চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে বাংলাদেশে বিদেশিরা

Print

চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে বাংলাদেশে বিদেশিরাপ্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছুসংখ্যক মানুষ বিদেশে যায়। সবচেয়ে বেশি যায় পাশের দেশ ভারতে।

এর পরই থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে, যা নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের হা-হুতাশ ও সমালোচনা চলছেই। দেশে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতি এবং ওষুধের উন্নতি সত্ত্বেও কেন এসব মানুষ বিদেশে যায়, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি-তর্কও আছে বিভিন্ন মহলে। তা সত্ত্বেও এত দিন বাংলাদেশের অনেক চিকিৎসককে গুরুত্বের সঙ্গে ডেকে নিয়ে চাকরি দিচ্ছে অনেক উন্নত দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। আর বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন কম্পানির ওষুধ তো বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করা হচ্ছে বহুদিন ধরেই। এবার এর সঙ্গে বাংলাদেশ আরেক ধাপ এগিয়ে এলো বিদেশি রোগীদের দেশে টেনে আনার ক্ষেত্রে। তাও আবার একটি ওষুধকে ঘিরেই বিদেশিদের এমন ছুটে আসা। ওই ওষুধ নিতে এসে বিদেশি রোগীরা এখানকার দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়ে যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেপাটাইটিস সি রোগের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর একটি ওষুধ আমেরিকার জুলিয়াট সায়েন্স কম্পানির। ৮৪ ডোজের ওষুধের একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয় রোগীকে। কিন্তু এর একটি ওষুধের দামই আন্তর্জাতিক বাজারে এক হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি ৮১ হাজার টাকা করে। ফলে মোট ৮৪টি ওষুধের দাম পড়ে ৮৪ হাজার মার্কিন ডলার বা ৬৮ লাখ চার হাজার টাকা, যা কিনে চিকিৎসা করা অনেক দেশের অনেক মানুষের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশে অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড আমেরিকার জুলিয়াট সায়েন্স কম্পানির লেডিপাসভির ৯০ মিলিগ্রাম ও সোফোসবুভির ৪০০ মিলিগ্রাম জেনেরিকের কম্বিনেশনে ‘টুইনভির’ নামে হেপাটাইটিস সি-বিরোধী ওষুধ দেশেই প্রস্তুত করে, যার প্রতিটির বাজারমূল্য বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৮০০ টাকা করে। যদিও বাংলাদেশের সব ফার্মেসিতে এ ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। নির্দিষ্ট কিছু বড় ফার্মেসি ও হাসপাতালে এ ওষুধ চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করছে ইনসেপটা। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ওষুধটির কথা প্রচার পায়। একপর্যায়ে মাত্র ৮০০ টাকায় ৮১ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওষুধের খোঁজ পেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হেপাটাইটিস সি রোগে আক্রান্ত রোগী বা তাদের স্বজনরা ছুটে আসছে বাংলাদেশে। তারা সরাসরি ইনসেপটা কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাক্তারের পরামর্শপত্র দেখিয়ে চাহিদা অনুসারে ওষুধ কিনে নিজ দেশে ফিরে যায়। এ ক্ষেত্রে অনেকে নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় নিজ নিজ দেশের ডাক্তারের পরামর্শপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে না পারায় তারা বাংলাদেশে এসে এখানে একাধিক হাসপাতালের হেপাটোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে তাঁদের পরামর্শপত্র নিয়ে পরে ইনসেপটা থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে দেশে ফিরে যায়।

ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ডা. ই এইচ আরেফিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর বিশ্বে এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৭০ মিলিয়নের বেশি। কিন্তু ওষুধের বেশি দামের কারণে এত দিন এ ভাইরাস থেকে রক্ষা করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমরা আমেরিকার ওই কম্পানির জেনেরিক ফর্মুলায় একই ওষুধ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে বাজারে ছেড়েছি। তাই এখন সারা বিশ্ব থেকে খবর পেয়ে মানুষ এ ওষুধের জন্য বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে, যা আমাদের দেশের জন্য একেবারেই বিরল ঘটনা। ’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 371 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ