দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

Print

কুড়ুলগাছি প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গার ইটভাটাগুলোয় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, ইট তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। ভাটা মালিকরা পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে কাঠ পুড়িয়েই চলেছেন। এতে বনাঞ্চল উজাড়ের পাশাপাশি ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। ফলে হ্রাস পাচ্ছে এলাকার কৃষিজমি।
অভিযোগ রয়েছে, যত্রতত্র ইটভাটা গড়ে ওঠলেও প্রশাসনের পক্ষে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তবে স্থানীয় জেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এসব ভাটা উচ্ছেদে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবমতে জেলার চার উপজেলায় ৮৭টি ইটভাটার কথা বলা হলেও বাস্তবে রয়েছে ১০০টিরও বেশি। এর মধ্যে মাত্র ২২টি ইটভাটার বৈধ অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলো বিনা অনুমতিতে কৃষিজমি কিংবা আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু ইটভাটা রয়েছে বাজার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এলাকায়। যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় ভাটা স্থাপন ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। এতে ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় এলাকায় মানুষ চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া ইট পোড়াতে ফিক্সড কিংবা জিগজাগ চিমনি নির্মাণের কথা থাকলেও বেশির ভাগ ভাটায় রয়েছে ড্রাম চিমনি। জানা গেছে, ২০০৯ সালের সংশোধিত ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৮ নং ধারায় উল্লেখ আছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, প্রভৃতি জায়গায় ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ইটভাটা স্থাপনের জন্য কোনো প্রকার ছাড়পত্র বা লাইসেন্স দিতে পারবে না। এছাড়া আইনে কাঁচা ইট তৈরিতে জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জেলার ইটভাটা মালিকরা আইনটি উপেক্ষা করে ইটভাটা স্থাপনসহ ভাটায় কাঠ পুড়িয়ে চলছেন।
সরেজমিনে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কার্পাসডাঙ্গা কলেজ এলাকার রাইসা ব্রিকস ও মের্সাস মান্নান এন্ড বাদ্রাসে দেখা গেছে, আইন উপেক্ষা করে ইট পোড়াতে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। ইট পোড়ানোর জন্য ভাটার চার পাশে রাখা হয়েছে কয়েক শত মণ কাঠ। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে ভাটার শ্রমিকরা মুখ খুলতে রাজি হননি। তারা জানান, বিষয়টি মালিক বলতে পারবে। তবে রাইসা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী আ:মালেকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কাঠ পোড়ানো বিষয়টি তার এক কর্মচারী (নাম প্রকাশ করেনি)স্বীকার করে বলেন, ফায়ারিংয়ের সময় ২০০ থেকে ৪০০ মণ কাঠ এমনিতেই লাগে।
অভিযোগ রয়েছে, মৌসুমের শুরুতে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে প্রশাসনকে ঘুম পাড়িয়ে ভাটাগুলোয় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান বলেন,আইন লঙ্ঘন করে ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করা হলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। এলাকার সচেতন মহলের দাবী দ্রুত এইসমস্ত ভাটাগুলোর বিরুেদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হক।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 72 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ