ঠাকুরগাঁওয়ে নারীকে নগ্ন করে নির্যাতন!

Print

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুরে কতিপয় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শিউলি বেগম নামের এক নারীকে ‘নগ্ন করে’ নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই নারী ও তার পরিবার। অন্যদিকে মামলা তুলে নিতে ঠাকুরগাঁও সদর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাকিলা ও চেয়ারম্যান চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী শিউলি বেগম। শিউলি বলেন, ‘চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মাস্টারের পা ধরে বার বার আকুতি করলেও আমাকে ছাড়েননি। একের পর এক লাথি মেরেছেন। সবার সামনে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য কেদারনাথ, যুবলীগ নেতা রায়হানসহ আমাকে নগ্ন করে নির্যাতন করেছেন। আমি মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করলেও পুলিশ তার নাম কেটে দিয়ে অন্যজনের নাম দিয়েছে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর চাপে পুলিশ ইউপি সদস্য কেদারনাথ, যুবলীগ নেতা রায়হানকে গ্রেফতার করে। আসামি দুজন জামিন পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাকিলা ও চেয়ারম্যানের লোকজন মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন। ইতিমধ্যে আমার মামলায় এক সাক্ষীকে ফাঁসানোর জন্য চেয়ারম্যানের লোকজন একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। ’ নির্যাতিত নারীর ছোট মেয়ে বৃষ্টি জানায়, ‘টিপসই দেওয়ার নাম করে আমার মাকে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে। মামলায় চেয়ারম্যানের নাম দেওয়া হয়েছিল কিন্তু পুলিশ তার নাম কেটে দিয়েছে। আমরা গরিব বলে বিচার পাচ্ছি না। বিভিন্নভাবে আমাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ’
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই মহিলা ভালো নয়। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটি মহল পাঁয়তারা করছে। ’ এসআই শাকিলা বলেন, ‘আমি শিউলিকে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলিনি। আসামি গ্রেফতার নিয়ে শিউলি নিজেই বিরক্ত করছেন। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেফতার করবে। ’ ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, ‘শিউলি বেগমের মামলাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। দ্রুত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। ’ উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের খোচাবাড়ী এলাকায় শিউলি বেগম স্বামীপরিত্যক্তা হওয়ার পর বাড়ির সামনে একটি দোকান করতেন। ব্যবসার খাতিরে খোচাবাড়ী হাটের ব্যবসায়ী গৌরীপুর গ্রামের প্রমথ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু শিউলি যে জমির ওপর বসতভিটা গড়ে তুলেছিলেন সেই জমির ওপর চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আনিসুরের নজর পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের জন্য নানা কৌশল করতে থাকেন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতারা। ভিটেমাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এর আগে একাধিকবার হুমকিও দেন চেয়ারম্যানের লোকজন। ছেড়ে না দিলে ২ লাখ টাকা দাবিও করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় প্রমথ চন্দ্র রায়ের সঙ্গে শিউলির অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে কথা ছড়ায়। এরপর ১০ মে রাতে জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলালের নির্দেশে যুবলীগ নেতা রায়হানের কর্মীরা তিন সন্তানের ওই জননীকে তুলে নিয়ে যান। পরে পরিষদে তাকে নগ্ন করে নির্যাতন করা করা হয়। স্থানীয়রা শিউলিকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শিউলি বেগম বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 105 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ