ঝিনাইদহে বিষবৃক্ষ তামাক পাতা পোড়ানোর দুষিত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত পরিবেশ !

Print

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের বিভিন্ন গ্রামে বিষ বৃক্ষ তামাক পাতা পোড়ানোর জন্য গড়ে উঠেছে চুল্লী। পোড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অপরিপক্ক গাছ। গাছ কেটে উজাড় করে তৈরী করা হচ্ছে হাজার মন কাঠ বা জ্বালানি। আর এ চুল্লী থেকে প্রতি নিয়ত নির্গত হচ্ছে দুষিত ধোঁয়া।

এছাড়াও তামাক পাতা জ্বালানি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মুখে মাস্ক বা মুখ বন্ধ রাখার কোন প্রকার ব্যবস্থা নেই। ফলে তামাক প্রসেসিং কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ফুসফুসে নানাবিধ জটিল সমস্যা, চর্মরোগ, দীর্ঘ মেয়াদি কফকাশি, এলার্জি এমনকি ক্যান্সারের মত মরন ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তামাক চাষিদের সাখে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমির তামাক পেড়ানোর জন্য কম পক্ষে চার ঘর তামাক করতে হয়। আর এই চার ঘর তামাক পোড়াতে বা জ্বালাতে ৭৫/৮০ মন জ্বালানি বা কাঠের দরকার হয়। ঘর তৈরির পর প্রথম বার ঘরে তামাক জ্বালাতে ২৪/২৫ মন কাঠ জ্বালানি দরকার হয়। কারন এ সময় ঘর কাঁচা থাকে। পরে অবশ্য প্রতিবার ১৫/১৬ মন কাঠ বা জ্বালানি প্রতি ঘর তামাকের জন্য দরকার হয়।

সে হিসাবে ঝিনাইদহে ২০১১/১২ অর্থ বছরে ১২১৫ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ৮ হাজার ৭শ ৪৮ টন, ২০১২/১৩ অর্থ বছরে ১৪১০ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ১০ হাজার ১শ ৫২ টন, ২০১৩/১৪ অর্থ বছরে ১৩৭০ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ৯ হাজার ৮শ ৬৪ টন, ২০১৪/১৫ অর্থ বছরে ১০৭০ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ৭ হাজার ৭শ ০৪ টন, ২০১৫/১৬ অর্থ বছরে ১৫০০ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ১১ হাজার টন জ্বালানী বা কাঠ পোড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ গত পাঁচ মৌসুমে ৫ হাজার ৬৫ হেক্টর জমির তামাক জ্বালাতে ৩৬ হাজার ৪শ ৬৮ টন জ্বালানি বা কাঠ পোড়ানো হয়েছে।

এভাবেই প্রতি বছর ঝিনাইদহ থেকে বিপুল পরিমানে সবুজ বন বনানি শুধুমাত্র তামাক জ্বালানিতে নষ্ট করা হচ্ছে। কিন্তু সেই পরিমান গাছ এ সকল কৃষকরা প্রতি বছর রোপন করছেন না। তামাক চাষে নিয়োজিত কৃষকরা যদি একটু সচেতন হয় বা তারা তামাক চাষ বন্ধ করেন। প্রতি বছর বিপুল পরিমানে সবুজ বনবনানি রক্ষিত হত এবং বিষবৃক্ষ তামাক পাতা পোড়া দুষিত ধোঁয়া থেকে পরিবেশ হত বিপর্যয় মুক্ত।

পরিবেশ আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তামাক চুল্লী ধ্বংস বা অপরিপক্ক সবুজ বনবনানির কাঠ জব্দ করতে পারেন। আবার পরিবেশ আইনের আওতায় আনলেও দুষিত ধোঁয়া থেকে পরিবেশ কিছুটা হলেও বিপর্যয় মুক্ত হত। বিষয়টির দিকে প্রসাশনের সুদৃষ্টি আশা করছে ভুক্তভোগি সচেতনমহল। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, চাষীদের তামাক চাষ থেকে দুরে রাখার জন্য সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা চাষীদের তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে বিভিন্ন সময় জানাচ্ছেন। আর তামাক পাতা পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 53 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ