টাইগারদের ব্যাটিংয়ে ভয়াবহ ধস!

Print

দুঃস্বপ্নের আরেক নাম বুঝি হতে যাচ্ছে প্রস্তুতি ম্যাচ! ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিক-সৌম্য ছাড়া বাকীরা ব্যাটসম্যানরা উইকেটে আসা-যাওয়ার দায়টুকু যেন সারলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিজ্ঞ বোলারদের সামলাতেই নাভিশ্বাস উঠে গেল সফরকারীদের। আর তাতেই টেস্ট ম্যাচের আগে রোববার টাইগার ব্যাটসম্যানদের দৈনতা ফুটে উঠলো। ২২২ রান তুলতেই শেষ ৮ উইকেট। এই ধাক্কায় কে জানে দুই দিনের এই ম্যাচটাতেও হেরে যেতে পারে টাইগাররা!
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলা লিটন দাস লড়ে যাচ্ছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় লিটন (২১), তাইজুল ইসলাম (৪) নট আউট।

সৌম্য সরকারের পর মুশফিকুর রহীমের ব্যাটেও হাফসেঞ্চুরি। তারপরও স্বস্তি নেই বাংলাদেশ শিবিরে। কারণটাও সংগত। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যে উইকেটে আসা-যাওয়ার খেলাতেই নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিলেন! তবে দলের বিপর্যয়ে আরো একবার লড়ছেন মুশফিক। ইনজুরি কাটিয়ে সেই ছন্দে ফিরেছেন তিনি। কিন্তু চা বিরতির পর খেই হারালেন অধিনায়ক। ১০৬ বলে ৫৮ রান করে অনিকেত চৌধুরীর শিকার তিনি। ইনিংসে ছিল ৮ বাউন্ডারি, এক ছক্কা!
এর আগে ১১৩ রানে ৫ উইকেট হারায় টাইগাররা। এই বিপর্যয়ের মুখে সাব্বির রহমানকে নিয়ে লড়েছেন মুশফিক। দু’জন মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৬৪ বলে সাব্বির ৩৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন সাব্বির। ৫টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন তরুণ ব্যাটসম্যান।
রোববার সিকান্দারাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডের দুই দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে নিজেদের খুঁজেই পাচ্ছেন না টাইগার ব্যাটসম্যানরা। মুশফিক-সাব্বিরের আগে যা একটু লড়লেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড সফরের শেষ দিকে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সৌম্য। ভারতের বিপক্ষে টেস্টের আগে চেনা ছন্দে থেকে সৌম্য হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালাচ্ছিলেন তিনি। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত ছিল খেলায়। কিন্তু তারপরই ভুলের ফাঁদে পা দিলেন। ৫২ রান করে শাহবাজ নাদিমের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ধরেন সাজঘরের পথ। তার ৭৩ বলের ইনিংসে ছিল ১ ছক্কা আর ৯টি চার। মানে সিঙ্গেলসের চেয়ে বাউন্ডারিতেই চোখ ছিল সৌম্যর। কিন্তু তেমন তাড়াহুড়োতেই সব শেষ!
সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশও পড়ে যায় চাপে। অবশ্য এমন উইকেট পতনের মিছিলটা শুরু হয়েছে সকালেই। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলের রান যখন ২২ তখনই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ রান। চামা মিলান্দের বলে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল।
শুরুর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে লড়ে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য। ভারত ‘এ’ দলের বোলারদের বেশ সমীহ করেই খেলছিলেন দু’জন। তবে সৌম্য খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসলেও তামিম ছিলেন সংযত। বুঝে নিতে চাইছিলেন পরিস্থিতি। কিন্তু জিমখানার উইকেট পড়ে নেয়ার আগেই তাকে বোকা বানান মিডিয়াম পেসার অনিকেত চৌধুরী। অপয়া ১৩ রানে সাজঘরের পথ ধরেন বাংলাদেশের ওপেনার।
ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরা মুমিনুল হকও তেমন কিছুই করতে পারলেন না। ভারতের বিপক্ষে অনেক প্রতীক্ষার সেই টেস্টের আগে প্রস্তুতিতে তার ব্যাটে মাত্র ৫ রান। রাজস্থানের ২৭ বছর বয়সী সেই অনিকেতের বলে তার তুলে দেয়া ক্যাচ হাতে জমান উইকেটকিপার ইষান কিষান। প্রতিরোধের দেয়াল তুলে ভালোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেধে বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তুলতে মেজাজটা ধরে রেখেই ব্যাট করছিলেন। কিন্তু স্পিনার কুলদিপ যাদবের মায়াবী ছোবল তাকেও পাঠিয়ে দেয় সাজঘরে। তার আগে রিয়াদ করেন ৪৯ বলে ২৩ রান।
উইলোবাজিতে ফের ফ্লপ মেহেদী হাসান মিরাজ। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা অনিকেতকে প্রথম মোকাবেলাতেই আউট তিনি। ফিরে যান কোন রান না করেই।
টেস্টের আগে নিজেদের তৈরি করে নিতে একমাত্র দুই দিনের প্রস্তুতিমুলক ম্যাচে নামে মুশফিকরা। ম্যাচে দুই দল একবার করে ব্যাট করার সুযোগ পাবে। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ, এ কারণে দুই দল ১৪ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলছে। যদিও ব্যাট করার সুযোগ পাবেন ১১ জনই।
২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলেছিল। কিন্তু দেড় যুগেরও বেশি সময়ে কেবল প্রতিবেশী দেশটিতেই কোনো টেস্ট খেলা হয়নি টাইগারদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘুঁচতে যাচ্ছে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। গা গরমের ম্যাচের পর আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টটি শুরু করবে বাংলাদেশ ও ভারত।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 105 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ