দেশীয় জঙ্গিরাই বিভিন্ন হত্যাকান্ড ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Print

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন স্থানে ও মসজিদে যেসব হত্যাকান্ড ও হামলা সংঘটিত হয়েছে, তার সবগুলো দেশী জঙ্গিরাই ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রবিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, “অনেকেই দাবি করেছে এসব ঘটনা আইএস বা আল কায়েদা ঘটিয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে আইএস বা আল কায়েদার কোনো সংশ্লিষ্ঠতা নেই। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে থাকে। মাঝে মধ্যে আত্মপ্রকাশ করে দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুরে দাঁড়াবার যে ডাক দিয়েছেন তাতে দেশের জনগণ উপলদ্ধি করতে পেরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে এগিয়ে এসেছে। আমরা জনগণের সহয়তায় তা করতে পেরেছি। তবে এতে আমরা কখনোই আত্মতৃপ্তিতে ভুগছি না। ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো ষড়যন্ত্র করছে এবং সকল যড়যন্ত্র ও বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষণজন্মা মানুষ। তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে উন্নতির পথে নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছে যেতো। বঙ্গবন্ধু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এদেশে কায়েমী স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাঙালি বঙ্গবন্ধু হত্যার শোককে শক্তিতে পরিণত করেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করছেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জাবিতে যারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা অত্যন্ত মেধাবী। ইয়াবা বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে তোমরা তোমাদের শক্তিকে নষ্ট করবে না। মানুষ হওয়ার উপযুক্ত জায়গা হলো বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ হও।’

তিনি আরোও বলেন, ‘হঠাৎ করে ছাত্রলীগ জন্ম নেয়নি। ছাত্রলীগের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সামনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অসম্ভব এক দায়িত্ব আসছে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও আমরা যারা বিভিন্ন পেশায় রয়েছি তাদের সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। ২০০১ সালে ফিরে যাওয়া অন্যায় হবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শোক দিবসের এই আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাকসুর সাবেক ভিপি এ কে এম এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস. এম জাকির হোসাইন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটরিয়ামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল।

জাবি ছাত্রলীগের এই আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মো. আবুল হোসেন, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শেখ মো. মনজুরুল হক, রেজিস্ট্রার আবু বরক সিদ্দিক সহ বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও জাবি শাখার সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 172 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি