ঝালকাঠির রাজাপুরে চার কলেজ ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিল হেলপার

Print

লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন ওসি!! ঝালকাঠির রাজাপুরে চার কলেজ ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিল হেলপার…….

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: চলন্ত বাস থেকে গাড়ীর হেলপার ও সুপার ভাইজার ফেলে দিয়ায় সৌভাগ্যক্রমে প্রনেরক্ষা পেলেও গূরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঝালকাঠির রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের চার কলেজ ছাত্র। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এ নৃশংস ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্যে দু’কলেজ ছাত্রকে রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও অপর দুজনকে গালুয়ার স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় উপজেলার গালুয়া বাজার ও কানুদাসকাঠি এলাকায় এ ঘটনায় আহতরা হলো মো. গিয়াস, মেজবাহ উদ্দিন, মো. সাকিব ও মো. শাহাদাৎ।
আহতরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া রুটের নূর-নোহা নামের একটি বাসে রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে থেকে চার ছাত্র গালুয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ীতে ওঠে। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে গাড়ীর ভিতর থাকা মহিলারা ভীত-স্বন্ত্রস্ত হয়ে প্রতিবাদ করে। এতে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাহাদুরি দেখাতে গাড়ীর গতি আরো বাড়িয়ে দেয়। এহেত পরিস্থিতিতে গাড়ি এসড়কের কৈবর্তখালী এলাকার নির্মানাধিন কালর্ভাটের কাছে পৌছালেও গাড়ির গতি না কমিয়ে দ্রুত যাওয়ার সময় সেখানের সড়কে থাকা গতিরোধকের কারনে ছিটকে গাড়ীর ছাদের সাথে মাথায় আঘাত লাগে গিয়াস ও মেজবাহ নামে দুই ছাত্রের মাথা ফেটে যায়।
এ সময় রক্তাক্ত ছাত্র দুজনকে জরুরী চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য গাড়ীর যাত্রীরা চালককে গাড়ী থামানোর অনুরোধ করলেও চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালাতে থাকে। ইতিমধ্যে ছাত্রদের গন্তব্য গালুয়া বাজারে গাড়ীটি পৌছলে তারা গাড়ী থেকে নামতে চাইলে গাড়ী না থামিয়ে হেলপার ও সুপারভাইজার সাকির ও শাহাদাৎ নামের দুই ছাত্রকে লাথি দিয়ে চলন্ত গাড়ী থেকে বাইরে ফেলে দিলে তারা গুরতর আহত হয়।
গাড়ীতে থাকা পূর্বেই মাথা ফেটে রক্তাক্ত দুই ছাত্র মেজবাহ ও গীয়াসকে গালুয়ার বাজার থেকে ২কিলোমিটার দুরে কানুদাশকাঠী এলাকায় একই কায়দায় ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ী থেকে ফেলে দিলে পুনরায় তারা জখমী হয়। পরবর্তীতে আহতদের স্বজনরা আহত দুইজনকে গালুয়া বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং গুরুতর আহত গীয়াস ও মেজবাহকে রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে।
রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক আবুল খায়ের মাহমুদ জানান, আহত গিয়াস ও মেহবার মাথা, পা ও হাতে গভীর ক্ষত রয়েছে। মেজবার মাথায় ৮টি সেলাই দেয়া হয়েছে এবং তার হাতের কব্জি বরাবর ৪ ইঞ্চি চামরা ছিড়ে গেলেও বর্তমানে আশংকামুক্ত।
রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম বারী খান বলেন, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখ জনক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের বিচারের জোর দাবী জানিয়েছে। আর আহত ছাত্রদের সহপাঠীরা দোষী চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিচারের দাবীতে বুধবার সড়ক অবোরোধসহ বিক্ষোভ পালন করবে বলে জানাগেছে।
অপরদিকে গাড়ী চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারদের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তাদের পক্ষে ঝালকাঠি জেলা মালিক সমিতির লাইনম্যান পরিচয়ে জনৈক মো. মতলুব হাওলাদার ছাফাই গেয়ে উল্টো প্রানে বেঁচে যাওয়া ৪ ছাত্রর বিরুদ্ধে ভাড়া নিয়ে সুপারভাইজারের সাথ ঝগড়া বাঁধানো ও তাই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির অভিযোগ করে পাশবিক মন্তব্য করেন।
রাজাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুনীর উল গীয়াস সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন আশ্বাস দেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 156 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ