তোর সঙ্গে আর নয়,নতুন করে বিয়ে কর

Print

অনেক দিন পরে আচমকা মুর্শিদাবাদের সুতিতে আমার বাপের বাড়িতে হাজির মানুষটা। কতদিন দেখা-সাক্ষাৎ নেই। ভেবেছিলাম, হয়তো মন গলেছে। ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে আমায়। আমার বাবা গরিব হলেও জামাইয়ের খাতির-যত্নে কোনও ত্রুটি রাখেনি। ছেলে-মেয়েরাও আব্বাকে পেয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে যেন। কিন্তু সকাল হতেই সে মানুষই যেন কত অচেনা। সন্তানদের সামনেই সটান জানিয়ে দিল, তোর সঙ্গে আর নয়। নতুন করে বিয়ে করব। তার পর থেকে সেই তিন শব্দের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি আজও— তালাক-তালাক-তালাক।
দুই বোনের মধ্যে আমিই ছিলাম বড়। আট-ক্লাস পর্যন্ত পড়েছিলাম। দিনমজুর পরিবারের মেয়ে। বহু কষ্ট করে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছিল পাশের বহুতালি গ্রামে। সংসারে এসেছিল ছেলে সুরাজ, মেয়ে হাসিবা। তার পরেও দু’ভরি সোনার হার আর কানের দুল ছিল ওদের দাবি। সে দাবি মেটাবার সাধ্য ছিল না বাবা মায়ের।

তার পরেই শুরু হল অত্যাচার। মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়তাম আমি। তার পরে এক দিন স্বামী, শাশুড়ি নিদান দিল, ‘ভূতে ধরেছে’ আমায়। স্বামী জানিয়ে দিল, আমাকে নিয়ে সে আর ঘর করতে পারবে না। গলা ধাক্কা খেয়ে এক কাপড়ে দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভোরবেলায় বেরিয়ে এসেছিলাম বাড়ি থেকে। কতবার ভেবেছি রাগ পড়লে স্বামী এসে আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আচমকাই এক দিন সে এল। কিন্তু ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, তালাক দেওয়ার জন্য।
ছেলে মেয়ের সামনেই বলে দিল ‘তালাক, তালাক, তালাক। সব আলো নিভে গিয়েছিল সে দিন। এখন আমার বয়স ৩৮। ছেলে-মেয়েদের দায় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে ফের বিয়ে করে স্বামী। সে দিন সকলের কাছে ছুটে গিয়েছি, বিচার চেয়েছি। একটা কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আইনের কথা শুনিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছিল অনেকেই।
সে দিন বিচার পাইনি আমি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মন বলছে, আমার মতো কপাল পুড়বে না কারও!

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 456 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ