ঝিনাইদহে প্রকৃত হিজড়ারা পাচ্ছে না আত্মকর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণের সরকারী টাকা

Print

এন,এস চয়ন,,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে প্রকৃত হিজড়ারা আত্মকর্মসংস্থান করার জন্য প্রশিক্ষণ বাবদ সরকারী ১৭ লাখ টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হিজড়াদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য ২০১৬/১৭ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকারের ট্রেনিং বাবদ ১৭ লাখ টাকা ঝিনাইদহের সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ বাবদ বাজেট বরাদ্দ আসছে। সে মোতাবেক জীবন মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকারের ট্রেনিং বাবদ ১৭ লাখ টাকা পাচ্ছে না ঝিনাইদহের প্রকৃত হিজড়ারা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১২ই মার্চ রবিবার ঝিনাইদহ সদরের কাঞ্চননগরের সিনিয়র হিজড়া নাজমার বাসায় এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে ঝিনাইদহ সদর সহ ৬টি উপজেলা থেকে আসা হিজড়ারা অভিযোগ করে বলেন, আমরাই প্রকৃত হিজড়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য যে ১৭ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছেন, আমাদেরকে বাদ দিয়ে কেন যাদের বউছেলে মেয়ে সংসার আছে তাদেরকে দেয়া হচ্ছে?
হিজড়াদের মধ্যে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুরের বর্ষা, ব্যাপারী পাড়ার মনোয়ারা, কাঞ্চননগরের আকাশী, উদয়পুরের কারীশমা, কালীচরনপুরের প্রিয়ংকা, নগরবাথানের খালেদা, লক্ষীপুরের সুমী, বয়ড়াতলার কাজল, খাজুরার স্বপ্না ও সুলতানা, ভুটিয়ারগাতির আনোয়ারা, আদর্শপাড়ার শিউলী ও পায়েল সহ ২৭ জন হিজড়ারা অভিযোগ করে বলেন, ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন অজ্ঞাত কারনে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যই হিজড়াদের এই প্রশিক্ষন থেকে আমাদেরকে বাদ দিয়েছেন।
হিজড়াদের মধ্যে নাজমা ও বর্ষা কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, ‘এটা কোনো জীবন হতে পারে না। আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। আমরাও অন্যদের মতো করে বাঁচতে চায়। পরিবারের সঙ্গে থাকতে চায়; পড়ালেখা শিখে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে অংশ নিতে চায়। কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের সেই সুযোগ দিলেও রহস্যজনক কারনে আমরা সেই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের বাজেট মোতাবেক উক্ত প্রশিক্ষন শেষে যাতে উপযুক্ত কাজ পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, এই দাবি আমাদের প্রকৃত হিজড়াদের।
কান্না জড়িত কন্ঠে নাজমা আরো বলেন, আমার বয়স এখন ৬৭ বছর। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে, আমার ছেলে-মেয়ে, স্বামী সংসার কিছুই নেই এখন আমি কি করব? আমার বয়স যখন ১৬ বছর আমি হিজড়া হওয়ার কারনে আমার বাসা থেকে বের করে দেয় সেই থেকেই আমি আমার জীবণের সাথে লড়াই করে চলেছি প্রতিটা মুহুর্ত। আমি এ দেশের নাগরিক, সরকার যায় সরকার আসে, ভোটের সময় ভোটাররা আমাদের কাছে আসে আমার তাদেরকেই ভোট দিই তার পর আর আমাদের খোঁজ-খবর নেয়না। সরকারের দেওয়া বাজেট থেকেও আমরা এখন বঞ্চিত।
প্রিয়াংকা, বর্ষা, আকাশী অভিযোগ করে বলেন, যাদের বউ-সন্তান সংসার আছে তারা সরকারের দেওয়া বাজেটের সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু আমরা প্রকৃত হিজড়া সরকারের উক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তারা আরো বলেন, ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়ার মিলন তার দুই মেয়ে, ব্যাপারীপাড়ার আক্তার বিবাহিত, বয়ড়াতলার খঞ্জন তার দুই মেয়ে এক ছেলে বড় মেয়েটারও বিয়ে হয়েছে, ষাটবাড়িয়ার যাদব তার দুই মেয়ে এক ছেলে আছে, খাজুরার হাসেম তার এক মেয়ে থাকা সত্তেও তারা কি ভাবে হিজড়া হয়? এ প্রশ্ন এখন ঝিনাইদহের সচেতন মহলের।
ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল মতিনের সাথে মোবাইলে বারং বার কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 166 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ