জীবন দিয়ে হলেও মানুষের জন্য কাজ করব

Print

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও মানুষের জন্য কাজ করবেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবেন তিনি। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন, সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাবা-মা-ভাইসহ সবাইকে হারিয়েছি। এ দেশে ফিরে এসে আপনাদের মাঝেই আমার হারিয়ে যাওয়া মা-বাবা-ভাইদের ভালোবাসা ও স্নেহ ফিরে পেয়েছিলাম। আপনাদের জন্যই আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। প্রয়োজনে বাবার মতো নিজের জীবন দিয়ে হলেও আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাব। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।’ আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও জনগণের সেবা করার সুযোগ দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে, ভাষার মর্যাদা পেয়েছে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশের এত উন্নয়ন হচ্ছে। তাই আগামীতে যে নির্বাচনই আসবে, নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন। গতকাল মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরে জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে অনেকেই ক্ষমতায় এলেও জনগণের জন্য কিছুই করতে পারেনি। তারা দেশকে কিছু দিতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। তারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আর আওয়ামী লীগ
ক্ষমতায় এলেই কেবল মানুষ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। তিনি বলেন, নৌকা নূহ (আ.) নবীর সৃষ্টি। এই নৌকাই মানুষের জীবন রক্ষা করে। সত্তর সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আওয়ামী লীগই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে গোটা লক্ষ্মীপুরে আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালের ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি লক্ষ্মীপুর সফর করেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা হিসেবে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এলেও মাত্র আধঘণ্টার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পরে তাকে কাছে পেয়ে মানুষের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকাগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়।
বিকেলের এই জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই দলের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। লক্ষ্মীপুর ছাড়াও ভোলা, বরিশাল, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও হেঁটে জনসভায় যোগ দেন তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও। দুপুর নাগাদ মানুষের ভিড় জনসভাস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে পেঁৗছান। তিনি ৩২ মিনিটের বক্তব্যে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশে হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। ২১ বছর এ দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে শুরু করে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতন আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যার বিবরণও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে না। তারা শত শত কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক মা-বাবা ও অভিভাবককে বলব, নিজ নিজ ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাতে হবে। মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকলেও কেউই ভারতের কাছ থেকে এক লিটার পানিও আনতে পারেনি। স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমার অধিকার আদায় করতে পারেনি। আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় এসে গঙ্গা পানি চুক্তি করেছে। স্থলসীমা চুক্তির বাস্তবায়ন ও সমুদ্রসীমার অধিকার আদায় করেছে।
লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম, সেগুলোর কাজ যাতে দ্রুত ও ভালোভাবে শেষ হয়_ সেদিকে আপনারাই খেয়াল রাখবেন। প্রতিটি উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দেবো। প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে রাস্তাঘাট করে দেবো। ইউনিয়ন থেকে উপজেলায় যোগাযোগের রাস্তা করে দেবো, যাতে কাউকে আর কাদার মধ্যে হাঁটতে না হয়।’
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিঙ্কুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তরীকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম, স্থানীয় এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল, অ্যাডভোকেট নূরজাহান মুক্তা ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের প্রমুখ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ