জবিতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত

Print

ছাত্রী উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার ও বিজ্ঞান বিভাগের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, শত্রুতার জের ধরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে পরিসংখ্যান বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুকিত হাসান নিয়নকে মারধর করেন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আনিসুর রহমান শিশিরের কর্মীরা। এ সময় নিয়ন আত্মরক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর বিভাস কুমার সেখানে নিয়নের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় কার্যালয়ের বাইরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে শিশিরের (বহিষ্কৃত) কর্মী আশিক আবির তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক স্বাধীন আহম্মেদ বাদশা ও নবীন আহম্মেদ প্রতিবাদ করেন। এ সময় ছাত্রলীগকর্মী আশিক আবির, পলাশ, নাদিমসহ ২০ থেকে ২৫ জন তাঁদের মারধর করেন। পরে বাদশা ও নবীন পক্ষের নেতাকর্মীরা এসে তাঁদের ধাওয়া দেন। এ ঘটনায় নিয়ন, বাদশা, হাসান আহত হন। তাঁদের মধ্যে নবীনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেলা ৩টার দিকে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা আশিক আবির, পলাশ ও নাদিমকে ধরে প্রক্টরের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তিনজনকে কান ধরিয়ে বসানো হয়।
মারধরের শিকার মুকিত বলেন, ‘আমি আমার এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলি। সেই মেয়েকে প্রতিনিয়ত আশিক আবির বিরক্ত করে। আমি তাকে নিষেধ করেছি। সেই ঘটনার জের ধরে তারা আজ আমাকে মারধর করে।’
আনিসুর রহমান শিশির ও তাঁর কর্মী আশিক আবিরসহ অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ফাও খাওয়া, নারী নির্যাতনসহ সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।
জবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক স্বাধীন আহম্মেদ বাদশা বলেন, ‘শিশিরের কর্মী আশিক আবির ও তাঁর সহযোগীরা মিলে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল। এ সময় আমি ও আমার বন্ধুরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে।’
এ বিষয়ে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এরা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে, তারা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না। এরা ছাত্রলীগের বদনাম করার জন্য অনুপ্রবেশ করেছে। ছাত্রলীগের ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’ এ সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মারামারির ঘটনা আমরা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আনিসুর রহমান শিশিরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিশির জবি ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 83 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ