থ্রিজি এখনও সন্তোষজনক নয়, ফোরজির আভাস

Print

মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর দেওয়া তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক বা থ্রিজি সেবাই এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে যেতে পারেনি। সারাদেশের কথা বাদ দিলেও খোদ রাজধানীরই সব জায়গায় থ্রিজি সেবা পাওয়া যায় না। যদিও মোবাইলফোন অপারেটরগুলো সারাদেশে থ্রিজি সেবা চালুর কথা বলছে, তবু ঢাকার বাইরে বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় এই সেবা একেবারে পাওয়া যায় না। এসবের মধ্যে বাতাসে গুঞ্জন, দেশে ফোরজির আসছে।
সরকার বলছে ২০১৭ সালে চালু হবে ফোরজি সেবা। মোবাইলফোন অপারেটরগুলো বলছে, তারা প্রস্তুত। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ফোরজি ডিভাইস। এখন কেবল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম (তরঙ্গ) নিলাম আয়োজনের অপেক্ষা। ফোরজির সেবা চালু করতে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শুরুর দিকেই বাতাসে ভাসতে থাকে দেশে আসছে ফোরজি। কিন্তু ওই বছর তরঙ্গের নিলাম আয়োজনও করা সম্ভব হয়নি। গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬ –এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৭ সালে সারাদেশে ফোরজি চালু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত বছরের ৫ ফ্রেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০১৬ সালের মধ্যে ফোরজির নিলাম হবে। ২০১৭ সালে দেশে ফোরজি চালুর পদক্ষেপ হিসেবে স্পেক্ট্রামের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এই সেবা চালু করা হবে। এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গত ডিসেম্বরের একেবারে শেষ দিকে নতুন বছরে ফোরজি বা এলটিই (লং টার্ম ইভোলিউশন) সেবা চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। ফোরজি চালুর জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সব ধরনের কাজ গুছিয়ে এনেছে।
জানতে চাইলে মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, ‘আমরা ফোরজি সেবা দিতে প্রস্তুত। সর্বশেষ আমাদের যে নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন হলো সেটা আসলে ফোরজি নেটওয়ার্কেরই আপগ্রেডেশন। সরকার ঘোষণা দেওয়া মাত্রই কিছু কারিগরি নিয়ম অনুসরণ করে আমরা গ্রাহকদের ফোরজি সেবা দিতে পারব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘থ্রিজি এবং ফোরজি দু’টি ভিন্ন প্রযুক্তি। ফোরজির টার্গেট পয়েন্ট হবে ভিন্ন। থ্রিজিরও ভিন্ন। ফলে কোনোটা কোনোটার সঙ্গে সেভাবে সমস্যা করবে না।’ তিনি মনে করেন, ‘ফোরজি সেবা চালুর অপেক্ষায় প্রযুক্তিপ্রেমীরা মুখিয়ে রয়েছেন।’
এদিকে মোবাইলফোন অপারেটর রবিও প্রস্তুত ফোরজি সেবা দিতে। অপারেটরটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর বলেন, ‘ফোরজি বা এলটিই হলো মোবাইল মোবাইল নেটওয়ার্কের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপ। এই সেবা গ্রাহকদের থ্রিজির চেয়ে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম হবে।’ তিনি মনে করেন, ‘ফোরজির জন্য ডিভাইস ইকোসিস্টেম তৈরি আছে কিন্তু কিছু ইস্যু রয়েছে যেগুলোর এখনও কোনও সমাধান হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে স্পেকক্ট্রাম নিউট্রালিটি। ফোরজি বা এলটিই চালু হবে ব্যয়বহুল, ফোরজি ডিভাইস ক্রয়ে সবার সক্ষমতা নাও থাকতে পারে। অন্যদিকে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরির স্বাধীনতা না থাকলে এ খাতে ততটা এগোনো নাও যেতে পারে। তিনি মনে করেন, ফোরজি বা এলটিইর চাহিদার নির্ভর করবে দেশের ‘ইনটেনসিভ ব্যান্ডউইথ’ সার্ভিসের ওপর।
ফোরজি বা এলটিই সেবা যে মাধ্যমে প্রযুক্তিপ্রেমীরা ব্যবহার করবেন সেসব ডিভাইস তথা মোবাইলফোন, মডেম, ট্যাব, ইত্যাদির বাজার এখন ‘রেডি’ কিনা তা জানতে চাইলে বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘ডিভাইস বাজার মোটামুটি রেডি। বাজারে এখন যেসব স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে সেসবের অনেকগুলোই ফোরজি এনাবল তথা সেসবে ফোরজি ব্যবহার করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন যত স্মার্টফোন প্রবেশ করছে তার মধ্যে ১০-২০ শতাংশ ফোনে ফোরজি ব্যবহারের প্রযুক্তি রয়েছে।’ তবে তিনি জানান, ‘‘এখনও যেসব স্মার্টফোন আমদানি করা হয়, তাতে আমদানির সময় উল্লেখ করতে হয় না ফোরজি পণ্য। দেশে ফোরজির অনুমোদন হয়ে গেলে হয়তো তখন উল্লেখ করতে হতে পারে। ফলে সে সময় পরিষ্কার ধারণা দেওয়া যাবে দেশে ঠিক কত ‘পিস’ ফোরজি ডিভাইস প্রবেশ করছে।’’
বিআইএমপিএ সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশের পৌনে তিন কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 162 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ