জাবির প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন ময়লা আর্বজনায়

Print


আরিফুল ইসলাম আরিফ,জাবি প্রতিনিধি:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে রাজধানী হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সম্প্রতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা আর্বজনা ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। শুধু তাই নয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সবুজ ছায়াবীথির সমাহার দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ^বিদ্যালয়টিতে কেবল ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করাই হচ্ছে না বরং প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশও বিনষ্ট করা হচ্ছে। শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের একরকম অসচেতনতা ও অবহেলায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ময়লায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
ক্যাম্পাসজুড়ে ময়লা-আর্বজনায় পরিবেশ দূষণ হওয়ার কারণ খুজঁতে গিয়ে জানা গেল, প্রতিদিন বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অপেক্ষাকৃত বেশি দর্শানার্থী ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে। এক রকম বিনোদন পার্ক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় তারা ভোজনের আয়োজন করে। খাবার শেষে খাবারের উচ্ছিষ্ট্য অংশ ক্যাম্পাসের যত্রতত্র ফেলে চলে যায়। ফলে দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া খাবারের উচ্ছিষ্ট্য অংশ, পানির বোতল, প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক, বিভাগ ও সংগঠনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পর ফেলা খাবারের প্যাকেট, দোকানদারদের ফেলা আবর্জনায় প্রতিনিয়ত নোংরা হচ্ছে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস পরিষ্কারের দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের কর্মকতার্রা থাকলেও একরকম অবহেলা ও খামখেয়ালীর ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিনিয়ত ময়লারস্তুুপ বেড়ে চলছে। এতে করে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের চারিদিকে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন লেকগুলোতে বিভিন্নধরনের ময়লা ফেলার কারণে লেকের পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ পয়েন্ট ও চত্বরে জমে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অমর একুশে ভাস্কর্য, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও বটতলা এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে আছে কাগজ, খাবারের উচ্ছিষ্ট্য অংশ, পলিথিন, চিপসের মোড়ক, কোমল পানির বোতলসহ নানা আবর্জনা। বিভিন্ন গাছের বাগান ও সবুজ অরন্যেজুড়ে আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘ আমাদের সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস দিনে দিনে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। এটা কখনই মানা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা এটা মানতে পারছে না। ক্যাম্পাস এখন পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই ক্যাম্পাস বেশি নোংরা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।


বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা নুরুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ফেলা ময়লা-আর্বজনায় ক্যাম্পাস দ্রুত ময়লা হচ্ছে। আমাদের স্বল্প লোকবল দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করতে কুলিয়ে উঠতে পারছে না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লোকজন বাসা-বাড়ি ও দোকানগুলো থেকে নিয়মিত আবর্জনা নিচ্ছে না জানালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কো-অর্ডিনেটরদের সাথে কথা বলবো, কেন তারা ময়লা নিয়মিত নিচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 57 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ