জয়ী হলেও কাজ করবো, না হলেও করবো

Print

ছোট পর্দার মিষ্টিমুখ সুইটি এবার শিল্পী সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন। সামিল হয়েছেন ভোটের লড়াইয়ে। আগামীকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। লড়ছেন সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রার্থী হয়ে। যেখানে সুইটির প্রতিদ্বন্দ্বী আরো ছয় জন। তবে নিজের ব্যাপারে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী এ অভিনেত্রী। জয়ী হওয়ারই আশা ব্যক্ত করেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন রাজধানীর মগবাজার মিডিয়া গলিতে। সেখানেই বসে নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানালেন সুইটি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগে নির্বাচন হোক। তবে আমি খুব আশাবাদি। জয়ী হবো। সবার কাছে ভোট চেয়েছি। এখন তো সবাই বলছেন দেবেন। নির্বাচনে জিতে নাটকের জন্য কি করতে চান জানতে চাইলে সুইটি বলেন, জয়ী হলেও কাজ করবো, না হলেও করবো। আমাদের নাটকের অবস্থার কথা কারোর অজানা নয়। দর্শক এখন টিভি দেখেন না। পাশের দেশ ভারতের চ্যানেল নিয়ে মাতামাতি তাদের। মূলত দর্শক ফেরানোর জন্য কাজ করে যাবো। সবার আগে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে। এটা বন্ধ করলেই কী নাটকের বর্তমান সংকট শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সংকটের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অনেক অনেক সমস্যা। তবে বড় যেটা হলো অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন প্রচার। যার জন্য দর্শক দেশীয় নাটক দেখা থেকে সরে এসেছেন। এই জায়গাটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করতে চাই। আমরা যদি কাজ ঠিকঠাকভাবে করি তাহলে নাটকের সেই সোনালী অতীত ফিরে পাবো। আবারো ড্রইংরুমে দর্শক জমিয়ে টিভি দেখবেন। দেশীয় নাটক দেখবেন। এমন স্বপ্নই দেখি সবসময়। সুইটি তার ক্যারিয়ারের দুই দশক ধরে ভক্ত-দর্শকদের মানসম্পন্ন নাটক-টেলিছবি উপহার দিয়ে আসছেন। এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে তিনি অভিনয় কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। মাছরাঙা টিভিতে ‘হাউস ওয়াইভস’ নামের একটিমাত্র ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন কেবল। এ প্রসঙ্গে সুইটি বলেন, আমি আসলে কাজের সংখ্যায় নয়, মানে বিশ্বাসী। তাই কোনো কাজের প্রস্তাব পেলে পা-ুলিপি যাচাই করে নিই। পছন্দ না হলে তাতে অভিনয় করি না। তাই আগের থেকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। ১৯৯৫ সাল থেকে মঞ্চে কাজ করছেন সুইটি। সে সময় ধীরে ধীরে অভিনয়ে সফলতা পেতে যাওয়া এ মেয়েটি একদিন নাট্যজন আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘স্পর্ধা’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান। এরপর একে একে মঞ্চে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেন। ‘সময়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘কৃষ্ণ কান্তের উইল’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’, ‘এখনো ক্রীতদাস’ সহ জনপ্রিয় কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করে নেন সুইটি। মঞ্চ থেকে টিভি নাটকের ঝলমলে পথে হাঁটতে শুরু করেন কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই। অগনিত নাটকের পাশাপাশি কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুইটি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হলো ‘স্বপ্নের পৃথিবী’। এ ছবিটিতে তার অভিনয় চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়ায়। এরপর আবু সাইয়ীদের ‘বাঁশি’ ও কামরুজ্জামান কামুর ‘দ্য ডিরেক্টর’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়, মডেলিংয়ের পাশাপাশি সুইটি উপস্থাপনাতেও সপ্রতিভ। ২০০৯ সালে সেলিব্রিটি শো ‘লিজান হার্বাল একই বৃন্তে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উপস্থাপক হিসেবে দর্শকদের সামনে আসেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী। এরপর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করেন। অভিনয়ের আগে মিডিয়ায় তিনি মডেল হিসেবে পরিচিতি পান। প্রথমে তিনি ফিলিপস কোম্পানির ক্যালেন্ডারে মডেল হন। টিভি পর্দায় প্রথম বিজ্ঞাপনের মডেল হন ডায়মন্ড ব্যান্ড তেলের। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছিলেন আফজাল হোসেন। এরপর একে একে ‘নিরমা ডিটারজেন্ট’, ‘র‌্যাংগস টিভি’, ‘অ্যারোমেটিক বিউটি সোপ’সহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে দারুণ উপস্থিতি সুবাদে দর্শক হৃদয়ে মডেল হিসেবেও জায়গা করে নেন। ক্যারিয়ারটা লম্বা হলেও মাঝে সাত বছর বিজ্ঞাপনে কাজ করেননি সুইটি। অবশ্য নতুন বছরে একটি প্লাস্টিকজাত পণ্যের মডেল হয়ে আবারো নিয়মিত হয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনটিতে তরুণ মডেল কারার মাহমুদ সুইটির বিপরীতে কাজ করেছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 137 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ