ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তিদের খুঁজে দল ছাড়া করার উদ্যোগ

Print

অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সংঘাত, বিভিন্ন অপরাধসহ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এমন ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কলহ মেটানোর ‍পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তিদের খুঁজে দল ছাড়া করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী এক নেতা বলেন, অন্যায়ের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্ত্রিত্ব হারানো, সংসদ সদস্য জেলে যাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। আওয়ামী লীগ অন্যায়কারীদের ছাড় দেয় নি, দেবে না। আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বা হচ্ছেন। অপরাধে জড়িয়ে দলকে বিব্রত করছেন অনেকে।
সর্বশেষ শুক্রবারও (০৩ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের গুলিতে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল নিহত হয়েছেন।
সম্প্রতি চাঁদপুরে চাঁদপুর জেলার হাইমচরের উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটওয়ারী স্কুল শিক্ষার্থীদের গড়া ‘মানবসেতু’তে হেঁটে ব্যাপক সমালোচিত।
শুক্রবার মুন্সিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‍স্কুল শিক্ষার্থীদের পিঠে চড়া নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করেন।
তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, সে আওয়ামী লীগের যত বড় নেতাই হোক। ’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় ‍আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে অনুপ্রবেশকারী ও আগাছা মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে, দলের সুনামের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে। অস্বস্তিকর ঘটনায় জড়ালে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে দলটির একটি সূত্র জানায়।
দলীয় সূত্র জানায়, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বৈঠকের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, কলহ নিরসন, সংগঠনের গতি বাড়াতে আরও মনোযোগী হবে দলটি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের কেউ খারাপ কাজ করলে বা আইন অমান্য করলে রক্ষা করার চেষ্টা করে নি আওয়ামী লীগ, করা হবেও না। আগামীতে আরও বেশি কঠোর হবো।’
তিনি বলেন, ‘যত বড় বা যত ছোট নেতা হোক দেশের আইন বিরোধী কাজ করলে আইনি ব্যবস্থা, সংগঠন বিরোধী কাজ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফারুক খান বলেন, ‘এই মুহুর্তে আমাদের একজন সংসদ সদস্য জেলে, একজন জামিনে আছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে সংসদ সদস্যরা জেলে গেছে? একমাত্র আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এটা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে সরাতে হয়েছে তার ভুল কথা বলার জন্য। অতীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম ঘটনা ঘটেছে? লতিফ সিদ্দিকীকে কেবিনেট, প্রেসিডিয়াম ও দলের প্রাথমিক সদস্য থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বড় দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে? এরকম দৃষ্টান্ত সবাইকে সর্তক করবে, অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।’
সংঘাত ও অপরাধগুলোকে সামাজিক ও দলীয় দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সামাজিক বিরোধের কারণে কিছু ঘটনা ঘটছে। জমি-জমা, সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘাত। সামাজিক বিরোধের ক্ষেত্রে আগাম কিছু করার নেই।’
সাংগঠনিক সংঘাতের বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘সাংগঠনিক বিরোধগুলো নিরসনের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন বিভাগ, জেলা পর্যায়ে কর্মীসভা করে জানার চেষ্টার করছি কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে বা কোথায় দ্বন্দ্ব আছে। সেগুলো আমরা নিরসন করছি।’
আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দলে যারা বিশৃঙ্খলায় জড়াবে, যারা অপরাধে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
দলে ত্রুটিপূর্ণদের খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কর্মীসভা করছি, জেলা পর্যায়ে বর্ধিত সভা করবো, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবো। এই কর্মসূচি চলাকালীন ত্রুটিপূর্ণ কেউ থাকলে তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 134 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ