তার কাছে গণতন্ত্র শিখতে হবে না-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Print

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এতিমের টাকা চুরি করেন, মামলা আদালতে হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে বেড়ান। তার কাছ থেকে রাজনীতি শিখতে হবে না। গণতন্ত্র শিখতে হবে না।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এ দেশের মানুষ না খেয়ে থাকবে না। প্রত্যেকের আশ্রয়-চিকিৎসা-শিক্ষা নিশ্চিত হবে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এসব আওয়ামী লীগ সরকার পূরণ করে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল ইয়াহিয়া, কিন্তু এ দেশের মানুষের বীরত্ব আর আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এরপর হত্যা, ক্যুর রাজনীতি শুরু হলো। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে অসাংবিধানিক শাসন কায়েম করে ষড়যন্ত্রকারীরা। যে পাকিস্তানিরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর‌্যন্ত গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের কিছু কুলাঙ্গার তাদের পথ দেখিয়ে নিয়েছিল, সেই যুদ্ধাপরাধীরা অনেকে কারাগারে ছিল, জিয়াউর রহমান তাদের মুক্ত করে দিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, জাতিসংঘে গিয়ে গিয়েছিল জনমত গড়ে তুলতে, তাদের ক্ষমতায় বসেছিল। তাদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিল।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আমলে ১৯টি ক্যু হয়েছিল। কারফিউ দিয়ে দেশ চালান তিনি। মানুষের স্বাধীনতা ছিল না। ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। তারা এক দিকে হত্যা করে, আর একদিকে আওয়ামী লীগের লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়্।

পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় গিয়েছে তারা ভোগের রাজধানী করেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় গিয়ে অর্থবিত্ত গড়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর কী স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে। পঁচাত্তরের পর জাতিকে মাথা উঁচু করে থাকতে দেয়নি ষড়যন্ত্রকারীরা। কারণ তাদের আত্মা ছিল পাকিস্তানের কাছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে ২৫-৩০ বছর আগে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াত।

বাংলাদেশের মানুষ কোনো অন্যায় মেনে নেয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। আজ কেউ ক্ষুধার জ্বালায় আর্তচিৎকার করে না। আজ হতদরিদ্ররা বিনা পয়সায় খাবার পায়। ঘর পাচ্ছে। আগামী দিনে প্রত্যেককে ঘর করে দেয়া হবে। মানুষ আজ চিকিৎসা পায়। মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌছে দিয়েছি। সবার শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মো. নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 86 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ