দেড় বছর পর রুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কেন

Print

পরবর্তী বর্ষে ওঠার জন্য ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে প্রায় দেড় বছর পর আন্দোলনে নেমেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তিনটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। কী কারণে হঠাৎ এই আন্দোলন তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা সমালোচনা।
এর আগে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করেন রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুইদিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সব ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তখন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আসেন। পরবর্তীতে ঠিকই চলছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর আবারও একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, ঢাকায় ছাত্রলীগের পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস না দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতারা ক্লাস ক্যাপ্টেনদের ডেকে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ক্লাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওই দুইদিনও ক্লাস বন্ধ ছিল। পরদিন বৃহস্পতিবার রুয়েটের ঘোষিত ছুটি ও শুক্রবার সরকারি ছুটির পর এবার শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দেড় বছরআগে থেমে যাওয়া ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে তিনটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলো। এতে ভেস্তে গেছে ২০১৬-১৭ সেশনের প্রথম বর্ষের ক্লাস।
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক রুয়েটের এক শিক্ষক বলেন, ‘২০১৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটা মহানগর আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপেই বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু এতদিন পরে সেই একই দাবিতে নতুন করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামার বিষয়টি ভাবনার। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়েছে বলে আমি মনে করছি।’ তিনি চলমান একটি নিয়োগ নিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে ইঙ্গিতও দেন।
রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, রুয়েট শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হবার ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায় তাকে পুনরায় সেই বর্ষেই থাকতে হবে। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারতো। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম পরিবর্তন হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনও পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘ফেল (অকৃতকার্য) করে কি কখনো উপরের ক্লাসে ওঠা যায়? আমরা তাও তো একটি-দুটি বিষয়ে ফেল করলেও যেন পরের বর্ষে উঠতে পারে সে ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা তো সব বিষয়ে ফেল করেও পরবর্তী বর্ষে উঠার দাবি করছে।’
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে আসার জন্য নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। এরপরও না আসলে পরে সেটা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল দেখবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 125 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ