টার্নশিপ কতটা এগিয়ে রাখে?

ইন্টার্নশিপে প্রার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পায়। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মেশে, কম্পানির বিভিন্ন কালচার, বিভিন্ন নিয়মনীতি সম্পর্কে জানে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে, যা পরবর্তী সময় প্রার্থীকে অনেক এগিয়ে রাখে।

 

সিভি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

সিভি লেখার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক প্রার্থী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও সিভির গুরুত্ব বাড়াতে সেটি উল্লেখ করে, যা সাক্ষাত্কারের সময় প্রশ্নকর্তার কাছে ধরা পড়ে। এতে প্রার্থীর অযোগ্যতা প্রমাণ পায়। এ ক্ষেত্রে পরামর্শ, সিভিতে ভুল তথ্য উল্লেখ করা যাবে না। যে বিষয়গুলোতে প্রার্থী বেশি দক্ষ, সেগুলো হাইলাইট করা যেতে পারে।

 

নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কী কী?

একজন প্রার্থীকে আমাদের কম্পানিতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ধাপগুলোর মধ্যে আছে ডাক্তারি পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেনটেশন ও মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায় কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি সাক্ষাত্কার কমিটির মুখোমুখি হতে হয়। মূলত এতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই নিয়োগ পেয়ে থাকে।

 

মৌখিক পরীক্ষায় কিভাবে ভালো করা যাবে?

মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য প্রার্থীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক অথবা অতিরঞ্জিত কথা বলা যাবে না। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নকর্তা উত্তরের মধ্য দিয়ে প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, মানসিকতা যাচাইসহ আপাদমস্তক বোঝার চেষ্টা করেন।

 

কর্মীরা কেমন সুযোগ-সুবিধা পান?

আমাদের কম্পানিতে কর্মীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা, আন্তরিকতা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়ে থাকে।

 

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ কোনো পরামর্শ?

বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মানসিকতা রাখতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি কোনো কাজের সুযোগ পেলে গ্রহণ করা উচিত। এতে বাস্তব অভিজ্ঞতা হবে। সৎ চিন্তা ও ভালো কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ চাকরির বাজারে এগিয়ে রাখবে।

 

মো. তাহমিদ হোসেন

বসুন্ধরা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (মানবসম্পদ)

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 419 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ