ডিএসসিসির নাকের ডগায় বেপরোয়া লেগুনা

Print
ডিএসসিসির নাকের ডগায় বেপরোয়া লেগুনা

২০ বছরের অধিক পুরনো গাড়িসহ মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ ভঙ্গকারী পরিবহন ও চালকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

তাদের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খোদ ডিএসসিসির সামনের সড়ক দিয়ে আইনভঙ্গকরে চলছে লেগুনা।

গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার থেকে শুরু করে ডিএসসিসির মূল গেট পর্যন্ত লেগুনার স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডটিতে দেড় শতাধিক লেগুনা আছে বলে জানা যায়। গাড়িগুলো বিডিআর সেকশন, লালবাগ, হাজারিবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, আজিমপুর এবং নিউমার্কেট যাতায়ত করে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব লেগুনাচালকদের নেই লাইসেন্স, হয়নি আইনোনুযায়ী বয়সও।

কয়েকটি মালিক সমিতিতে বিভক্ত এই পরিবহন রুটে অনিয়মের সবটুকু বিদ্যমান।
সরেজমিনে দেখা গেছে প্রায় লেগুনার ফিটনেসের অবস্থা খুবই দুর্বল। কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব পরিবহন। দুই সারিতে ১২ জন করে মোট ১৮ থেকে ২০ জন যাত্রী বহন করে থাকলেও মূলত ১০ জন যাত্রী পরিবহনের বৈধতা আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

কয়েকজন ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স আঠারো বছরের নিচে। ১৩/১৪ বছরের কিশোরেরাও রয়েছে তাদের তালিকায়। লাবলু নামের একজনের কাছে লাইসেন্স থাকলেও লাইসেন্সে উল্লেখিত পিতার নাম বলতে পারেনি সে। পরে জানা গেল বিশেষ অভিযান উপলক্ষে ড্রাইভিং লাইসেন্সটি কোন এক ড্রাইভার থেকে ধার করে নিয়ে এসেছে। এই রুটে সবুজদের  মতো এমন অনের দৌরাত্ম্য অহরহ দেখা যায়।

অদক্ষ কিশোর ড্রাইভারদের হাতে কতটুকু নিরাপদ এসব যাত্রীদের যাত্রা?- এমন প্রশ্ন রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ডিপার্টমেন্টের ইন্টার্নি চিকিৎসক ফারদান নিলয় বলেন, ছাত্রছাত্রী, মেডিকেলের রোগী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল হয় এই রুটে। আমিও প্রতিনিয়ত এই পরিবহনের যাত্রী। সিটি কর্পোরেশন সব সেক্টরে উন্নতি করলেও নিজের ঘরের খবর রাখছে না। প্রতিদিনই এই পরিবহনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। আমাদের জন্য এই ব্যাপারগুলো উদ্বেগের হলেও বিষয়টি দেখার কেউ নেই।

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ও খোদ ডিএসসিসির নাকের ডগায় এমন অনিয়ম নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকে। প্রতিনিয়ত চলতে থাকা অনিয়মের ফলে নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এই ছোট পরিবহনগুলো। গত কয়েক বছর ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলেও ডিএসসিসি, বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি।

-যমুনা নিউজ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 95 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ