জিপিএ ৫ পেয়েও ভর্তির নিশ্চয়তা নেই ভালো কলেজে

Print

023334Pic-22

প্রতিবছরই মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু ভালো ফল করেও অনেকের সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজনের তুলনায় বাড়ছে না সরকারি কলেজ। আর বেসরকারি ভালো কলেজের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। ফলে জিপিএ ৫ পেয়েও ভালো কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তা নেই শিক্ষার্থীদের। আর বেসরকারি নামি-দামি কলেজগুলোতে পড়তে হলে খরচ করতে হয় গাদা গাদা টাকা। তাই দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা যদি সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ না পায় তাহলে তাদের আর ভালো কলেজে পড়ার সুযোগই থাকে না।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফরিদপুর জেলা থেকে এবার পাস করেছে ১৪ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৩২ জন ও জিপিএ ৪ প্রায় সাড়ে চার হাজার। আশপাশের চারটি জেলা থেকেও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই শহরে পড়তে আসে। কিন্তু ফরিদপুর সদর উপজেলায় তিনটি সরকারি কলেজ থাকলেও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ১৯৯৫ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সুযোগ রয়েছে সরকারি ইয়াছিন কলেজ ও সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে। এই দুই কলেজ মিলিয়ে আসনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই হাজার। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ভর্তির সুযোগ পাবে না পছন্দের কলেজে। রাজধানীর চিত্র আরো ভয়াবহ। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরও ভালো কলেজে ভর্তি হতে চরম যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা দেশে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার। আর এতে আসনসংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। এর মধ্যে সরকারি কলেজের সংখ্যা ৩২০টি। তবে উচ্চ মাধ্যমিক রয়েছে ৩০০টি কলেজে। আর এতে একাদশ শ্রেণির আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অথচ এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৬০৫ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ ৪ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৬২ হাজার ১০০ জন। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ নেই।

সরকার প্রতিটি উপজেলা থেকেই  একটি কলেজ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেটাও এগোচ্ছে খুবই ধীরে। গত সাত বছরে মাত্র ৩০টি কলেজ সরকারীকরণ করা হয়েছে। এর বাইরে সরকার আরো ১১টির মতো সরকারি কলেজ স্থাপন করেছে। কিন্তু বেসরকারি কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তোলাটাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, রাজধানীতে ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি রয়েছে। এসব কলেজে মোট আসন আছে প্রায় ৪৫ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চাহিদামতো ভালোমানের কলেজ আছে প্রায় ৩০টি। এতে আসনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। অথচ ঢাকা বোর্ডেই জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৩৩ জন, যাদের বেশির ভাগই রাজধানীতে পড়তে চায়। এ ছাড়া জিপিএ ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে পেয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৫২৪ জন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের আসনের কোনো সংকট হবে না। অনেক আসনই এবার খালি থাকবে। তবে যে কটি কলেজ সুনাম অর্জন করেছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের নজর ওই দিকেই। তবে সরকার নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের জন্য কাজ করছে। এবার কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা নতুন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। গত বছরের মতো এবার পছন্দক্রম নয়, শিক্ষার্থীরা যে দশটি কলেজে আবেদন করবে সেই দশটিতেই তাদের মেধা তালিকা তৈরি হবে। আসন খালি থাকাসাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ পাবে। গতবার আগে আবেদন করে টাকা জমা দিতে হতো। এতে অনেক কলেজই শিক্ষার্থীদের জোর করে আবেদন করাত। তাই এবার আগে টাকা জমা দিয়ে পরে আবেদন করতে হবে।’

একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ : ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এবার সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। অনলাইন বা এসএমএসের মাধ্যমে আগামী ২৬ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ জুন। বিলম্ব ফি ছাড়া ১৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। আর বিলম্ব ফি দিয়ে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একাদশের ক্লাস শুরু হবে ১০ জুলাই।

চলতি বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের পাস করা শিক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ থাকছে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে .ীিরপষধংংধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। টেলিটকের মাধ্যমে এসএমএসে আবেদন করা যাবে। কোনো প্রতিষ্ঠানেরই হাতে হাতে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। গত বছর অনলাইনে একাধিকবার আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার সেই সুযোগ নেই। আবেদন করা যাবে একবারই। অনলাইনে আবেদন ফি ১৫০ টাকা। তবে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করতে প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিতে হবে। অনলাইনে কিভাবে আবেদন করা যাবে সে বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড নির্দেশনা জারি করবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। কলেজ চাইলে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে।

বিভাগীয় সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের ৮৯ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ১১ শতাংশ আসনের মধ্যে ৩ শতাংশ বিভাগীয় সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া এবার থেকে প্রবাসীদের সন্তান এবং বিকেএসপির শিক্ষার্থীদের জন্য শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তি ফি : মফস্বল ও পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনচার্জসহ সাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি ফি নেওয়া যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার টাকা, আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের কলেজ সর্বোচ্চ ১০ টাকার টাকা ভর্তি ফি নিতে পারবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 221 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ