চালের বাজার অস্থির ,নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে

Print

শস্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরে বেড়েই চলেছে চালের দাম। বাজারে ধানের মূল্য তেমনটি না বাড়লেও চালের মূল্য বাড়ছে তরতর করে। এতে করে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
পাইকারি বাজারে বস্তা প্রতি চালের দাম (৫০ কেজি) ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেলেও খুচরা বাজারে বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, ধানের বাজারে খবর নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ দিনে ধানের বাজারে শুধু মাত্র গুটি স্বর্ণ ধানের দাম প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ৫০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসাবে শুধু মাত্র গুটি স্বর্ণ চালের দাম বাড়ার কথা। অথচ বাজারে সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় বড় ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। তারা নিজেরাই সিন্ডিকেট করে নিয়ন্ত্রণ করছে ধান ও চালের বাজার। দিনাজপুরে শুরু করেছেন সিন্ডিকেট ব্যবসা।
সরেজমিনে দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রকার ভেদে বিভিন্ন প্রকার চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সিদ্ধ কাঠারি ও সিদ্ধ বাসমতি চালের দাম বাড়েনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চাল বস্তায় ২ হাজার ২০০ টাকার স্থলে ২ হাজার ৬০ টাকা, আঠাশ চাল বস্তা প্রতি ২ হাজার ১০০ টাকার স্থলে ২ হাজার ৭০ টাকা স্বর্ণ ও পায়জাম চাল ১ হাজার ৭০০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৮০০ টাকা গুটি স্বর্ণ ১ হাজার ৬ টাকার স্থলে ১ হাজার ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড চাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
কাহারোল উপজেলার কৃষক আব্দুল্লাহ জানান, গত ১৫ দিনে ধানের দাম বৃদ্ধি না পেলেও বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি করে ধান মজুদ করে রেখে বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি করছে।
বর্তমানে যেসব জাতের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেসব জাতের ধান বাজারে পাওয়া যায় না। তাহলে ধানের দাম বাড়ার সাথে চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে কেন?
ক্ষোভ প্রকাশ করে চাল কিনতে আসা তোফায়েল আহমেদ জুয়েল বলেন, বাজারে গিয়ে প্রায় বিব্রত হতে হয়। আজ এক দাম তো কাল আরেক দাম।
চালক্রেতা শুকুর আলী জানান, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। সম্ভব হয় না একসাথে অনেক চাল কিনে রাখি। ৫-৭ কেজি করে চাল কিনি। কয়েকদিনের থেকেই চালের বাজার বেড়ে গেছে। শুনছি আরও বাড়বে। কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়ে না।
সিকান্দার নামে এক চাল ব্যবসায়ী জানালেন, আমরা বেশি মূল্যে চাল ক্রয় করছি বলেই বেশি মূল্যে চাল বিক্রয় করছি। বড় বড় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের কী দোষ বলেন?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 98 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ