ঝালকাঠিতে কেকা-হাফিজের মিত্রতা প্রকাশ্য শত্রুতায় পরিনত

Print

হাফিজ গ্রুপের সংবাদ সন্মেলন-কেকা গ্রুপের থানায় অভিযোগ ঝালকাঠিতে জেলা পরিষদ ও পৌরপরিষদের সদস্য কেকা-হাফিজের মিত্রতা প্রকাশ্য শত্রুতায় পরিনত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সদস্য যুব মহিলালীগ নেত্রী শারমিন মৌসুমী কেকা ও পৌরপরিষদ সদস্য হাফিজ আল মাহমুদের সমর্থিত দুই গ্রুপের ক্রমাগত বিরোধ ও সহিংসতায় পূর্বচাঁদকাঠি এলাকায় উত্তেজনা ও আতংক বেড়েই চলছে। ঝালকাঠিতে সরকার দলের দুটি অংগ-সহযোগী সংগঠনের এই দুই নেতাসহ তাদের অনুগত দলবল একপ্রান-একআত্মা হিসাবে রাজনৈতিক জুটি গড়ে দাপটের সাথে কার্যক্রম চালালেও গত ৩দিন ধরে তাদের সেই দীর্ঘদিন মিত্রতা প্রকাশ্য শত্রুতায় পরিনত হয়েছে।
ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক প্রভাবশালি হিসাবে বীরদর্পে অবস্থানরত এ জুটির মধ্যে অজ্ঞাত কারনে বিরোধ সৃষ্টির হলেও শহরের পূর্বচাঁদকাঠির রুপনগর এলাকার একটি বিরোধীয় জমির দখল কর্তৃত্ব নিয়ে হামলা-ভাংচুর ও মামলা পাল্টা মামলায় বিরোধ প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। এ দুটি বিরোধীয় পরিবারে বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদ ও পৌরপরিষদ এর সদস্য এ দুই নেতা সরাসরি দুটি পক্ষে অবস্থান নেয়াসহ প্রকাশ্যে একে অপরকে দোষাদোষী করলে রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সে অনুযায়ী গত ৬ ফেব্রুয়ার সোমবার দুপুরে হাফিজ সমর্থিত পক্ষের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় কেকা সমর্থিত পক্ষ তাদের বাসায় হামলা-লুটপাটের দাবীতে বুধবার থানায় অভিযোগে প্রদান ও একই দিন বিকাল ৩টায় হাফিজ সমর্থিত পক্ষের সংবাদ সন্মেলন নিয়ে শহর জুড়ে আলোড়ন ও জল্পনাকল্পনা বিস্তার লাভ করছে।
বুধবার বিকেলে ঝালকাঠি থানা রোডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে পৌরপরিষদ সদস্য হাফিজ আল মাহমুদের সমর্থিত শ্রমজীবী জয়নাল শেখের পরিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। নির্যাতিত পরিবারের মেয়ে শিল্পি বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে শহরের মধ্য চাঁদকাঠির রূপনগর এলাকায় যুবমহিলা লীগ নেত্রী কেকার নেতৃত্বে তার ভাই দরিদ্র শ্রমজীবী জয়নাল হোসেনের ঘর বাড়িতে ভাংচুর কারেছে। তাদের প্রতিবেশির বড় চাচার পরিবারের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় যুব মহিলালীগ নেত্রীর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন। এতে বাঁধা দিলে ওই নেত্রীর লোকজনের হামলায় শিল্পির মা রাশিদা বেগম (৭০) ও ভাইয়ের ছেলে জিসানকে (৫) আহত হয়। পরে তাদের ঝালকাঠি হাসপালাতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, অভিযোগ করেন, ঐ নেত্রীর হুমকীর কারনে তাদের দায়েরকৃত মামলায় তার গ্রুপের রুনা বেগম, তার স্বামী লিটন হাওলাদার, মাহাবুব শেখ, সহ যুব মহিলালীগের বে কয়েকজন হামলাকারী আসামী হলেও ভয়ে তাকে আসামী করেনি।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ সদস্য যুব মহিলালীগ নেত্রী শারমিন মৌসুমী কেকা সমর্থিত রুনা বেগমের মা পারভিন বেগম বুধবার থানায় দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় তার মেয়ে রুনা বেগম, তার বান্ধবী বেবী ও বিলকিসকে নিয়ে তার মধ্য চাঁদকাঠির বাসায় বেড়াতে আসলে আসামী পৌরপরিষদ সদস্য হাফিজ আল মাহমুদের নেতৃত্বে তারভাই মাসুদ, জয়নাল শেখ, সগির হোসেন, মোঃ টুটুল, আবুল কালাম ব্যাপারী, আবু বক্কর সিদ্দিক, আরিফসহ অজ্ঞাত ৭/৮অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বসতঘরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার ঘরের পেছনের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে সন্ত্রসীরা হাফিজের নির্দেশে তার মেয়ে রুনা বেগমকে খুন করার উদ্দেশ্যে বেধরক মারধর ও ষ্টলের আলমারী ভেঙ্গে নগদ ১লাখ টাকাসহ বাদীর মেয়ে সহ তার বান্ধবীদের ব্যবহৃত স্বর্নালংকার লুটে নেয় বলে দাবী করেছে। এছাড়া রুনা বেগম অভিযোগ করে তিনি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও হাফিজ গ্রুপের লোকজন তদবীরে তাকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে নামকেটে রিলিজ অর্ডারের কাগজ তাদের হাতে নিয়ে গেছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 346 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ