ঢাকা টু নরসিংদী

Print
প্রত্যেক ঈদের ছুটিতেই আমরা নারায়ণগঞ্জের বন্ধুরা মিলে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই। আর এ ভ্রমণের সমন্বয়ের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে আমাদের বন্ধু ইশতিয়াক আহমেদ। এবারের ঈদে সে দেশের বাইরে ভ্রমণে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলো। আমরা তার আগ্রহে সাড়া দিয়ে বললাম, আসলেই এদেশের অনেকটাই তো দেখা শেষ। বিদেশের কোথাও গেলে একটু ভ্যারিয়েশন পেতাম। কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে যখন দেখলাম পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ তখন আমার দেশপ্রেম বেড়ে গেল। ভাবলাম, কেন আমরা দেশের বাইরে গিয়ে সেদেশের পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করব? অনেকেই আবার সাত দিনের ছুটি ম্যানেজ করতে পারল না। যে কারণে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় ব্যাপক ‘ভেটো’ পড়ল। ইশতিয়াক আর দ্বিতীয় কোন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ না করে ঈদের পর দিন রাতে আমাদের মায়া ত্যাগ করে ভুটানের উদ্দেশে নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করলেন। আমরা সমন্বয়কের অভাবে কোথাও যেতে না পেরে ঘরের মধ্যেই ঈদের ছুটি উপভোগ করলাম। ইশতিয়াক দেশে ফিরেই মিটিং কল করলো। সেই মিটিংয়ে সে জ্বালাময়ী এক বক্তৃতা দিলো যার সারমর্ম হল ঈদের ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া আমাদের বন্ধুত্বের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দেয়া যায় না। যেহেতু সবার অফিস শুরু হয়ে গেছে সেহেতু আমরা ঢাকার কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার চিন্তা করলাম। যাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গিয়ে আবার ওই দিনই ফিরে আসা যায়। ঠিক করলাম আমরা নরসিংদী যাব তাঁতিদের জীবনযাপন দেখতে। কিন্তু সব মিলিয়ে হচ্ছিলনা। একদিন সুযোগ পাওয়া গেলা নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে একটি বেসরকারী পার্কে। ড্রিম হলিডে পার্ক। আমরাও আমন্ত্রিত।   আমি আর ইশতিয়াক পরে বাসে যাবো। কমলাপুর বিআরটিসি বাস কাউন্টারে যেতেই সাগর নামের এক দাড়িওয়ালা লোক ইশতিয়াককে বুকে জড়িয়ে ধরল। সে জানতে চাইল আমরা কোথায় যাব? নরসিংদী যাব জেনে সে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গাড়িতে উঠে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিল।
সাগর বিআরটিসিতে চাকরি করে বিধায় সে আমাদের এ ব্যবস্থা করে দিতে পারল। যার ফলে ইশতিয়াকের অনুরোধে সেও আমাদের ভ্রমণ সঙ্গী হল। আনন্দিত হলাম সাগর যাচ্ছে। কিন্তু একটু পরেই বুঝতে পারলাম, যে অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। সাগরের কথার তোড়ে এসির শান্তি মুহূর্তের মধ্যেই অশান্তিতে পরিণত হল। বাসের ড্রাইভার সুপারভাইজার এমনকি যাত্রীরাও তার চিৎকার চেচামেচি হাসাহাসিতে অস্থির। এর খাবার খেয়ে ফেলে। আরেকজনের পত্রিকা ছিনিয়ে নেয় সব মিলিয়ে দিয়ে মোটামুটি বাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ফেলে। সাগরকে নিয়ে বললে অনেক বলা যাবে কিন্তু এতটুকুই এখানে বলে রাখি যে, ও অনবরত কথা বলে। ইশতিয়াক বিষয়টার সঙ্গে পূর্ব পরিচিত বিধায় সে উপভোগ করলেও আমার প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। এসব নিয়েই আমরা এক সময় আমরা পার্কে নামলাম।
ততক্ষণে শাওনদের গাড়ি চলে এসেছে। বাইরে প্রচণ্ড গরম। ভেতরে ঢুকেই আবিষ্কার করলাম সেখানে একটি সুইমিং পুল রয়েছে। যেখানে গানের তালে তালে নাচছে এবং গোসল করছে নানা বয়সী ছেলেমেয়ে। আমি, ইশতিয়াক, মিজান এবং মানিক নামলাম না। শাওন পন্টি গং ব্যাপক আনন্দে শরীর জুড়াতে লাগল। আমরা তার পাশেই ক্যাফেটেরিয়াতে বসে কফি খেতে খেতে সেই আনন্দ প্রত্যক্ষ করছিলাম। ওদের গোসল শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা স্পিডবোটে চড়ে ঘুরলাম। পার্কের পরিবেশ ভালোই লাগলো। পার্কের কর্নধার প্রবীর সাহা আমাদের তদারকি করলেন।  সময়টা বেশ আনন্দেই কেটে গেল।
ততক্ষণে আঁধার নেমে এসেছে। এবার ফেরার পালা। নরসিংদী যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা দশ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা। বাস ভাড়া ৬০ টাকা। দেখার মতো কি আছে জানতে চাইলে বলব, অবশ্যই ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের মানুষ আছে সেখানে, আছে তাঁতপল্লী আর বিনোদনের জন্য ড্রীম হলিডে পার্ক। এরপর সবাই একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জে ফিরে এলাম। ফেরার পথে ইশতিয়াককে এত সুন্দর একটা ভ্রমণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদের পাশাপাশি বন্ধুদের ফেলে ভুটান ভ্রমণের জন্য সামান্য ভর্ৎসনাও জানানো হল। এরপর যার যার বাসার উদ্দেশে রওনা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 171 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ