জবি ছাত্রলীগের কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী-বহিষ্কৃতদের দৌঁড়ঝাপ

Print

কে আসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতৃত্বে? এমন প্রশ্নের উত্তরে শীর্ষ দুই পদে বিতর্কিত-মাদক ব্যবসায়ী ও স্থায়ী বহি:স্কৃত নেতারা আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। নেতৃত্ব পেতে তারা সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের ধরনা দিচ্ছে। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ১০ জুলাই যশোর ছাত্রলীগের সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন ‘ছাত্রলীগে কোন বিতর্কিত-মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান হবে না’। এরপর বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বারবার একই কথা বলেছেন।
এদিকে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর গত ৩০ মার্চ সম্মেলন হলেও এখন পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসার আলোচনায় আছেন সদ্য সাবেক হওয়া কমিটির সাংগঠনিক সাইদুর রহমান জুয়েল, সহ-সম্পাদক সাইফুল্লাহ ইবনে আহমেদ সুমন, যুগ্ম-সম্পাদক (মৌখিক) তরিকুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম টিটন, হারুনুর রশিদ, আপ্যায়ন সম্পাদক (মৌখিক) শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর রহমান খান, জহির রায়হান আগুন, সুরঞ্জন ঘোষ, শামীম রেজা, মো. ইব্রাহিম ফরাজী, প্রচার সম্পাদক আনিসুর রহমান শিশির এবং নুরুল আফসার।
তবে আলোচনার শীর্ষে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক (মৌখিক) জয়নাল আবেদিন রাসেল মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা যায়। ২০১১ সালের ২৬ আগস্ট ৫২২ পিস ইয়াবা নিয়ে পল্টন থানায় ধরা পড়ে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) এর ৯ (খ) ধারায় ৫৩ দিন জেল হাজতে ছিলেন। ইয়াবাগুলো রাসেলের প্যান্টের ডান পকেট থেকে উদ্ধার করা হয় বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মুচলেখা নিয়ে জামিন নেন তিনি। এছাড়া অপর এক চাঁদাবাজি মামলায় আরও ২০ দিন জেল হাজতে ছিলেন রাসেল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাসেল নিজেকে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ এক নেতার পশ্রয়ে আছেন বলে পরিচয় দেয়। আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতার কাছের ‘লোক’ বলেও নিজেকে পরিচয় দেন। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অবস্থানের ‘ক্লোজ’ ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করে রাসেল।
আলোচনার শীর্ষে থাকা তরিকুল ইসলাম বিতর্কিত সোহাগ-নাজমুল কমিটির কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশেপাশের ফুটপাত ও পরিবহন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায়। সে নিজেকে জবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিলেও গত কমিটির তালিকায় কোথাও তার তাম খোঁজে পাওয়া যায় নি। গত ২৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট বলে দিয়েছেন তার ‘যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক’ পদ তারা অনুমোদন দেননি।
সাইফুল্লাহ ইবনে সুমনও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জন্য জেল কেটেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পেটানোসহ মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজার বিরুদ্ধে কতোয়ালি থানায় অস্ত্র মামলা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে টেন্ডার অদায়, ভর্তি বাণিজ্যসহ চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
সাইদুর রহমান জুয়েলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রনেতা হওয়ার বয়স শেষ হয়ে গেছে। আর যাদের বিরুদ্ধে সদরঘাটে নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তারা হলেন- ইব্রাহিম ফরাজী, সুরঞ্জন ঘোষ, আফসার, টিটন।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, অভিযুক্ত কাউকে ছাত্রলীগের কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না। এছাড়া ছাত্রলীগের কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি যত দ্রুত সম্ভব ঘোষণা করা হবে বলেও জানান জাকির।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1240 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ