তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ

Print

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার পেছনে পারিবারিক কলহ, স্থানীয় দলীয় কোন্দল ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে ক্ষমতাসীনরা জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করলেও গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াত-শিবির বা জঙ্গি সংগঠন জেএমবি এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

বর্তমানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ওরফে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আহসান হাবিবকে আমরা কোনো না কোনো তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যে পর্যন্ত আমরা চূড়ান্ত কিছু না পাবো, সে পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।’
গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জে ঘরে ঢুকে গুলি করে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন লিটনের পরিবার ও স্বজনেরাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। পুলিশ তদন্তে যে তথ্য পেয়েছে, তাতে করে আরো অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। হুট করে জামায়াত বা শিবিরের নাম বলা বা তাদের দোষী করা ঠিক হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন সংসদ সদস্য বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বাড়িতে সন্ধ্যায় কোনো কর্মী বা লোকজন না থাকার বিষয়টি বিস্ময়কর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ঘটনার অনেকগুলো দিক রয়েছে। সবগুলো দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই একটি পর্যায়ে পৌঁছানো যাবে। হুট করে কিছু মন্তব্য করা যাবে না। ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আওয়ামী লীগ হোক আর জামায়াত-শিবির হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।
রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপির বাড়িতে আসা পাঁচ যুবকের মধ্যে দুজন আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে একটু দূরে ছিল। অপর মোটরসাইকেলের তিনজন আরোহী তার সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। বসার ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে পাঁচটি গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যান তারা। গুলির শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে হামলাকারীদের মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যেতে দেখেন।
হত্যাকাণ্ডের সময় এমপির স্ত্রী খুরশীদ জাহান, স্ত্রীর বড় ভাই বেদারুল আহসান, গাড়িচালক মো. ফোরকান, ভাগনি স্মৃতি, গৃহকর্মী রোকসানা, বিলকিস, কাজের লোক সাজেদুল, ইউসুফ আলী ওই বাড়িতে ছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য নিয়োজিত ছিলেন না। আবার এমপির কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 78 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ