জিততে হলে আজ যা করতে হবে টাইগারদের

Print

ঐতিহাসিক টেস্টকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করার লক্ষে বিশাল টার্গেটকে সামনে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়ে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল (৩), সৌম্য সরকার (৪২) এবং মুমিনুল হক (২৭)। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান।

জিততে হলে শেষ দিনে ৭ উইকেট হাতে রেখে বাংলাদেশকে করতে হবে আরো ৩৫৬ রান। ম্যাচ বাঁচাতে কাটিয়ে দিতে হবে দিনের কমপক্ষে ৯০ ওভার। পারবে বাংলাদেশ?
হায়দরাবাদের চতুর্থ দিনে অনুমিতভাবেই ইনিংস ঘোষণা করল স্বাগতিক ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভার ব্যাট করে দ্রুত ১৫৯ রান তুলে চা বিরতির সময় ইনিংস ঘোষণা করে কোহলি বাহিনী। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন টার্গেট ৪৫৯ রান।
এই বিশাল টার্গেট দেড় দিনে অতিক্রম করা শিশুসুলভ কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। তবে পঞ্চম দিন পর্যন্ত ব্যাট করে ম্যাচটি ড্র করতে পারে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৩৮৮ রানে চতুর্থ দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ। এছাড়া সাকিব ৮২ এবং মেহেদী মিরাজ ৫১ রান করেন। মুলত মুশফিক-মিরাজের জুটিই ভারতের জয়ের স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে করে দেয়।
এজন্যই ফলো-অন থেকে ১০০ রান পিছিয়ে অলআউট হলেও বাংলাদেশকে ফলো-অন করায়নি কোহলি বাহিনী। দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিককে আউট করে টেস্টে বিশ্বের দ্রুততম ২৫০ শিকারের রেকর্ড গড়েন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের তোপে পড়ে ভারত। ভারতীয় শিবিরে শুরুতেই বাংলাদেশের হয়ে জোড়া আঘাত হানেন তাসকিন। এরপর আবার জোড়া আঘাত হানেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ফেরানোর পর আজিঙ্কা রাহানেকে ফেরান এ স্পিনার। সরাসরি বোল্ড করেই তাকে সাজঘরে ফেরান সাকিব।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পূজারাকে সঙ্গে নিয়ে দলে হাল ধরেছিলেন ভারত অধিনায়ক কোহলি। ওয়ানডে স্ট্যাইলে ব্যাট করে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। সে জুটি ভাঙ্গেন সাবিকই। মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বর্তমান সময়ের সেরা এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান।
বাংলাদেশকে ২৯৯ রান দূরে রেখে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিনের বোলিং তোপে পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। চতুর্থ ওভারের প্রথম ইনিংসে শতক করা মুরালি বিজয়কে (৭) দ্রুত ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।
ডানহাতি এই পেসারের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে থামেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বিজয়। আর ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল (১০)।
এমনিতেই টেস্টে নিয়ম হচ্ছে, ২০০ রানের ব্যবধান থাকলেই ফলো অন করানো যায়। ভারতের ৬৮৭ রানের জবাবে ৩৮৮ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের সাহসী সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতেও লাভ হলো না। ভারতের প্রথম ইনিংস আর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যবধান ২৯৯। তবে, বাংলাদেশকে অলআউট করে দেয়ার পরও ফলোঅন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে ভারত।
এদিকে ফলোঅন এড়াতে ১৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের চতুর্থ দিনের শুরুটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা মুশফিক-মিরাজের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। কিন্তু কোহলির নিজে রীতিমত দুর্দান্ত এক সিদ্ধান্ত।
দিনের শুরুতেই বোলিংয়ে আনলেন এ ম্যাচে এখনো উইকেটের দেখা না পাওয়া ভুবনেশ্বকে। তাই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করলেন এই বোলার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দিনের প্রথম ওভারেই মিরাজকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে।
এরপর মুশফিককে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাইজুল। তবে রানের খাতা দুই অঙ্ক নিয়েই খেয় হারিয়ে ফেলেন তাইজুল। উমেশ যাদবের বাউন্সারে বসে পড়লেও হাতে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে। ফলে ৩৮ বলে ১০ রান করেই সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অসাধারণ ব্যাট করা মুশফিক। এরপর ৮ রান করে তাসকিনের বিদায়ের পর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুশফিকের ইনিংস শেষ হয় ১২৭ রানে। অশ্বিনের বলে ঋদ্ধিমান সাহাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 165 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ