ঝিনাইদহে ৩০ গ্রামের মানুষের ১৬ কিলোমিটার সড়কে ইটের ধুলায় চলাচলে ভোগান্তি !

Print


স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
পিচ-পাথর উঠে গেছে, অনেক স্থানে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্তের। পিচঢালা পথ হলেও বর্তমানে গোটা সড়কটিই লাল হয়ে আছে। পিচ সরে বের হওয়া ইটের খোয়া গুড়ো হয়ে লাল ধুলায় পরিনত হয়েছে। এই অবস্থা ঝিনাইদহ-শৈলকুপা ভায়া গোয়ালপাড়া সড়কটির। যে সড়কের দুই পাশে বাস করেন প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ।

এই সড়কের প্রায় ১৬ মিটার চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। পথচারী আর ছোট ছোট যানগুলোও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন সড়কটি সংষ্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই। তারা বলছেন, অর্থ বরাদ্ধ স্বাপেক্ষে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের গোয়ালপাড়া বাজার থেকে উত্তরে একটি সড়ক চলে গেছে। এটি ঝিনাইদহ আর শৈলকুপা উপজেলার সংযোগ সড়ক। ঝিনাইদহ শহর থেকে গোয়ালপাড়া বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার আর শৈলকুপা শহর থেকে এমপি’র মোড় ৮ কিলোমিটার ভালো সড়ক রয়েছে। মাঝের ১৬ কিলোমিটার সড়ক বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানিয়রা জানান, এই ১৬ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ বসবাস করেন। যাদের ঝিনাইদহ ও শৈলকুপা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এছাড়াও পাশ^বর্তী বেশ কিছু গ্রামের লোকজন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকেন।

গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমপুর, পূর্ব-নারায়নপুর, রাজধরপুর, বাজিতপুর, ফটিকখালী, বিজয়পুর, দূর্গাপুর, নরহরিদ্রা, বাকড়ি, পানামী, আর্যনারায়নপুর, পরাণপুর, শিতারামপুর, চন্দ্রদানী, হরিশংকরপুর, শৈলকুপা উপজেলার সাপখোলা, শেখরা, বাগুটিয়া, বিসমিল্লাহনগর, শাহাবাসপুর, গোপালপুর, নিত্যানন্দপুর সহ ৩০টি। এই সকল গ্রামের মানুষের চলাচল ছাড়াও অত্রালাকার সব ধরনের পন্য পরিবহন হয় সড়কটি দিয়ে। সব ধরণের ভারি যানবাহন চলচল করতো সড়কটিতে। কিন্তু সড়কের অবস্থা এতোটা খারাপ যে বর্তমানে ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

সরেজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পিচঢালা কালো সড়ক বর্তমানে ইটের ধুলায় লাল হয়ে আছে। সড়কের কিছু কিছু জায়গায় ছোট-বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। রিক্সা-ভ্যান, মটর সাইকেল চলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। অন্যান্য যান চলাচল করলেও হেলে-দুলে চলতে হচ্ছে।

ওই সড়কে চলাচলকারী ভ্যান চালক আনন্দ বিশ^াস জানান, ভাঙ্গাচুরা সড়কে চলাচল করতে তাদের খুবই কষ্ট হয়। ভারি কোনো যানবাহন এই সড়কে যেতে না চাওয়ায় পন্য পরিবহনে তারাই ভরসা। কিন্তু ভ্যান চালানো খুবই কষ্ট হয়ে যায়। গোটা সড়কে ভ্যান ধাক্কিয়ে নিতে হয়, প্যাডেল করার সুযোগ থাকে না।

ইজিবাইক চালক বিল্লাল হোসেন জানান, তারা গোয়ালপাড়া থেকে বাকড়ি বাজার পর্যন্ত ভাড়ায় চলেন। কিন্তু বর্তমানে খারাপ সড়কের কারনে যেতে পারছেন না। ফলে ওই সড়কে যারা চলাচল করতো তাদের অনেকে গোয়ালপাড়া থেকে ঝিনাইদহ শহর ভাড়া খাটছে।

এলাকার বাসিন্দা নূর আমিন মিয়া জানান, সড়কটি প্রায় ১৫ বছর পূর্বে সংষ্কারের কাজ হয়েছে। এরপর আর কোনো সংষ্কার নেই। তাছাড়া সড়কটি অত্যান্ত ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করে। যে কারনে দ্রুত পিচঢালা সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এলাকার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সড়কটি সংষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট সপ্তরে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু কোনো ফল পাননি। তাই তারা হতাশ হয়ে ভাঙ্গাচুরা সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন।

এ ব্যাপারে এলজিইডি’র ঝিনাইদহ সদর প্রকৌশলী ভাষ্কর মৃধা জানান, সড়কটি খারাপ হয়েছে এটা তারা দেখেছেন। পর্যায়ক্রমে সংষ্কারের কাজ তারা করে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এই সংষ্কারের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। আশা করছেন দ্রুতই সড়কটি ভালো করতে পারবেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 133 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি