ঠাকুরগাঁওয়ে ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিভাবকশুন্য

Print

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৪০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরাই দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

উপজেলার দস্তমপুর  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান পীরগঞ্জ উপজেলার বহড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ রায়।

তিনি জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৮জন। আর সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে চারটি ও প্রধান শিক্ষকের একটি। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা তিনজন।

তিনি আরও জানান, তিনজনের মধ্য থেকে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এখন দুই সহকারী শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এতে বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে সমস্যা হয়।

দস্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই হলো মূল চালিকা শক্তি। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পড়তে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট ১৮৯ টি। এর মধ্যে ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করে ঠাকুরগাঁও উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, গত চার বছর থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যায় পড়তে হয়। তবে শূন্য পদ পূরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 123 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ