জঙ্গি শক্তির আসল রহস্য ভেদ করা প্রশাসনের দুর্ভেদ্য নয়!!

Print

সাম্প্রতিকতম সময়ে রাজধানীর আশকোনায় আত্নঘাতী হামলা,মীরসরাই, সীতাকুন্ডে ভয়ংকর মিশনে এসব জঙ্গি তৎপর। মধ্যপ্রাচ্য বসে আইএস স্বীকার করে দায়,খবর দিলো বিবিসি,বড় বিচিত্র নমুনা।

টকশোতে বসে আমাদের সুশীল সমাজ মুখে বুলি আওড়ায় এসব বিছিন্ন ঘটনা, ভয় পাবার কিছু নেই।

অথচ বুঝতে চায়না এসব ঘাতকের আগাতের দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আর কতো প্রান দেবে। পেট্রোল বোমা হামলা কিংবা জালাও পোড়াও আন্দোলন নয়তো হলি আর্টিজানে পুলিশের এসি,পুলিশ সদস্য মিলে প্রায় অর্ধশত সাহসী সরকারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রান গেলো।

আমরা কি ভেবেছি কখনো তারাও তো আমাদের ভাই। দেশের জন্য তারা নিজেদের জীবন দিয়েছে। তাদের মা মা বাবা বোন ভাইসহ আত্বীয়রা কি শান্তনা পাবে!!আর কতোজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় গড়াগড়ি দেবে,এ প্রশ্ন আমাদের।

আইএস বা জঙ্গি নয়তো জেএমবি যত বিঘ্ন ঘটালো দেশে,তার প্রতিটি অপরাধে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ,কাউন্টার টেরিরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা জোর সাফল্য দেখালেও ওদের বেশির ভাগ সফলতা চাপা পড়ছে, এসব নিষিদ্ধ জঙ্গি কার্যক্রমের একের পর এক আত্নঘাতী হামলায় কিংবা জঙ্গি অপারেশনের পর সচিত্র প্রমান ও তথ্য খোলাসা না হবার কারণে।

গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারী,শোলাকিয়া ঈদের দিনে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা নিখুত অভিযানে নব্য ধারার জেএমবির বেশির ভাগ নেতা নিহত হন। তামিম চৌধুরী,নুরুল ইসলাম মারজান,আব্দু রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান,মেজর জাহিদুল ইসলাম সহ ৩৫জন মতো জঙ্গি নিপাত। সরকারের খাচায় অনেকে বন্দি রয়েছে মুফতী হান্নানের মতো বোমাবাজ। যদিও প্রশাসন দাবি করে ৭০% শক্তি হয়ে গেছে জঙ্গিদের।

চট্রগ্রামের খোয়াজনগর ট্রাজেডি, হাটহাজারির মতো গহীন পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে সাবেক এসপি বাবুল তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো প্রশাসনে। চট্রগ্রাম তথা কক্সবাজার জেলায় অসংখ্য জঙ্গি রোধে সফল অপারেশন  চালিয়ে জঙ্গিদের মুখ তুবড়ে দিলেও নতুন করে ভিন্ন কৌশলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অনেকটা ভয়ংকর সব হামলা যা দেশে একদম নতুন স্টাইলে। উত্তরায় শেষ না হতেই আবারো খিলগাওতে বোমা বিস্ফোরণ কি ইংগিত দেয় তারা। এসব কি বিছিন্ন ঘটনা বলে মনেহয়,না সুপরিণত আর সুপরিকল্পিত জঙ্গি হামলা!!

জঙ্গিরা অপরাধীরা, তারা আইএস হোক, জঙ্গি হোক কিংবা জেএমবি তবে আমাদের চোখে তারা ভয়ংকর  অপরাধী।তাদের সকলের টার্গেট নিরীহ মানুষ আর প্রশাসনকে দুর্বল করার গোপন মিশন।কেননা রেবের হাতে তাদের বেশির ভাগ জঙ্গি নিহত হন তার বদলাও বলা যায় কৌশল দেখে।

জঙ্গিরা যদি তাদের কৌশল পাল্টিয়ে আত্নঘাতী হামলা করে তবে প্রশাসন দুর্বল কিসে। তাদের ও চ্যালেন্জ নিয়ে নতুন কৌশলে সামনে এগুতে হবে। নতুন নতুন ইউনিট করতে হবে ৮টি বিভাগে স্পেশাল ফোর্স। কেননা সিলেট থেকে ১৬ঘন্টা পর  সেনা কমান্ডো  না এনে ঢাকায় তৈরি করতে হবে কমান্ডো। কেননা তাৎক্ষনিক যদি শুলশানে প্রশাসনের অপারেশন হতো তবে ১৮টি প্রান যেতোনা। ঢাকা থেকে সোয়াদ গাড়ি বহরে মীরসরাই, সীতাকুন্ড না এসে বিমানে তাৎক্ষনিক আসলে ৫টি প্রান বাচানো সম্ভব হতো। প্রশাসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতো। সুতরাং সব বাহিনীতে স্পেশাল ফোর্স জরুরী,অত্যধুনিক বাহিনীই পারে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে প্রবেশ করে একটা দেশের ভেতর থেকে লাদেন কে কিলিং করতে(ভিন্নমতে নেবেন না)।

আমাদের সামনে এগুতে হবে নতুন কৌশলে। টার্গেট করতে হবে দুটি বিষয়। যে দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জঙ্গিরা নিষ্ক্রীয় হবে বলে মনে করি।এক,অর্থ লেনদেনের উপর ব্যাংক,বিকাশ,হুন্ডিদের তালিকা করে গোপন অভিযানে নামা। দুই, জঙ্গিদের শক্তির উৎস বোমা তৈরির উপাদান কোন পথে কিভাবে চালান হয় দেশে। তার সঠিক পরিসংখ্যান শক্ত হাতে দমন।

এই দুটি ভিত্তিপ্রস্তর প্রথমে ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে হবে। দরকার হবে শ খানিক সাবেক এসপি বাবুলের মতো সাহসী পুলিশ অফিসার। যিনি কিনা প্রতিটি অপারেশনে জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশকে কিছু দিতে চেয়েছিলো নিরাপদ শহর।

আমাদের জানা দরকার,বোমা তৈরির উপাদান কি কি?তথ্যমতে,বোমা তৈরির  সালফার ও পটাশিয়াম নাইট্রেট এদেশে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। শিল্পায়নের জন্য আমদানিকৃত বিস্ফোরক ব্যবহৃত হচ্ছে বোমা, গ্রেনেড, ককটেল, চকলেট বোমা ও আতশবাজি তৈরিতে। আর ঢাকা,চট্রগ্রামে শত শত অবৈধ কেমিক্যাল গোডাউনে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির উপাদান সালফার ও পটাশিয়াম নাইট্রেট। ফলে ঢাকা,চট্রগ্রাম নগরী এখন পরিণত হয়েছে বিস্ফোরকের মরণফাঁদে। রাজধানী থেকে এসব বিস্ফোরকের গুদাম সরিয়ে নেয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা থমকে আছে। তাছাড়া রাজধানীতে যে পরিমাণ বিস্ফোরক গুদাম রয়েছে তার অধিকাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ৯৯৪টি বিস্ফোরক গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬৭টি গুদামের কোনো লাইসেন্স নেই। কিন্তু প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এসব গুদামে বিস্ফোরক পদার্থ মজুদ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। মাঝে মধ্যেই এসব অবৈধ বিস্ফোরক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে। তাতে প্রাণহানীও হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধ বিস্ফোরক গুদামগুলোকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা ১৫ দফা সুপারিশ জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব অবৈধ বিস্ফোরক গুদাম থেকে সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও অবৈধ বোমা ব্যবসায়ীরাও সহজেই বোমায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে পারছে।

এমনকি জঙ্গিরাও অবৈধ বিস্ফোরক গুদাম থেকে বিস্ফোরক কিনে গ্রেনেড তৈরির কাজে ব্যবহার করছে বলেও গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। নাহয় তারা কোন পথে,কোন দেশ হতে এসব  উপাদান নিয়ে আসে।তাদের হাতে নেই কোন আলা দিনের চেরাগ। তবে একটি মাত্র মুলমন্ত্র তাদের সহায়ক বলে মনেহয়,গ্রামের কিছু অসহায় মানুষকে টাকার লোভে ব্রেইন ওয়াশ করে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা মাথায় গুজিয়ে দিয়ে জিহাদ করা বা আত্নঘাতী বানানোর ট্রেনিং দিচ্ছে। তারপর মাঠে ছেড়ে দিচ্ছে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে। আরেকটি বিষয় অবশ্যই লক্ষণীয় যে তাদের টার্গেট সরকারি বাহিনী কেনো? তারা কি চায়,পাকিস্তান, ইরাক,লিবিয়া,ইসরাইল,মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলো কি পেয়েছে? সুতরাং অন্ত:সারশুন্য দেশের বারটা বাজিয়ে  কি এমন বাহাদুরী তাদের।

হয়তো সরকারকে চাপে পেলতে চায় কিংবা বহির্দেশের চাপে সরকারকে উৎখাত করতে চায়। তবে এটা কি এতোই সহজ একটা দেশের উপর অন্য দেশের মাতব্বরী। রোহিঙ্গা নির্যাতনে   মিয়ানমারকে সারা পৃথিবী কি করতে পেরেছে। এতো মানবাধিকার ও বিশ্বের বাঘাবাঘা সঃস্থার প্রতিবেদন কি নজরে নিয়েছে মিয়ানমার?

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায়  ৫০% রোহিঙ্গা জড়িত কোন না কোন ভাবে। কারন তাদের ৭লাখ মতোতো জনগনের চাপটা চট্রগ্রাম,বান্দরবন,কক্সবাজারের প্রশাসনের ঠিকেই বুঝতেছে।

ইসলাম কি এতোই সহজ,কয়েকটি হামলায় ধর্ম জেগে ওঠবে বা দেশে নিষিদ্ধ সংঘটন পতাকা উড়াবে। আগামী ২০০বছরেও  সম্ভব কিননা জানিনা।তবে এটা জানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব পুলিশ ও সরকারি বাহিনী নিহত ও আহত হয়েছে তারাই শহীদ আর গাজী।এতে কোন সন্দেহ নেই।

অন্যদিকে সুত্র আরো জানা যায়,বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় রাসায়নিক ও বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রেতা ও আমদানিকারক রয়েছে ৯৯৪ জনের চেয়ে বেশি । এর মধ্যে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১২৭টি। আর ৮৬৭টি গুদামে লাইসেন্সবিহীনভাবে বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল মজুদ করে ব্যবসা করা হচ্ছে। এসব অবৈধ বিস্ফোরকের গুদামগুলো রয়েছে রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে তেজগাঁওয়ে রয়েছে ৩১টি গুদাম, মিরপুররে ৬৬টি, হাজারিবাগে ২০৯টি, শ্যামপুরে ৪৩টি, ডেমরায় ১৬টি, বিমানবন্দরে ১টি, বাড্ডায় ৩টি, রমনায় ৪২টি, লালবাগে ৮৭টি, কোতোয়ালিতে ৩৬১টি, নিউমার্কেটে ১টি, খিলগাঁওয়ে ২টি, দক্ষিণখান ও উত্তরখানে ১টি এবং উত্তরায় ২টি।

তাছাড়া রাজধানীতে লাইসেন্সধারী বিস্ফোরকের যেসব গুদাম রয়েছে তার মধ্যে রমনা এলাকায় রয়েছে ৩২টি, সবুজবাগে ১টি, খিলগাঁওয়ে ৪টি, মতিঝিলে ৩টি, বাড্ডায় ১টি, উত্তরখান ও দক্ষিণখানে ২টি, তুরাগে ৬টি, উত্তরায় ১টি, মিরপুরে ৩৭টি, তেজগাঁওয়ে ৩৪টি, হাজারিবাগে ১টি এবং শাহবাগে ১টি। চট্রগ্রামে রয়েছে পাহাড়তলী,বাদামতলী,আলকরণ,আন্দরকিল্লা,এনায়েতবাজার,লালখান বাজার,আগ্রবাদ,মুরাদপুর এসব গুদামে সালফার ও পটাশিয়াম নাইট্রেটের বিপুল মজুদ রয়েছে। এসব রাসায়নিক ও বিস্ফোরক ম্যাচ ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র আরো জানায়, রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক গজিয়ে উঠছে অবৈধ বিস্ফোরকের গুদাম। আর তা থেকে দুর্বৃত্তরা সহজেই বিস্ফোরক সংগ্রহ করছে। অনুমোদনহীন বিস্ফোরক গুদামের মালিকরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে রাজনৈতিক ব্যানারে। এজন্য প্রশাসন জেনেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাছাড়া বিস্ফোরকের গুদাম নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও নেই। ফলে আবাসিক এলাকাতেই গড়ে উঠছে একের পর এক বিস্ফোরক গুদাম। যদিও নিয়মানুযায়ী এ ধরনের গুদাম করতে হয় আবাসিক এলাকার বাইরে এবং যেখানে দমকল বাহিনীর গাড়ি সহজেই প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু ঢাকার বিস্ফোরক গুদামগুলোর ক্ষেত্রে তার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। যদিও আবাসিক এলাকা থেকে বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও বর্তমানে তা স্থবির হয়ে আছে। এ বিষয়ে সরকারের সুনজর দরকার আমার মতে।

এদিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রাইসেল বা ব্যাটারি কারখানা, নকল ওষুধ তৈরির কারখানা, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ তৈরির কারখানা, পলিথিনের দানা, প্লাস্টিক সরঞ্জাম, নকল বৈদ্যুতিক তার, আচার, চকোলেট, বিস্কুট তৈরির কারখানা, বেকারি, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, সুগন্ধি আতর তৈরির কারখানা, আতশবাজি, পটকা, সাইকেল, খেলনা, নকল কসমেটিকস, গহনা, জুতা-স্যান্ডেল তৈরির কারখানা, রাবার ফ্যাক্টরি, রঙ, সলিউশন (গাম) তৈরির কারখানা, বি¬চিং পাউডার, ওয়াশিং সামগ্রী, সালফার, পটাশ, ফসফরাস, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, ইথানল, মিথাইল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ফরমালডিহাইড, এডহেসিভ বা সলিউশন, তারপিন, গান পাউডারসহ নানা রকমের কারখানা রয়েছে।যেখানে প্রতিনিয়ত নানা কেমিকেল আমদানি করে পাচার করছে নিষিদ্ধ সংঘটনের কাছে,এমন তথ্য ও শুনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি গোয়েন্দা ও পুলিশ বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা থেকে বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল গুদামগুলো সরিয়ে নেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না কেনো তার সঠিক জবাব নেই কারো কাছে।

জনস্বার্থেই দেশের সব শহরে সেফটি সার্টিফিকেট অথবা লাইসেন্সবিহীন এসব গুদামে অভিযান চালানো জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা নাহলে ইতিপূর্বে কেমিক্যাল গুদাম থেকে রাজধানীর নিমতলীতে যে ট্র্যাজেডির ঘটনা ঘটেছে, সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া গত মাসে পুলিশ রাজধানীর শাখারি বাজার থেকে ২ ট্রাকভর্তি চকলেট বোমা উদ্ধার করে। এসব বোমা ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা দেশে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা করছিল। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার জনবহুল এলাকার বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল গুদামগুলোর দিকে বিস্ফোরক অধিদফতর ও দমকল বাহিনীর আরো নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের পক্ষে সবই সম্ভব নয়, যদি না জনগন সহায়তা না করে। এখন দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে পুলিশের মোবাইলে,অ্যাপসে,মেইলে বা সরাসরি তথ্য দিতে পারেন। তথ্যদাতার নাম সারা জীবন গোপন থাকবে।

অন্যদিকে  পাশাপাশি রাজধানী থেকে অবৈধ বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল গুদামগুলোর বিরুদ্ধে লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাও সোচ্চার। তাদের মতে, এসব গুদামের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সহযোগিতা করবে। যদিও দমকল বাহিনী অনেক দিন ধরেই কেমিক্যাল গুদামের কোনো লাইসেন্স দিচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে দমকল বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, খুব তাড়াতাড়িই রাজধানীর জনবহুল এলাকায় অবস্থিত কেমিক্যাল গুদামগুলোতে বড় ধরনের অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। আর যে কোনো বিস্ফোরক ও কেমিক্যাল গুদামের লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব বিস্ফোরক অধিদফতরের। তবে এক্ষেত্রে দমকল বাহিনীর কিছু সুপারিশ থাকে।

বোমা তৈরিতে উপাদান সালফার ও পটাশ, পটাশিয়াম নাইট্রেট, বারুদ  এর সঙ্গে পেরেক, জালের কাঠি, কাচ,মার্বেলের টুকরো ও লোহার টুকরো ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী করতে অনেকে গুলিও দেয়। একশ’ গ্রাম পটাশ ও একশ’ গ্রাম সালফারে অন্তত ৩০টি হাতবোমা তৈরি করা হয়। তাছাড়া ককটেল ও তৈরী করা যায়

বর্তমানে এসব উপাদানে। অন্যদিকে এসব জঙ্গিদের সাথে ইন্টারন্যাশনাল কোন চক্র জড়িত রয়েছে যারা অস্ত্র ও টাকার যোগার দেন। না হয় হাটহাজারিতে সাবেক এসপি বাবুল উদ্ধার করেছিলেন আমেরিকার তৈরি স্লাইপার মেশিন নামে অত্যাধুনিক অস্ত্র। যা দেশের আর্মিরা ও নাকি চালাতে পারতোনা।

এতে প্রমানিত হয় তারা বিছিন্ন নয়,তবে গ্রুপে গ্রুপে বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় নীরব ভুমিকায়।  রেড সিগন্যাল বা হলুদ সিগন্যালে নড়াচড়া করে, রিমোট অবশ্যই রয়েছে কারো না কারো হাতে। এসব প্রতিরোধে প্রতিটি জেলায় যেসব ছেলে,মেয়ে,নারী,পুরুষ মিসিং বা নিখোজ রয়েছে। ৭ দিন নিখোজ থাকলে তাদের তালিকা ডিজিটাল ব্যানারে প্রতিটি শহরে ছবিসহ প্রদর্শন করা জরুরী। এতে সহজেই দেশের ভেতরে লুকিয়ে থাকলে নজরে আসবে প্রশাসনের। জঙ্গিদের জন্য  এ দেশ স্বাধীন করা হয়নি,১টাকার ছাগলে কোটি টাকার বাগান ধ্বংস করতে পারবেনা যদি জনগণ জেগে ওঠে।

পুলিশ বা সরকার নয়,জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার আমাদের গ্রামে গ্রামে অপরিচিত লোকদের প্রশ্ন করুন। সন্দেহ হলে পুলিশের সাহায্য নেন। আমাদের প্রিয় দেশ আমাদের রক্ষা করতে হবে সকলের। জঙ্গিদের দোষ কোন দলের উপর নয় বরং অপরাধীর দৃষ্টিতে তাদের দমন করি। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে নজর বাড়ানো দরকার প্রশাসনের। সর্বাধিক ক্ষমতা সমপন্ন বাহিনী তৈরি করে ঝুকি ভাতা বাড়িয়ে কার্যকর ভুমিকা পালনে সরকারের ভূমিকা দেখতে চাই।

আমরা দেশের জন্য ৫২,৬৯,৭১সালে অনেক কিছু ত্যাগ স্বীকার করেছি। জঙ্গি দমন আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই!!জঙ্গিদের মুল শিকড় উপড়ে ফেলা আমাদের জন্য দুর্ভেদ্য নয়,সময়ের ব্যাপার।

জামাল জাহেদ  সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

jamaljahed78@gmail.com

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 180 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ