চেক প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন

Print

ধরুন, আপনি একজন ব্যবসায়ী। আপনি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একজনের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করলেন। ক্রেতা আপনাকে নগদ টাকা না দিয়ে চেক দিয়েছেন। আপনি চেক নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যাংকে টাকা ওঠাতে গেলেন, দেখতে পেলেন হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। আপনি সেই ক্রেতাকে টাকার জন্য বারবার ফোন দিচ্ছেন, কিন্তু আপনাকে টাকা না দিয়ে ঘোরাচ্ছে। সে রকম হলে আপনি ধরে নিতে পারেন, আপনি চেক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

চেক প্রতারণার শিকার হলে কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন তা জানলে খুব সহজেই আপনি পাওনা উদ্ধার করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনারের স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। স্লিপে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে চেক ডিজঅনার হয়েছে কি না, খেয়াল করুন। এর ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ দেবেন। এরপরও আপনার টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করতে পারেন।

মামলা করার পর আদালত থেকে বিবাদীকে সমন জারি করা হয়ে থাকে। সমন জারির পর যদি বিবাদী আদালতে হাজির না হন, তাহলে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরেও যদি বিবাদীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারে, তাহলে বাদী বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করতে পারবেন। তাতেও যদি বিবাদী আদালতে না হাজির হন তাহলে বাদী জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মামলার কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

সে ক্ষেত্রে বিবাদীকে পলাতক দেখিয়ে আদালত মামলার রায় দেবেন। আদালত  সবকিছু পর্যালোচনা করে আসামিকে এক বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দ্বিগুণ টাকা জরিমানা করেন। আর রায়ের পর আসামি গ্রেপ্তার হলে অর্ধেক টাকা আদালতে জমা দিয়ে ৩০ দিন আপিলের শর্তে জামিন পাবেন।

এ ছাড়া আইন না জানার কারণে প্রতারণার শিকার অনেকেই থানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। এ আইনে মামলা করে তাঁরা কোনো দিনও টাকা উদ্ধার করতে পারেন না। শুধু এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করলে আপনি আপনার টাকা পেতে পারেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 145 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ