ঝালকাঠিতে জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌরপরিষদ সদস্য বাদী হয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা রেকর্ড

Print


আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: ঝালকাঠিতে সরকার দলের দুটি অংগসংগঠনের দুই নেতা-নেত্রী পরাষ্পরের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে। জেলা পরিষদ সদস্য যুব মহিলালীগ নেত্রী শারমিন মৌসূমী কেকা বাদী হয়ে হাফিজ আল মাহমুদসহ ৭জনের বিরুদ্ধে ও পৌরপরিষদ সদস্য যুবলীগ নেতা হাফিজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করলে সোমবার সন্ধ্যায় রেকর্ড করা হয়েছে।
বাদী যুবমহিলা লীগ নেত্রী শারমিন মৌসূমী কেকা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, শহরের ২ নং চাঁদকাঠি ওয়ার্ডের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন নামে বে-নামে আমাকে বেকায়দায় ফেলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। অশালীন ও কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। তিনি জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর তার জন্মস্থান পূর্বচাঁদকাঠি এলাকার মানুষ বিভিন্ন সমস্যা ও আসামীদের বিভিন্ন অপতৎপরতা বিরুদ্ধে তার কাছে অভিযোগ করায় ১নং আসামী রাগ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তাকে নানারকম হুমকিও দেন।
তিনি আরো জানান, জেলা পরিষদ সদস্য হবার কারণে সামনেই প্যানেল চেয়ারম্যানের পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যার কারণে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তারা ফেসবুকের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চিহ্নিত আসামী ও তাদের সহযোগীরা আমাকে জড়িয়ে দেশবরেন্য নেতৃবৃন্দ এমন কি আমার কিশোর মেয়েকে নিয়েও কুশিত মন্তব্য করতে ছাড়েনি বলে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। অন্যান্য আসামী হচ্ছে, যুবলীগ নেতা পৌরপরিষদ সদস্য হাফিজ আল মাহমুদ, আবুবক সিদ্দিক, মাইনুল হোসেন, কালাম ব্যাপারী, সোহাগ হোসেন, সাইদুল আলম টিটু, এলিন হোসেন আদু।
অন্যদিকে যুবলীগ নেতা হাফিজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১নং আসামী কেকা ও তার সহযোগীরা গত ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন নামে-ছদ্ম নামে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেন। আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও কুরুচিপূর্ণ মানহানিকর মন্তব্য পোস্ট করেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামাজিকভাবে বাবে এলাকায় হেয়প্রতিপন্ন করতে তাকে এমন কি তার স্ত্রীকে পর্যন্ত জড়িয়ে নানারকম অপপ্রচার চালাতেও পিছপা হয়নি। যে কারনে সকল তথ্যপ্রমান সংগ্রহ করে মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হল।
তিনি বলেন, ২নং চাঁদকাঠি ওয়ার্ডের সেনিটারী মিস্ত্রী জয়নালের বাড়িঘর ভাঙচুর ও দখলের প্রতিবাদ করায় ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন কুৎসিৎ মন্তব্য পোস্ট করে। যার জন্য অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি। এতে আসামী করা হয়েছে যুবমহিলালীগ নেত্রী শারমিন মৌসূমী কেকা, তার স্বামী হিরণ আহমেদ লিটু, রুনা আক্তার, রিমি আক্তার, মশিউর ইসলামসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫জন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মাহে আলম জানান, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। দুটি অভিযোগই আমলে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এজাহার হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে। এবিষয়ে তিনি আর কোন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।#
আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ