দিন বদলের হাওয়া লেগেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Print

ছায়া-সুনিবিড় প্রকৃতির কোলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের নিকট নব্য পরিচয় প্রগতি, সভ্যতা ও জ্ঞান চর্চার অপরুপ মিলনমেলা। পাহাড়ের পাদদেশে প্রতিটি অনুষদ বা ইনস্টিটিউটগুলো সবুজের মাঝে সাদা রঙের সম্মোহনী আভায় ভরপুর। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপিঠ।

১৯৬৬ সালের ‘শিশু’ চবি আজকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পিছে আছে অনেকেরই অবদান। একবিংশ শতাব্দিকালে চবি তার শৈশব কাটিয়ে যৌবনে পা রেখেছে। সেই সাথে মেখেছে আধুনিকায়নের নতুন রঙ। যার হাত ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উত্থান তিনি আর কেউ নন, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। এই দিকপালের হাত ধরেই পুরনো চবি তার খোলস ছেড়ে নতুনত্বের আবরণ ছোঁয়েছে।

ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বদলের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। প্রাশাসনিক পরিবর্তন, সেশনজট নিরসন সহ অবকাঠামোত উন্নয়নের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সীমানা প্রাচীর: দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ‘১৭৫৪ একর’ শব্দটি শুধু মানুষের মুখে আর খাতা কলমে ছিল। দৃশ্যত ছিল না। “সীমানা প্রাচীর ” এ আবার কি? এটা যাদের ঠাট্টার বিষয় ছিল আজ তাদেরই চোখের সীমানায় নির্মিত হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। প্রাক্তন ভিসি থেকে শুরু করে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে আজ সীমানা প্রাচীরের এক-তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন।

সমাবর্তন: একমাত্র বাসযোগ্য এই গ্রহে সর্বোচ্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল চবিতে। প্রায় ৭ হাজার ১ শ ৯৪ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল চবি। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারী এসব প্রাক্তনদের মাঝে চবি জুড়ে তাদের হাজারো স্মৃতির ঝুলি তুলে দিয়েছে ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন।

সুবর্ণজয়ন্তি: সেদিনের শিশু চবি আজ মধ্যবয়সি। গতবছরের ১৮ নভেম্বর পুরো চট্টগ্রাম নগরী যেন পরিণত হয়েছিল একটি উৎসব কেন্দ্রে। দুদিন ব্যাপি পালন করা হয় সুবর্ণজয়ন্তি। যা চবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উৎসব। রুনা লায়লা, ওয়ারফেজ, লালন এবং আর্টসেল তাদের সুরের মুর্চ্ছনায় মাতায় চবি ক্যাম্পাস। আর এত বড় অনুষ্ঠানটি ভালভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই সমাজ বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে।


সেশনজট: ছাত্রজীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপের নাম হচ্ছে সেশনজট। একসময় এই সেশনজট ছিল চবির ক্যান্সার। আর এই ক্যান্সার এখন আরোগ্য লাভের পথে। শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাচ্ছে এই অভিশাপ থেকে। বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২৮ টি বিভাগ সেশনজটে জর্জরিত ছিল। বর্তমানে তা কমে ৮ টিতে নেমে আসে। আশা করা হচ্ছে আগামী জুন মাসের মধ্যেই সেশনজট মুক্ত একটি ক্যাম্পাস পেতে যাচ্ছে চবির শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক সংকট নিরসন: বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে এক সময় চরম শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হত। সিলেবাস সময় মত শেষ করা যেত না।কিন্তু বর্তমানে অনেকগুলা শূণ্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় সংকট  হ্রাস পেয়েছে। ফলে নিদিষ্ট সময় পরিক্ষা নেয়া সম্ভব হয়েছে, যা সেশন জট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  পালন করছে।

সচল ক্যাম্পাস: রাজনীতির করাল গ্রাসে আক্রান্ত হয়ে যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ থাকছে সেখানে এই প্রশাসনের আমলে একদিনও বন্ধ থাকেনি চবি। এই প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করেছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। যা বর্তমান সময়ে একটি বিষ্ময়!

বঙ্গবন্ধু চত্বর: বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার অর্ধশত বছর পার হয়ে গেছে। প্রগতিশীল অনেক শিক্ষকই ভিসি হয়েছেন কই কেউ তো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন চত্বর বা ভাস্কর্য তৈরী করল না। বর্তমান ভিসি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমেই বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণ করেছেন। প্রশাসনিক ভবনের সামনেই নির্মিত হয়েছে চত্বরটি। শোক দিবস সহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে পুস্পস্থবক অর্পণ করা হয়।

শিশু পার্ক: শিশুদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর জন্য ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ৪টি শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব পার্কে কোমলমতি শিশুরা যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে এবং এ আদর্শে অনুপ্রাণীত হতে পারে সেজন্য শেখ রাসেল, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল এবং সুফিয়া কামালের নামে পার্কগুলোর নাম করণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এবছরের ১০ই আগস্ট শহীদ শেখ রাসেল পার্কটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 443 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ