জাবিতে মশানিধনকারী বিষ না ছিটানোয় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি; ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা

Print


আরিফুল ইসলাম আরিফ,জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মশানিধনকারী বিষ না ছিটানোয় অতিরিক্ত হারে বেড়েই চলছে মশার উপদ্রব। দিন দিন মশার ভয়াবহ উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
শিক্ষার্থীরা মশার ভয়াবহ উপদ্রবে মশা বাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কয়েল কিংবা এ্যারোসলে কাজ না হওয়ায় রাতের পাশাপাশি দিনেও মশার জ্বালায় হল রুমে মশারী টাঙ্গিয়েও পার পাচ্ছেন না তারা। প্রতিদিন সকাল, বিকেল কিংবা রাত সবসময় শিক্ষার্থীদের এখন লড়তে হচ্ছে মশার সাথে। রাত আর দিন এখন মশার ভয়াবহ উপদ্রব ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসের সর্বত্রে। ড্রেন, নর্দমা ও জলাশয়গুলোতে অতিরিক্ত আবর্জনার কারণে মশার উপদ্রব অতিমাত্রায় হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দিনের বেলায় যেমন তেমন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই শুরু হয় মশার ভয়াবহ আক্রমন। পুরো ক্যাম্পাসের অধিকাংশ জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল। ড্রেন, লেকগুলো অপরিস্কার। তাছাড়া যেখানে সেখানে পড়ে আছে ময়লা। ফলে যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনার স্তূপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে দিন দিন মশার প্রকোপ বেড়েই চলছে। মশা নিধনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিশেষ কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী কনক দত্ত ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, পুরো ক্যাম্পাস এখন মশার রাজ্যে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন মশার কামড়ে অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি। মশার উপদ্রবে পড়ালেখা করতে পারছি না। পড়তে বসলেই মশার কামড়, তখন বইয়ের সাথে লড়াই না করে মশার সাথে লড়াই করতে হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের অনুপ রায় বলেন, মশার কামড়ে অতিষ্ট আমার ক্যাম্পাস জীবন। মশার কামড়ে রাতে ঘুমাতেও পারি না। কি দিন কি রাত সারাক্ষণ মশার অত্যাচার। মশা পড়াশোনায় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। মশার উপদ্রব থেকে দ্রত বাচঁতে চাই। সে জন্য আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
প্রশাসনের নানা গাফিলতির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের অবহেলা, অসচেতনায় ক্যাম্পাসে এরকম মশার উপদ্রব। লাইব্রেরিতে পড়তে বসলেই মশার কামড়। হল রুমেও শান্তি নাই, লাইব্রেরিতেও শান্তি নাই। যেখানেই যাই চারিদিকে মশা আর মশা। এভাবে তো ক্যাম্পাসে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা ক্যাম্পাস ময়লা-আর্বজনার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। ড্রেন, লেক, পুকুরগুলো অপরিস্কার। ক্যাম্পাসের কোথাও পরিষ্কার জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না। দ্রুত এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে চাই আমরা। এভাবে আর চলতে পারে না। গতবছর এই সময়ে দুইবার মশানিধনকারী বিষ ছিটানো হলেও এবার এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, নানাবিধ সমস্যার কারণে এবছর এখন পর্যন্ত মশানিধনকারী বিষ ছিটানো সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুত মশা নিধনের জন্য বিষ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 120 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ